শিক্ষা ব্যবস্থায় যে সকল নিয়মনীতি সরকার প্রচলন করেন শিক্ষকদের উচিৎ তা বাস্তবায়ন করা। শিক্ষকদের ইচ্ছা মত চলা বা নিজস্ব নিয়ম প্রচলন করার অধিকার আছে কী? আমরা একটি বিষয় মানতেই চাই না যে পাঠ্য পুস্তক প্রণিত হয় শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক দক্ষতার উপর নির্ভর করে। একই বিষয় বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভিন্ন ভাবে শিখানো হয়। যেমন ৫ম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে সামান্তরিক অংকন ত্রিকোণী ব্যবহার করে শিখানো হয়েছে একই সামান্তরিক ষষ্ঠ / সপ্তম শ্রেণিতে কম্পাস দিয়ে শেখানো হয়েছে। গসাগু ৪র্থ শ্রেণিতে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে শিখানো হয়েছে পঞ্চম শ্রেণিতে ইউক্লিডীয় পদ্ধতিতে এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভাগ প্রক্রিয়ায় শেখানো হয়েছে। আমি ইচ্ছা করলে কী ভাগ প্রক্রিয়ায় গসাগু চতুর্থ শ্রেণিতে শিখাতে পারবো? কম্পাস ব্যবহার করে পঞ্চম শ্রেণিতে সামান্তরিক অংকন শিখাতে পারবো? তাতে কী শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ব্যহত হবে না? সেটা কী ঠিক হবে? এই বিষয়টি শিক্ষকদের অনুধাবন করতে হবে। বিষয়টি মানতেই কষ্ট হয় যখন দেখি পঞ্চম শ্রেণিতে বইয়ের নিয়মে অর্থাৎ ত্রিকোণী দিয়ে সামান্তরিক অংকন করলে কেটে দিয়ে কম্পাস দিয়ে অংকন কৌশল শিখানো হয়। সিলেবাস প্রণয়নে অনেক স্কুল নিজের মত করে সিলেবাস প্রণয়ন করেন এখানে মেধা খাটানো হয় না। ইচ্ছা মত ভাবে সিলেবাস প্রণয়ন করেন।একটি অধ্যায়ের সাথে মিল করে পরবর্তী অধ্যায় সেট করা হয়। একজন শিক্ষার্থী ভাগ প্রক্রিয়া না শিখে গড়, শতকরা, দশমিকের ভাগ কিভাবে শিখবে? কিছু কিছু স্কুলে ভাগ, গাণিতিক প্রতীক বাদ দিয়ে পঞ্চম শ্রেণির অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার গণিতের সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে। একটি স্কুলে মাত্র দুইটি / তিনটি অধ্যায় বাদ রেখে বাকি সকল অধ্যায় অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার পঞ্চম শ্রেণির সিলেবাস দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতা মানে কিন্তু সেচ্ছাচারিতা নয়। ইচ্ছা মত চলতে গেলে মাঝে মধ্যে বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয় এটা মনে রাখা প্রয়োজন। অতিসম্প্রতি খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির প্রশ্ন নেপ প্রদত্ত প্রশ্নের কাঠামো না মেনে প্রণয়ন করে একজন শিক্ষক বিপত্তিতে পড়েছেন কেননা প্রদত্ত সময়ে ঐ প্রশ্নের সমাধান কখনোই সম্ভব নয়। সকল শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের সন্তান মনে করে আরও সহনশীল ও কর্তব্য পরায়ণ হবেন। শিক্ষার্থীরা যেন তার শিক্ষকদের আদর্শ মনে করে, সম্মান করার সুযোগ পায়, এই প্রত্যাশা রইলো। ভুল হলে ক্ষমা করবেন।
৭
৭ মন্তব্য