কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনা হিজরী সাল অনুসারে ১০ মুহাররম ৬১ হিজরী মোতাবেক ১০ অক্টোবর ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ বর্তমান ইরাকের কারবালা নামক প্রান্তরে ফোরাত নদীর পাশে সংগঠিত হয়েছিল। এই ঘটনাটি ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর অত্যন্ত আদরের নাতি , জান্নাতী যুবকদের সর্দার, পবিত্র আহলে বাইতের অন্যতম সদস্য ইমাম হোসাইন ইবন আলী (রাঃ) এর অল্প কিছু সমর্থক-আত্মীয় এবং উমাইয়া খলিফা প্রথম ইয়াজিদ (যে ছিল মদ্যপায়ী, ফাসেক ও জঘণ্য চরিত্রের অধিকারী) যার বশ্যতা স্বীকার করতে ইমাম হোসাইন অস্বীকার করেন, তার বিশাল সু-সজ্জিত সেনাবাহিনীর মধ্যে সংগঠিত হয়।
ইমাম হোসাইন (রাঃ) কে কুফাবাসিরা পত্রের মাধ্যমে বাইয়াত গ্রহণ করবেন মর্মে আমন্ত্রণ জানান। কুফাবাসির আমন্ত্রণে তিন জিলহজ্ব রওয়ানা করে ফোরাত নদীর তীরবর্তী কারবালা নামক স্থানে পৌঁছালে কুফার গভর্নর ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের সৈন্যবাহিনী তার নির্দেশে পথ গতিরোধ করেন।হজরত হোসাইন (রা.) কে পাপিষ্ট ইয়াজিদের হাতে বায়াত করার আহবান জানান। হজরত হোসাইন (রা.) ঘৃণা ভরে তার এ আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন। রক্তপাত ও খুনাখুনি বন্ধের উদ্দেশে হজরত হোসাইন (রা.) ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ কে তিনটি প্রস্তাব দেন-
এক. ইমাম হোসাইন (রাঃ) কে মদিনায় ফিরে যেতে দেওয়া হোক;
দুই. কোন মুসলিম এলাকায় যেতে দেওয়া হোক;
তিন. ইয়াজিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য দামেস্কে পাঠানো হোক।
কিন্তু ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে পাপিষ্ট ইয়াজিদের হাতে আনুগত্যের শপথ নিতে আদেশ দেন। ইমাম তা না করায় পানি বন্ধ করে দিয়ে তাদের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে। ইমাম হোসাইন (রাঃ) সেখানে যাওয়ার পর আমন্ত্রণকারী কুফাবাসিরা সাহায্যের হাত বাড়ান নি। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী জাতি হিসেবে কুফাবাসী পৃথিবীতে ইতিহাস তৈরি করল। এই যুদ্ধে ইমাম হোসাইন (রাঃ) এবং তার ছয় মাস বয়সী শিশুপুত্র আলী আসগর ইবনে হোসাইন এবং আহলে বাইতের সকল সদস্য সহ সকল সমর্থক নিহত হয় ও নারী এবং শিশুরা বন্দি হন। ইয়াজিদ পন্থিরা তাদের সাথে অত্যন্ত খারাপ ও ঘৃণিত আচরণ করে।
ইমাম হোসাইন (রাঃ) দফায় দফায় তাদের সাথে কথা বলে বুঝতে পারেন ইয়াজিদি সৈন্যরা তাঁর রক্ত চায় এবং ইমামকে গায়রে হক মনে করে। তিনি নিজ সঙ্গীগণ দের এক দুইজন করে করে শিশু ও নারীদের নিয়ে চলে যেতে বলেন , কিন্ত নিজ সঙ্গীগণ আপন আপন যুক্তি দিয়ে ইমামকে একা রেখে যাননি বরং শাহাদাতের তামান্না পোষণ করেছিলেন। এতে করে ইমাম হোসাইন (রাঃ) পক্ষের সকলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদ হন।
সবশেষে ইমাম হোসাইন (রাঃ) ও পবিত্র জুম্মার দিনে নামাজরত অবস্থায় সীমার বিন ঝিল জাউশাইনের হাতে শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন। ইয়াজিদ পন্থিরা শহীদ করেই ক্ষান্ত হয়নি ইমাম হোসাইনের শির মোবারক দেহ মোবারক থেকে আলাদা করে লাঠির অগ্রভাগে পুথিত করে শহরে শহরে প্রদর্শনী হিসেবে পদক্ষিণ করে ও দেহ মোবারক ঘোড়ার মাধ্যমে পদপৃষ্ট করে যে ন্যাক্কারজনক ইতিহাস তৈরি করেন তা অত্যন্ত বিরল।
মহান আল্লাহ তায়ালা এ সকল ফাসেকদের যথাযথ প্রতিদান দান করুক এবং আমাদেরকে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর মতো সত্য-ন্যায়ের পথ অবলম্বনের তাওফিক দান করুন,আমিন।
০
০ মন্তব্য