সহকারী শিক্ষক
২৫ জুন, ২০২৫ ০৬:৩৫ অপরাহ্ণ
বাস্তবে নিরপেক্ষ বিচার/মূল্যায়ন করা উচিত
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
আজ আমি এমন একটি বাস্তব ও জ্বলন্ত বিষয়ে কথা বলতে চাই, যা আমাদের সমাজ, বিচারবুদ্ধি ও ঈমানের গভীরে প্রশ্ন তোলে। অনেকে বলে যে নিরপেক্ষ হওয়া যায় না। শয়তানের সাগরেদ হলে সে যে নিরপেক্ষতার মুখোশ পরুক না কেন মূলত সে পক্ষপাতদুষ্ট, অন্যায়ের সাথেই দাঁড়িয়ে আছে!"
আসলে, নিরপেক্ষতার নাম করে অনেকেই আজ সত্যকে আড়াল করেন, জুলুমের বিরুদ্ধে নীরব থাকেন, বা ভালো-মন্দের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করেন। অথচ আল্লাহ তায়ালা সূরা নিসা, আয়াত ১৩৫-এ বলেছেন—
"হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকো— আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সাক্ষ্য প্রদানকারী রূপে, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে হয়..."
অর্থাৎ, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোই প্রকৃত নিরপেক্ষতা। অন্যায়ের প্রতি নীরব থাকা, শয়তানের পথকে মেনে নেওয়ার নাম নয় "নিরপেক্ষতা"।
আজ যারা জালিমের বিপক্ষে কথা বলতে ভয় পায়, অথবা "দুই পক্ষই খারাপ" বলে ঘোলাজলে মাছ শিকার করতে চায়— তারা হয় অজ্ঞ, নয়তো কৌশলী মুনাফিক। তারা হয়তো ভাবে, "আমি কারো পক্ষ নিচ্ছি না", অথচ তারা বুঝে না— সত্যকে ছেড়ে থাকা মানেই মিথ্যার পাশে দাঁড়ানো।
শয়তানও নিরপেক্ষতার কথা বলেছিল— যখন বলেছিল, “আমি তো কেবল পরামর্শ দিয়েছি, কাজ তো সে-ই করেছে।” অথচ আল্লাহ তাকে "প্রকাশ্য শত্রু" বলে ঘোষণা করেছেন।
নিরপেক্ষতা তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন তা আল্লাহর বিধানের আলোকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেয়।
জুলুম, মিথ্যা, ফিতনা, ভ্রান্ত আকিদা ও শয়তানী আদর্শের সঙ্গে নিরপেক্ষতা দেখানো মানেই সেটা লুকিয়ে সমর্থন দেওয়া।
আর যে আল্লাহর চেয়ে বেশি বুঝে ফেলে, সে হয়তো বিজ্ঞানী হতে পারে, বক্তা হতে পারে, কিন্তু মুমিন হতে পারে না।
আসুন, আমরা নিরপেক্ষতার নামে ধোঁকা দেওয়া বন্ধ করি। আমরা সত্যকে বুঝে গ্রহণ করি, মিথ্যাকে চিহ্নিত করে বর্জন করি। কারণ সত্য কখনো নিরপেক্ষ থাকে না, আর আল্লাহর পথ কখনো অস্পষ্ট হয় না।
আল্লাহ আমাদের হক ও বাতিলের মাঝে স্পষ্ট পার্থক্য বুঝার তাওফিক দিন।
আমীন
ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
১৩
১৮ মন্তব্য