আমাদের দেশে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা পরীক্ষা-নির্ভর পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে গঠিত। এই পদ্ধতিতে, পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করা হয় এবং এটিই শিক্ষার মান নির্ধারণের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে, এই পদ্ধতির কার্যকারিতা এবং প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক ও আলোচনা হয়ে থাকে। - প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে পাবলিক পরীক্ষার প্রচলন রয়েছে, যেমন- প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা।
- উচ্চ মাধ্যমিকে রয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা।
- বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন ধরণের ভর্তি পরীক্ষা এবং সেমিস্টার বা টার্ম ভিত্তিক পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।
- পরীক্ষার পদ্ধতি মূলত লিখিত এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহারিক বা মৌখিক পরীক্ষার উপর নির্ভরশীল।
- পরীক্ষা-নির্ভর শিক্ষা পদ্ধতির কারণে মুখস্তবিদ্যা এবং নোট-গাইড বইয়ের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।
- শ্রেণিকক্ষের চেয়ে কোচিং সেন্টার এবং মডেল টেস্টের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
- শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফলাফলের চাপে থাকে এবং তাদের সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ কম থাকে।
- কিছু ক্ষেত্রে, পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা যাচাই করা সম্ভব হয় না।
- শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার পদ্ধতির পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
- শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও জ্ঞান-গবেষণার আগ্রহ তৈরি করতে হবে।
- মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন, প্রকল্পভিত্তিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার উপর জোর দিতে হবে।
- শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করে শ্রেণিকক্ষে তাদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে হবে।
- শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে পরীক্ষার চাপ কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে, যেমন- ধারাবাহিক মূল্যায়ন, সৃজনশীল প্রকল্প ও দলগত কাজ।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা একটি জটিল প্রক্রিয়া, এবং এর উন্নতির জন্য পরীক্ষা পদ্ধতির পাশাপাশি শিক্ষার অন্যান্য দিকগুলির প্রতিও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। পরীক্ষার ধারণা, কার্যকারিতা ও ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন জরুরি।
১৭
২৭ মন্তব্য