সহকারী শিক্ষক
১৭ জুন, ২০২৫ ০৭:৪৩ অপরাহ্ণ
বিষয় : ইন্টারনেটে আসক্তি: একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ
ইন্টারনেটে আসক্তি: একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ
বর্তমান যুগে ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তথ্য প্রাপ্তি থেকে শুরু করে বিনোদন, যোগাযোগ, এমনকি কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত এর প্রভাব অপরিসীম। তবে, এই সুবিধার পাশাপাশি ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার অনেক সময় আসক্তিতে পরিণত হতে পারে, যা ব্যক্তিজীবন, সামাজিক সম্পর্ক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ইন্টারনেট আসক্তি বলতে ইন্টারনেটের প্রতি এক ধরণের মানসিক নির্ভরতাকে বোঝায়, যেখানে ব্যক্তি ইন্টারনেট ব্যবহার না করে থাকতে পারে না এবং এর অভাবে অস্থিরতা, বিরক্তি বা বিষণ্ণতায় ভোগে। এর ফলে দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে, যেমন পড়াশোনায় অমনোযোগ, কর্মক্ষেত্রে কর্মদক্ষতা হ্রাস, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব, এমনকি খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমের অনিয়ম।
এই আসক্তির পেছনে বেশ কিছু কারণ বিদ্যমান। একাকীত্ব, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, সামাজিক ভীতি বা বাস্তব জীবনের সমস্যা থেকে পলায়ন প্রবণতা অনেক সময় মানুষকে ইন্টারনেটের জগতে ডুবিয়ে দেয়। গেমিং, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন জুয়া, মতো বিষয়গুলো বিশেষত আসক্তি সৃষ্টির জন্য দায়ী। ভার্চুয়াল জগতে তাৎক্ষণিক তৃপ্তি এবং স্বীকৃতি প্রাপ্তির সুযোগ অনেককে বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে তোলে।
ইন্টারনেট আসক্তির শারীরিক ও মানসিক উভয় প্রকারের কুফল রয়েছে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার কারণে চোখের সমস্যা, পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত, এবং স্থূলতার মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। মানসিক দিক থেকে, এটি উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, এবং মেজাজ পরিবর্তনের কারণ হতে পারে। পারিবারিক সম্পর্ক এবং বন্ধুত্বের উপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, কারণ ব্যক্তি বাস্তব জগতের চেয়ে ভার্চুয়াল জগতে বেশি সময় ব্যয় করে।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রথমে আসক্তিকে চিহ্নিত করা জরুরি। এরপর কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন – ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা, বিনোদন বা যোগাযোগের জন্য বিকল্প উপায় খুঁজে বের করা (যেমন বই পড়া, খেলাধুলা করা, বন্ধুদের সাথে সরাসরি দেখা করা), পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো, এবং প্রয়োজনে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া। কাউন্সেলিং এবং থেরাপি ইন্টারনেট আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ইন্টারনেটের আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। প্রযুক্তির ব্যবহার যেন আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারনেটের সুবিধাগুলো গ্রহণ করার পাশাপাশি এর সম্ভাব্য কুফল সম্পর্কে সতর্ক থাকা আমাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য।
৮
৮ মন্তব্য