Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ জুলাই, ২০২৫ ০৬:২৫ পূর্বাহ্ণ

নৈতিক শিক্ষা, দেশের নৈতিক শিক্ষার অবস্থা

আমাদের দেশে যে জিনিসটার বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অভাব সেটা হচ্ছে নৈতিক শিক্ষা। এখানে চায়ের দোকানে এতো এতো হাজার হাজার বুদ্ধিজীবী যা কোনো স্থানে আছে কিনা আমার জানা নেই। এদের সাথে কথার যুক্তিতে পারাটা খুব মুসকিল। এরা পেছন দিয়ে পাহাড় ঠেলতে ভালোবাসে।

আমরা যদি সত্যিকারের শিক্ষিত মানুষ হতে চাই, তাহলে জাপানের শিক্ষাব্যবস্থাকে অনুকরণ করতে পারি। সেখানকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় কিছু বিষয় আলাদাভাবে পাঠ্যবই ও বাস্তব চর্চার মাধ্যমে শেখানো হয়, যা আমাদের দেশেও জরুরি


জাপানে শিক্ষার মাধ্যমে বাচ্চাদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কিছু বিশেষ দিকঃ


➊ শ্রদ্ধাবোধ শেখানো হয় ছোটবেলা থেকেই। শিক্ষক, বড় এবং বন্ধুদের প্রতি সম্মান জানানো তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ।


➋ স্কুলে ঝাড়ু দেওয়া, ক্লাসরুম পরিষ্কার রাখা—সবকিছু নিজেরাই করে। এতে দায়িত্ববোধ ও পরিচ্ছন্নতার মূল্য শেখে।


➌ লাঞ্চ টাইমে সবাই একসাথে খায়, নিজের খাবার নিজেরা পরিবেশন করে। এর মাধ্যমে বিনয় ও ভাগাভাগির মানসিকতা গড়ে উঠে।


➍ জাপানি শিক্ষায় নম্রতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কথা বলার ভঙ্গি, চোখে চোখে তাকানো, হাসিমুখে কথা বলা—সবকিছু শেখানো হয় নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে।


➎ প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতা শেখানো হয়। একজন পড়ে না থাকুক—এই চিন্তা থেকেই বন্ধুত্ব ও সহমর্মিতা তৈরি হয়।


➏ নৈতিক শিক্ষা (Moral Education) নিয়মিত পড়ানো হয়। যেখানে জীবনের মূল্যবোধ, দায়িত্ব, সহানুভূতি, সততা শেখানো হয় গল্প ও বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে।


➐ শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, ভালো মানুষ হওয়াটাই মূল লক্ষ্য। এজন্য শৈশবেই তারা শিখে যায়—শিষ্টাচারই বড় পরিচয়।

➑ অন্যের প্রাইভেসি রক্ষা শেখানো হয় খুব ছোটবেলা থেকেই। কাউকে ব্যক্তিগত প্রশ্ন না করা, কারও পারিবারিক বা আর্থিক অবস্থা নিয়ে জিজ্ঞেস না করা—এসব বিষয় শেখানো হয় নিয়মিত।


➒ জাপানি শিশুরা শেখে—‘না’ বলা মানে অপমান নয়। বরং সেটা একজনের ব্যক্তিগত সীমারেখা বোঝানোর অধিকার। তাই তারা শিখে—জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।


➓ কাউকে বিব্রত করতে পারে এমন কোনো কথা বা প্রশ্ন তারা করে না। যেমন: বয়স, ওজন, পরিবার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা তাদের মধ্যে অভদ্র আচরণ হিসেবে ধরা হয়।


⓫ ব্যক্তিগত জায়গা ও অনুভূতির মূল্য বোঝানো হয়। যেমন—ক্লাসমেট কোনো কারণে কথা না বললে জোর না করা, কারো ব্যক্তিগত কাগজে না তাকানো, গোপন তথ্য শেয়ার না করা ইত্যাদি।


⓬ সোশ্যাল এথিকস বা সামাজিক মূল্যবোধের পাঠ দেওয়া হয়। কীভাবে ভদ্রভাবে কাউকে না বলা যায়, কীভাবে ব্যক্তিগত বিষয় গোপন রাখতে হয়—এসব নিয়মিত শেখানো হয়।


⓭ দ্বন্দ্ব এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান শেখানো হয়। কারো কথায় খারাপ লাগলে কীভাবে সম্মান রেখে নিজের মতামত জানাতে হয়, তা শেখে স্কুল থেকেই।

মন্তব্য করুন

ব্লগ