Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ জুন, ২০২৫ ১১:২৮ অপরাহ্ণ

নিজেই ক্রেতার ঠিকানায় পৌঁছে গেল টেসলার চালকবিহীন গাড়ি

বিশ্বখ্যাত বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা প্রথমবারের মতো একটি চালকবিহীন গাড়ি সরাসরি কারখানা থেকে গ্রাহকের ঠিকানায় পাঠিয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক।

গত ২৭ জুন (শুক্রবার) টেক্সাসের অস্টিনে অবস্থিত টেসলার গিগাফ্যাক্টরি থেকে একটি মডেল ওয়াই স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) চালক ছাড়াই স্থানীয় একটি অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়।

সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে এই যাত্রার একটি ভিডিও প্রকাশ করে টেসলা। সেখানে দেখা যায়, ড্রাইভারের আসনে কোনো মানুষ নেই এবং অস্টিনের হাইওয়ে দিয়ে গাড়িটি চলছে।

তবে কোন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের সংস্করণ এই গাড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি কোম্পানিটি। এ ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে কবে এই ডেলিভারি সেবা পাওয়া যাবে, তা-ও স্পষ্ট করেনি টেসলা।                                                                                                                                        টেসলা ওয়েবসাইটে ওয়াই মডেলের ইউজার ম্যানুয়াল পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির সবচেয়ে উন্নত সংস্করণের এই স্বচালিত গাড়ি ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীদের চালকের আসনে থাকতে হবে এবং যেকোনো সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

টেসলার ভিডিওতে আরও দেখা গেছে, গাড়িটি পুরো যাত্রাপথে সম্পূর্ণভাবে চালকবিহীন ছিল। হাইওয়ে, আবাসিক রাস্তা, পার্কিং লট অতিক্রম করে এটি নির্ধারিত অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে যায়, যেখানে এক ক্রেতা এবং কিছু টেসলা কর্মী অপেক্ষা করছিলেন। যদিও গাড়িটি যেখানটায় থামে, সেটি ‘নো স্টপ ফায়ার লেন’ হিসেবে চিহ্নিত একটি লাল দাগ দেওয়া স্থান।

বর্তমানে মার্কিন ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএইচটিএসএ) টেসলার স্বচালিত প্রযুক্তিসংক্রান্ত নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে তদন্ত করছে। সম্প্রতি রোবোট্যাক্সি উদ্বোধনের পর প্রতিষ্ঠানটির গাড়ি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করছে কি না, তা নিয়েও তথ্য চেয়েছে তারা।

গত শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইলন মাস্ক লিখেছেন, ‘প্রথম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি টেসলা মডেল ওয়াই কারখানা থেকে ক্রেতার বাসায় পৌঁছে গেছে। কেউ গাড়িতে ছিল না, রিমোট অপারেটরও না—এটি একেবারে সম্পূর্ণ স্বচালিত। আমাদের জানামতে, জনসাধারণের হাইওয়েতে চালক ও রিমোট কন্ট্রোল ছাড়া সম্পূর্ণ স্বচালিত যাত্রা এটিই প্রথম।’

তবে মাস্কের এই দাবি পুরোপুরি সঠিক নয়। গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন ওয়েমো ২০২৪ সাল থেকেই ফিনিক্স, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ফ্রান্সিসকোতে চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করেছে, যেখানে জনসাধারণের হাইওয়েতে চালক ছাড়াই গাড়ি চলেছে।

টেসলার এআই প্রধান অশোক এল্লুস্বামী এক্সে জানান, টেসলা এলোমেলোভাবে অস্টিন অঞ্চলের এক মডেল ওয়াই ক্রেতাকে বেছে নেয় এবং গাড়িটি কারখানায় তৈরি অন্য সব মডেল ওয়াইয়ের মতোই। তিনি আরও বলেন, ডেলিভারির সময় গাড়িটি প্রতি ঘণ্টায় ৭২ মাইল গতি অর্জন করে, যদিও টেক্সাসে হাইওয়ের সর্বোচ্চ গতিসীমা প্রতি ঘণ্টায় ৭০ মাইল।

এদিকে, গত সপ্তাহ অস্টিনে রোবোট্যাক্সি পাইলট প্রোগ্রাম চালু করেছে টেসলা, যেখানে ১০ থেকে ২০টি মডেল ওয়াই গাড়ি অংশ নিয়েছে। এই গাড়িগুলোতে টেসলার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও তা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। আপাতত শুধু আমন্ত্রিত কিছু ব্যক্তি, যেমন: সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও বিশ্লেষকেরা এ সেবা পাচ্ছেন। এই গাড়িগুলোর সামনের যাত্রীর আসনে একজন মানব নিরাপত্তা কর্মী থাকেন এবং গাড়িগুলো একটি রিমোট অপারেশন সেন্টার থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

২০১৬ সাল থেকেই ইলন মাস্ক দাবি করে আসছেন, সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে টেসলার সব গাড়ি স্বচালিত হয়ে উঠবে এবং ‘টেসলা শেয়ার্ড ফ্লিট’-এ যুক্ত হয়ে আয়ের উৎস হয়ে উঠবে।                                                                                                                                                           অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় নামছে ইলন মাস্কের টেসলা কোম্পানির চালকবিহীন, স্বচালিত (সেলফ-ড্রাইভিং) গাড়ি ‘রোবোট্যাক্সি’। গতকাল রোববার (২২ জুন) টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরে সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলক এই সেবা।

এই উদ্যোগে প্রায় ১০টি ‘ওয়াই মডেল’ গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোর ড্রাইভিং সিটে কোনো মানুষ বসে না। এই ট্রায়ালে যাত্রীদের তরফ থেকে একজন থাকবেন একজন করে সেফটি মনিটর (নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক)। তিনি সামনের সারিতে প্যাসেঞ্জার আসনে বসবেন।

প্রাথমিকভাবে আমন্ত্রিত যাত্রীরাই পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা উপভোগ করতে পারবেন। এ জন্য কিছু ইনফ্লুয়েন্সাদের পরীক্ষামূলক যাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অস্টিনের নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে মধ্যেই সীমিত থাকবে এই ট্রায়াল। এই যাত্রার জন্য ৪ দশমিক ২০ ডলার খরচ করতে হবে।

এক্সের এক পোস্টে সিইও ইলন মাস্ক জানান, এটি এক দশকের কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার। এ জন্য টেসলা নিজস্বভাবে তৈরি করেছে সম্পূর্ণ এআই চিপ ও সফটওয়্যার টিম।                                                                                                                                                                                         বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্টিনে এই ছোট পরিসরের রোবোট্যাক্সি কার্যক্রমে সফল হলেও টেসলার জন্য ইলন মাস্কের দ্রুত গতিতে অন্যান্য শহরে তা বিস্তারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক এবং স্বয়ংচালিত প্রযুক্তির বিশেষজ্ঞ ফিলিপ কুপম্যান বলেন, টেসলা বা গুগলের প্রতিষ্ঠান ওয়েমোর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রোবোট্যাক্সি শিল্প গড়ে তুলতে কয়েক বছর নয়, বরং দশকও লেগে যেতে পারে।                                                                                                                                                                                                      বর্তমানে টেসলার অত্যধিক শেয়ারমূল্য অনেকাংশেই নির্ভর করছে এর রোবোট্যাক্সি ও হিউম্যানয়েড রোবট ডেলিভারির সক্ষমতার ওপর। টেসলা এখন বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান।

এদিকে, টেসলার রোবোট্যাক্সি চালুর তারিখ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই টেক্সাসের আইনপ্রণেতারা স্বচালিত গাড়ির জন্য নিয়ম চালু করার উদ্যোগ নেন।

রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট গত শুক্রবার এমন একটি আইন স্বাক্ষর করেছেন, যাতে বলা হয়েছে—স্বয়ংচালিত গাড়ি চালাতে হলে রাজ্যের কাছ থেকে পারমিট নিতে হবে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই আইন কার্যকর হবে। এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই প্রযুক্তিটি সাবধানতার সঙ্গে এগিয়ে নিতে চান।

অস্টিনে রোবোট্যাক্সি চালু হলেও এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা থাকছে। যেমন—খারাপ আবহাওয়া, জটিল রাস্তা বা বিপজ্জনক মোড় এড়িয়ে চলা এবং ১৮ বছরের নিচের কাউকে যাত্রী হিসেবে না নেওয়া।

স্বয়ংচালিত গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা একটি বিপুল ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ। জেনারেল মোটরসের ‘ক্রুজ’ প্রকল্প একটি দুর্ঘটনার পর বন্ধ হয়ে গেছে। টেসলা ছাড়াও ওয়েমো এবং অ্যামাজনের জুক্সের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোও নিবিড়ভাবে নজরদারির আওতায় রয়েছে।

এ ছাড়া, টেসলা এখানে একটি ব্যতিক্রমী পথ নিয়েছে। অন্যরা যেখানে লিডার, রাডার এবং অন্যান্য সেন্সর ব্যবহার করে, সেখানে টেসলা শুধু ক্যামেরার ওপর নির্ভর করছে। মাস্কের দাবি, এটি যথেষ্ট নিরাপদ এবং অনেক কম খরচের।

তথসূত্র: রয়টার্স

মন্তব্য করুন