সহকারী শিক্ষক
২৪ জুন, ২০২৫ ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
উন্নত দেশ বনাম বাংলাদেশে প্রিম্যাচিউর বাচ্চার মৃত্যু হার: তুলনামূলক বিশ্লেষণ
প্রিম্যাচিউর বেবী বলতে কী বোঝায়?
প্রিম্যাচিউর বেবী হলো এমন শিশু যারা ৩৭ সপ্তাহের পূর্বে জন্ম নেয়। এদের মধ্যে অনেকেই জন্মের পরে শারীরিক জটিলতায় ভোগে এবং মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে।
উন্নত দেশসমূহে প্রিম্যাচিউর বেবীর মৃত্যু হার
উন্নত দেশে অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে প্রিম্যাচিউর বাচ্চার মৃত্যু হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। নিচে কিছু দেশের তথ্য দেওয়া হলো:
|
দেশ
|
প্রতি ১০০০ প্রিম্যাচিউর বাচ্চার মধ্যে মৃত্যু হার
|
|
যুক্তরাজ্য (UK) |
৩০-৫০ |
|
যুক্তরাষ্ট্র (USA) |
৪০-৬০ |
|
জাপান |
২০-৩০ |
|
জার্মানি |
২৫-৪৫ |
|
অস্ট্রেলিয়া |
৩০-৪৫ |
বিশেষ তথ্য:
জাপান এবং নর্ডিক দেশসমূহে (নরওয়ে, সুইডেন) উন্নত প্রযুক্তি ও নবজাতক বিশেষায়িত সেবার কারণে প্রিম্যাচিউর বাচ্চার বেঁচে থাকার হার প্রায় ৯০%-এর বেশি।
বাংলাদেশের প্রিম্যাচিউর বাচ্চার মৃত্যু হার
বাংলাদেশে বর্তমানে:
✅ প্রতি ১০০০ প্রিম্যাচিউর বাচ্চার মধ্যে প্রায় ১৫০-২০০ জনের মৃত্যু হয়।
✅ বাংলাদেশে নবজাতক মৃত্যুর প্রায় ৩৫-৪০%-এর জন্য প্রিম্যাচিউর জন্ম দায়ী।
✅ ২০২৩ সালের UNICEF ও WHO রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ১০০০ জীবিত জন্মে ২৪ জন নবজাতক মারা যায়, যার বড় একটি অংশ প্রিম্যাচিউর বাচ্চা।
কারণসমূহ:
বাংলাদেশের প্রিম্যাচিউর বাচ্চার মৃত্যু হার কমানোর সুপারিশসমূহ
১. স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামো উন্নয়ন
✅ প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে উন্নত নবজাতক ইউনিট (NICU) স্থাপন করা
✅ গ্রামাঞ্চলে দ্রুত রেফার সিস্টেম চালু করা
✅ সরকারিভাবে NICU-এর সংখ্যা বাড়ানো এবং বেসরকারি খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা
২. গর্ভকালীন সেবার মানোন্নয়ন
✅ নিয়মিত ANC (Antenatal Care) সেবা নিশ্চিত করা
✅ মা'দের পুষ্টি নিশ্চিত করা
✅ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী মা'দের বিশেষ নজরদারি
✅ বিনামূল্যে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট দেওয়া
৩. সচেতনতা বৃদ্ধি
✅ টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা ক্যাম্পেইন
✅ গ্রাম পর্যায়ে মাতৃসভার মাধ্যমে গর্ভকালীন যত্ন বিষয়ে প্রচারণা
✅ পুরুষ সদস্যদের সচেতন করা যাতে তারা পরিবারের গর্ভবতী মহিলার যত্ন নেন
৪. দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি
✅ নার্স, প্যারামেডিক ও ডাক্তারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ
✅ নবজাতক বিশেষজ্ঞ সংখ্যা বাড়ানো
✅ মেডিকেল কলেজগুলোতে নবজাতক সেবার উপর আলাদা কোর্স বাধ্যতামূলক করা
৫. Kangaroo Mother Care (KMC) সম্প্রসারণ
✅ কম ওজনের বাচ্চাদের জন্য মা'র বুকে রাখার এই প্রথা গ্রামের প্রতিটি হাসপাতালে চালু করা
✅ কম খরচে বাচ্চাদের উষ্ণতা ও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ানোর সহজ উপায়
৬. গবেষণা ও ডাটা সংগ্রহ
✅ প্রতিটি প্রিম্যাচিউর জন্মের কারণ নির্ণয় ও ডাটাবেইস তৈরি
✅ গবেষণার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার সুনির্দিষ্ট সমাধান খুঁজে বের করা
৭. আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন
✅ দারিদ্র্য হ্রাসের মাধ্যমে মা'র অপুষ্টি সমস্যা সমাধান
✅ মেয়েদের শিক্ষার হার বাড়ানো, কারণ শিক্ষিত মা'দের ক্ষেত্রে প্রিম্যাচিউর জন্মের হার কম
উপসংহার
উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের জন্যও প্রিম্যাচিউর বাচ্চার মৃত্যু হার কমানো সম্ভব, যদি উন্নত চিকিৎসা, সচেতনতা ও গর্ভকালীন সেবার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশের স্বাস্থ্যখাতে পরিকল্পিত বিনিয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
১
১ মন্তব্য