সহকারী শিক্ষক
০১ জুলাই, ২০২৫ ০৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
বাংলা প্রশিক্ষণ ডিকোডিং ও এনকোডিং
📝প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা
📊এনকোডিং (Encoding) : এনকোডিং বলতে ধ্বনিকে সংকেতাবদ্ধভাবে প্রকাশ করাকে বোঝায়। অর্থাৎ, এনকোডিং হলো পৃথক পৃথক ধ্বনি ব্যবহার করে শব্দ তৈরি ও লেখা। যেমন, শিক্ষার্থী ‘আ’ আর ‘ম’ পৃথকভাবে উচ্চারণ করে পরে একত্রে বলে ‘আম’। এই প্রক্রিয়া এনকোডিং-এর উদাহরণ। বলা, লেখা, ছাপানো লেখা, টেলিভিশন প্রোগ্রাম তৈরি ইত্যাদি এনকোডিং-এর উদাহরণ। বানান করার অপর নাম এনকোডিং। যখন শিক্ষার্থী বানান করে লিখে, তখন তাকে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়। যেমন (ক) স্মৃতি থেকে শব্দ মনে করা; (খ) বর্ণধ্বনির সম্পর্কের ভিত্তিতে শব্দাবলি গঠন করা; (গ) বানানের নিয়ম ও রীতি; (ঘ) মূল শব্দ ও উপসর্গ ব্যবহারের জ্ঞান; (চ) শব্দ লেখা এবং তার সঠিকতা নিরীক্ষা করা; (ছ) জানা শব্দ বা অংশের সাদৃশ্য তৈরি করা। এনকোডিংয়ে যারা দক্ষ, তাদের ক্ষেত্রে এই কৌশলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়। শিক্ষার্থীদের এনকোডিংয়ের দক্ষতা অর্জন করতে হয়। যখন কোনো শিক্ষার্থী অন্য কারো কাছ থেকে শব্দ শেখে, সে শব্দটি তার স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে রাখে এবং পরে ব্যবহারের জন্য তা স্মরণ/মনে করে। গবেষণায় দেখা গেছে এ ধরনের কণ্ঠনিঃসৃত ধ্বনির ভিত্তিতে যে এনকোডিং (Voice encoding) হয়, তা ভাষা শেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে পরিচিত কণ্ঠস্বরভিত্তিক শব্দ শিক্ষার্থীরা সহজে মনে করতে পারে। কাজেই, গবেষণালব্ধ ফলের ভিত্তিতে বলা যায় যে শ্রেণিতে এনকোডিং চর্চার ক্ষেত্রে শিক্ষককে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
📱ডিকোডিং (Decoding) : ডিকোডিং একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি লিখিত/ছাপানো শব্দকে তার ধ্বনিতে রূপান্তরিত করা হয়। যেমন, আমরা কয়েকটি শব্দ বিবেচনা করতে পারি: বিড়াল, টেবিল, বই। এই শব্দগুলো দেখে উচ্চারণ করার প্রক্রিয়া হলো ডিকোডিং। সেজন্য একে কখনো কখনো শব্দ চিহ্নিতকরণ দক্ষতাও বলা হয়। এই অর্থে ডিকোডিং শুধু লিখিত শব্দ দেখে ও বুঝে উচ্চারণ বা নাম বলার মাধ্যমে সমাপ্ত হয় বলে এটি একটি সীমাবদ্ধ প্রক্রিয়া। এছাড়া বলা শব্দসমূহের অর্থ করার প্রক্রিয়াও ডিকোডিং। ডিকোডিং পড়ে বা শুনে বোঝার সামর্থ্য/দক্ষতার (Reading with understanding) জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন ভালো পাঠক (Reader) হতে হলে শিক্ষার্থীকে ভালো ডিকোডকারী (Decoder) হতে হবে। তবে পড়ে বুঝতে পারার জন্য ডিকোডিং যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীকে দৈনন্দিন জীবনে কোনো কিছু বা কোনো টেক্সট সহজে পড়ার সক্ষমতা অর্জনের জন্য অপরিচিত শব্দ সাথে সাথে ডিকোড করার সামর্থ্য থাকতে হয়। আমরা কী করে বুঝব যে কোনো একজন শিক্ষার্থী সঠিক ডিকোডিং করতে পেরেছে? এর জন্য শিক্ষক শিক্ষার্থীকে কিছু নিয়মিত/পরিচিত শব্দ (Printed regular words) দিয়ে তা ধ্বনিতে রূপান্তরিত করতে বলতে পারেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ছাপানো অর্থহীন শব্দ অথবা অপরিচিত শব্দ (Printed pseudowords or printed unfamiliar words) দিয়ে সেগুলো উচ্চারণ করার মাধ্যমে ধ্বনিতে রপান্তরিত করতে বলা যায়। শিক্ষার্থীরা ডিকোডিংয়ে কতটা সঠিক (Accurate) বা সাবলীল (Fluent) তা নির্ণয় করার জন্য শিক্ষার্থী কতবার সঠিক ধ্বনি করতে পেরেছে তা গণনা করা যায়। বা প্রতি মিনিটে শিক্ষার্থী কতটা সঠিক ডিকোডিং করতে পেরেছে, তাও নির্ণয় করা যায়। এনকোডিং ডিকোডিংয়ের বিপরীত প্রক্রিয়া। এনকোডিং দক্ষতা সাধারণত ডিকোডিং দক্ষতার পাশাপাশি ঘটে। এনকোডিং প্রক্রিয়ায় কোনো সংবাদ, বার্তা, তথ্য বা বাণী প্রথমে সংকেত এবং চিহ্ন দ্বারা বোধগম্যভাবে প্রকাশ করা হয়। তারপর সে সংবাদ বা বার্তা গৃহীত হওয়ার পর বার্তায় ব্যবহৃত সংকেত ও চিহ্নসমূহের ব্যাখ্যা করা হয় অর্থাৎ, তার অর্থ উদ্ধার করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় যা ঘটে তা ডিকোডিং।
৫৩
৯১ মন্তব্য