সহকারী শিক্ষক
১৪ জুন, ২০২৫ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
বিষয় : মাধ্যমিকে গণিত ভীতি: একটি বিশ্লেষণ
মাধ্যমিকে গণিত ভীতি: একটি বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতভীতি একটি সাধারণ ও উদ্বেগজনক সমস্যা। অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই গণিত একটি ‘ভীতিকর’ বিষয়, যার কারণে তারা গণিতে ভালো ফল করতে ব্যর্থ হয় এবং আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। এই ভীতি শুধু পড়াশোনার উপরই নয়, তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনার ওপরও প্রভাব ফেলে।
গণিতভীতির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বিষয়টির জটিলতা, কঠিন সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতা, সঠিক গাইডলাইন ও অনুশীলনের অভাব এবং শিক্ষকের কঠোর বা দুর্বোধ্য উপস্থাপনা। অনেক সময় শিক্ষকেরা গণিতের ধারণাগুলি সহজভাবে ব্যাখ্যা না করায় শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পারে না এবং ধীরে ধীরে ভয় আরও বাড়িয়ে তোলে।
পরিবার এবং সমাজের চাপে অনেক সময় শিশুরা নিজের ভুলকে অপরাধ মনে করে। এতে করে তাদের মধ্যে গণিতভীতি আরও গভীর হয়। গণিতকে ‘বুদ্ধিমানদের বিষয়’ হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা থেকেও অনেক শিক্ষার্থী মনে করে যে তারা কখনোই গণিতে ভালো হতে পারবে না। এই ধরনের নেতিবাচক ধারণা আত্মবিশ্বাস ধ্বংস করে এবং শেখার আগ্রহ কমিয়ে দেয়।
তবে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব। গণিতভীতি কাটাতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন শিক্ষার পদ্ধতিগত পরিবর্তন। গণিতকে মজার, জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং চিত্রভিত্তিক করে উপস্থাপন করলে শিক্ষার্থীরা আগ্রহ পাবে। শিক্ষকদের উচিত ধৈর্য সহকারে এবং উদাহরণ দিয়ে প্রতিটি ধারণা বোঝানো। এছাড়া, ছোট ছোট গ্রুপে গণিত শেখানো, শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা এবং নিয়মিত অনুশীলনের পরিবেশ তৈরি করাও সহায়ক।
অভিভাবকদেরও উচিত সন্তানকে নিরুৎসাহিত না করে পাশে দাঁড়ানো, ভুল করলে বকাবকি না করে উৎসাহ দেওয়া। গণিতভীতি দূর করতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। গণিতভীতি কাটাতে পারলে শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলই করবে না, বরং তারা যুক্তিবাদী চিন্তাভাবনা, সমস্যার সমাধান ও আত্মবিশ্বাসের দিক থেকেও আরও দক্ষ হয়ে উঠবে।
১৪
২৪ মন্তব্য