Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ জুলাই, ২০২৫ ০৬:৩৭ অপরাহ্ণ

মাইক্রো এবং ন্যানোপ্রযুক্তি (Micro and Nanotechnology)

আগামী দিনে এই গবেষণার ফলে পাল্টে যেতে পারে রোগ সনাক্তকরণের পদ্ধতি বা ভর এবং তাপের নিয়ন্ত্রিত আদানপ্রদান। সম্ভব হতে পারে মাইক্রোফ্লুইডিক চিপ ব্যবহার করে স্বল্পব্যায়ে নিয়ন্ত্রিত ন্যানো সাইজের কণা ও অন্যান্য ন্যানো মেটেরিয়াল উৎপাদন।

সেই ১৯৫৯ সালের ২৯শে ডিসেম্বরে আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির এক বার্ষিক সভায় পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যান বলেছিলেন: “There’s plenty of room at the bottom.” [অর্থাৎ, নিচের দিকে প্রচুর জায়গা রয়েছে]। সেই নিচের দিকে তলিয়ে দেখার জায়গা কিন্তু এখনো রয়েছে যথেষ্টই। ন্যানোমিটার বা তার নিচের স্তরে নেমে গেলে পদার্থের গতিবিধি বুঝতে নিউটনের সূত্রের মতো প্রচলিত সূত্রও আর কাজে আসে না। পদার্থের ধর্মের ব্যাখ্যা দিতে গেলে তখন কোয়ান্টাম মেকানিক্স-এর আশ্রয় নিতে হয়।

আর সেসব ধর্মগুলোরও নিত্যনতুন উপযোগিতা বেরোচ্ছে। ন্যানো-কণা (nanparticles), ন্যানো-তার (nanowires), ন্যানো-নল (nanotubes) বা গ্রাফিনের (graphene) মতো দ্বিমাত্রিক পদার্থের গুরুত্ব উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। ন্যানো স্তরে যাওয়ার আর একটি উপযোগিতা হচ্ছে খুব অল্প পরিমান পদার্থ ব্যবহার করে প্রচুর পরিমার পৃষ্ঠতল (surface area) তৈরি করতে পারার ক্ষমতা। এই সমস্ত অভূতপূর্ব ধর্ম ব্যবহার করে ন্যানো-তার ভিত্তিক সেন্সর (sensor), তথ্য সঞ্চয়ের মেমরি ডিভাইস (memory device), স্নায়ুতন্ত্রের আদলে ইলেকট্রনিক সার্কিট (neuromorphic circuits), ন্যানোটিউব ভিত্তিক জল পরিশোধন ব্যবস্থা, দেহের যেখানটাতে দরকার ঠিক সেইখানে ওষুধ পাঠানো (targeted drug delivery), এক এক করে এই ভাবে ন্যানোপ্রযুক্তি সূক্ষাতিসূক্ষ্ম প্রয়োগের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। অন্যদিকে, গ্রাফিন (graphene) এবং ম্যাক্সিন (MXenes) জাতীয় দ্বিমাত্রিক পদার্থ নিয়ে নতুন যেসব তথ্য বেরোচ্ছে, তাই দিয়ে সম্ভব হয়ে উঠছে অভাবনীয় সব প্রযুক্তি। এরকম প্রযুক্তির কয়েকটা নমুনা দেওয়া যাক। এইধরণের পদার্থের আধান (charge) ধরে রাখার ক্ষমতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে বারেবারে মুহূর্তের মধ্যে চার্জ-ডিসচার্জ হওয়ার ক্ষমতা (charge/discharge) এগুলোকে ব্যাটারিতে বা সুপারক্যাপাসিটর (supercapacitor)-এ শক্তি সঞ্চয়ের জন্য লোভনীয় করে তুলেছে। অন্যদিকে, এদের দিয়েই তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে (বা হবে) নমনীয় ইলেকট্রনিক বস্তু যেগুলো বাঁকানোচোরানো সম্ভব (flexible electronics) বা এমন সুপারকন্ডাক্টর (topological superconductors) যাদের আচরণ বিশেষ বস্তুদের জ্যামিতিক অভিমুখের (geometric orientation) উপর নির্ভরশীল।

একই ধারায় আরেকটা গবেষণার বিষয় হলো মাইক্রো এবং ন্যানো স্তরে আবদ্ধ তরলের আচরণ (micro and nano fluidics)। আগামী দিনে এই গবেষণার ফলে পাল্টে যেতে পারে রোগ শনাক্তকরণের পদ্ধতি বা ভর এবং তাপের নিয়ন্ত্রিত আদানপ্রদান। সম্ভব হতে পারে মাইক্রোফ্লুইডিক চিপ (microfluidic chip) ব্যবহার করে স্বল্পব্যায়ে নিয়ন্ত্রিত ন্যানো সাইজের কণা ও অন্যান্য ন্যানো-পদার্থ (nanomaterial) উৎপাদন। যে হারে যন্ত্রপাতির সাইজ কমানোর বহর চলছে, নিশ্চিতভাবে বলাই যায় যে সামনের কয়েক দশক ধরে মাইক্রো এবং ন্যানো জগতের গবেষণা দাপটে রাজত্ব করবে।

মন্তব্য করুন