চীফ ইন্সট্রাক্টর
০৮ জুন, ২০২৫ ০৭:২৯ পূর্বাহ্ণ
প্রতিটি ঈদে আজ একটি আহ্বান নেই… সিলেটের তাবলীগ জামাতের আমীর আমার আপন চাচা, হযরত সুয়েজ আফজাল খান (রহ.) …
🌙 প্রতিটি ঈদে আজ একটি আহ্বান নেই…
সিলেটের তাবলীগ জামাতের আমীর আমার আপন চাচা, হযরত সুয়েজ আফজাল খান (রহ.) … 💔
আজ ঈদ, কিন্তু হৃদয় নিঃস্ব...
ঈদ মানেই ছিল আমার জন্য একটি বিশেষ ফোন— কেমন আছো?"একটি কোমল কণ্ঠের আহ্বান, একটি স্নেহময় প্রশ্ন:
“ঈদ কেমন কাটছে, টাকা আছে কিনা, কিছু লাগবে কিনা" খাবার তৈরি হয়েছে তো?”
আজ সেই কণ্ঠ নেই, সেই ফোন আসে না…
ঈদের দুপুরে একসাথে না খেলে আমাদের ঈদ হতো না।
আজ সেই ফোন বাজে না। সেই বরকতি দস্তরখানায় নেই আমার আপন চাচা—হযরত সুয়েজ আফজাল খান (রহ.)।
---
🕋 তিনি ছিলেন দ্বীনের এক নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক
সিলেটের তাবলীগ জামাতের সম্মানিত আমীর হিসেবে তিনি হাজারো লক্ষ তাবলীগী ভাই,সাথী, উস্তাদ, আলেম এবং সাধারণ মানুষের রুহানী অভিভাবক ছিলেন।
তিনি ছিলেন এমন একজন দাঈ, যিনি মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকতেন নিজের জীবন, চরিত্র, দয়া ও দাওয়াতের মাধ্যমে।
তাঁর জীবন ছিল নববী আদর্শের বাস্তব অনুবাদ।
---
🌍 তিনি ছিলেন আল্লাহর পথে ভ্রমণরত এক জীবন্ত মুজাহিদ
আফ্রিকার গাম্বিয়াতে তাবলীগি সফরের সময়ই ২০২০ সালে ইন্তেকাল করেন।
তিনি যেন দাওয়াতের ময়দানে শহীদের মতো ইন্তেকাল করেছেন—বিদেশের মাটিতে, দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত অবস্থায়।
তিনি দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে আখিরাতের পথে যাত্রা করেছেন, যেমনটি একজন আসল দাঈর হওয়া উচিত।
---
💔 তিনি সহ্য করেছেন জুলুম-নির্যাতন, অপমান ও ভুল বোঝাবুঝি—তবু সবর ও ইখলাস ত্যাগ করেননি
দ্বীনের খেদমতের পথে তিনি বহু অপমান, বিরুদ্ধাচরণ, শত্রুতা ও ভুল বোঝাবুঝির মুখোমুখি হয়েছেন।
তাঁর বিরুদ্ধে ঈর্ষান্বিত ও সংকীর্ণ লোকেরা কটুক্তি করেছে, পেছনে গালি দিয়েছে, হেয় করেছে—তবুও তিনি কখনো কাউকে প্রত্যুত্তর দেননি।
তিনি ছিলেন এক জীবন্ত আয়াত—
> ❝وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ۚ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ...❞
"ভাল কাজ আর মন্দ কাজ এক নয়। মন্দকে প্রতিহত করো উত্তমভাবে..."
— সূরা ফুসসিলাত: ৩৪
তিনি সবর করেছেন, ধৈর্য ধরেছেন, আর আসমানের দিকে তাকিয়ে শুধু বলতেন:
"আল্লাহ দেখছেন, আল্লাহ বিচার করবেন।"
---
🫂 তিনি ছিলেন সবার আপন, কিন্তু আল্লাহরই হয়ে গিয়েছিলেন
তিনি কাউকে বলেননি "তুমি আমার আপন না"—বরং সবাই তাঁর আপন ছিলেন।
ছোট-বড়, দরিদ্র-ধনী, আলেম-জাহেল—সবাই তাঁকে নিজের আপন মনে করত।
তাঁর ভাষা ছিল নরম, আচরণ ছিল কোমল, হৃদয় ছিল দরদে ভরা।
---
🧡 আজ তাঁর অনুপস্থিতি টের পাচ্ছে হাজারো লক্ষ হৃদয়...
তাবলীগের হাজারো সাথী যারা একসময় তাঁর দিকনির্দেশনায় চলেছেন,
আজ তাঁরা নীরবে কাঁদছেন।
তাঁর স্নেহ, ভালোবাসা, অভিভাবকত্ব আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
আজ সবকিছু আছে— মারকাজ – ঈদের জামাত, খাবার, পরিবার, সমাজ—
তবু কিছু নেই… তিনি নেই।
---
🌿 রুহানিয়াতের বাতিঘর ছিলেন তিনি
তিনি শুধু তাবলীগ জামাতের মেহনতকারী ছিলেন না—
তিনি ছিলেন এক অদৃশ্য, অথচ গভীর আত্মিক সম্পর্ক গড়া মানুষের নাম।
যাঁর ফুঁ, দোয়া, ও যিকিরে অন্তর প্রশান্তি পেত।
তাঁর মুখে ছিল তাওহীদের দাওয়াত, জীবনে ছিল সুন্নতের ছায়া।
---
🌸 উত্তরসূরিরা তাঁরই প্রতিচ্ছবি
আলহামদুলিল্লাহ, তাঁর রেখে যাওয়া দুই সন্তান আজও তাঁর ছায়ার মতো দ্বীনের পথে অটল।
তাঁদের ব্যবহারে, চিন্তায়—তাঁর গুণের দীপ্ত প্রতিফলন।
তাঁদের মাঝে আমি যেন আমার চাচার আত্মার সুবাস পাই।
---
🤲 এক করজোড় প্রার্থনা…
হে আল্লাহ!
যিনি আমাদের এত ভালোবেসে গিয়েছেন,
তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগানে রূপান্তর করুন,
তাঁর খেদমতকে কবুল করুন,
তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চস্থানে স্থান দিন।
اللهم اغفر له وارحمه وعافه واعف عنه،
وأكرم نزله، ووسع مدخله، واغسله بالماء والثلج والبرد…
---
✍️ – একজন চিরঋণী ভাতিজা…
যার ঈদ আজ স্মৃতিতে মোড়া, কান্নায় ভেজা, দোয়ায় পূর্ণ।
Hafiz Maulana Mizanur Rahman Khan
---
১৪
২১ মন্তব্য