Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ জুলাই, ২০২৫ ১১:২৮ অপরাহ্ণ

রাউজান কি শুধু তথাকথিত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বাস স্থান?

আাহারে রাউাজান!! 

রাউজান কি শুধু তথাকথিত  রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের  বাস স্থান?  রাউজানে কি দিন দিন সাধারণ জনগণের বসবাসের অনুপযোগী করে তুলবেন আপনারা ? কথিত রাজনীতি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দুইযুগেরও অধিক সময় ধরে এই রাউজানকে খুন, হানাহানি, জুলুম, নির্যাতনে অশান্ত ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে তারা। পূরো রাউজান যেন রক্তাক্ত। দিন দিন আরো বেশী ভয়ংকর রুপ নিচ্ছে! লাশের সিরিয়াল লম্বা হচ্ছে! অন্য দল দূরে  থাক হাল সময়ে নিজ দলের নেতাদের কুপিয়ে মেরা ফেলা হচ্ছে। গত ১৫ বছর নিজেদের দলের লোকদের তাদেরই বাড়ীতে যেতে দেইনি কথিত রাজনৈতিক দলের অনুসারীরা। 

রাউজানের ইতিহাস ঐতিহ্য শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে নোংরা  দুর্গন্ধযুক্ত তথাকথিত রাজনীতির বাইরে সামাজিক ভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে সাধারণ জনগনকে। 

অথচ এই রাজনীতিই হল জনগণের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। 


--------->>বীর প্রসবিনী রাউজান,  অধিকাংশ চট্রল গবেষকদের মতে আরাকানী শব্দ রাজওয়াং থেকে রাউজানের নামকরণ করা হয় মানে রাজকীয় পরিবারের ভুমি। 

ইতিহাস-ঐতিহ্যের লালন ভূমি এই রাউজান ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা মাস্টারদা সূর্যসেন, হাজীপাড়ার মাওলানা এজাবত উল্লাহ শাহ (বড় মওলানা শাহ (রঃ), মহাকবি নবীন চন্দ্র সেন, মহাকবি হামিদ আলী খান, কদলপুরের চাঁদ শাহ (রঃ), তৎকালীন অল পাকিস্তান পার্লামেন্টের স্পীকার ফজলুল কাদের চৌধুরী, বিরোধী দলীয় নেতা ফজলুল কবির চৌধুরী, চিকদাইরের হযরত আকবর শাহ (রঃ), ফুরফুরা তরিকতের খলিফা সুফী নুরুল হক শাহ (রঃ), ইয়াছিন নগরের হযরত ইয়াছিন শাহ (রঃ), গণ- স্বাস্থ্যের ড, জাফরুল্লাহ,  সুলতানপুরের দেশখ্যাত কাজী বাড়ীর আদম বর খাঁ (রঃ) আরবী, মুজিবুল্লাহ সুলতানপুরী (রঃ), উরকিরচরের সমি উদ্দিন শাহ (রঃ), কুন্ডেশ্বরীর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নূতন চন্দ্র সিংহ, মুক্তিযোদ্ধা কবি হাফিজ খাঁন রুশনি, আবু শাহ (রঃ), আশরাফ শাহ (রঃ), মোল্লা মিসকিন শাহ (রঃ), হাজী  মুহসিন খ্যাত বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অদুদ চৌধুরী, সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাবেক গণ পরিষদ সদস্য অধ্যাপক খালেদ সহ অসংখ্য অগনিত সমাজ সেবক, মানবিক, যোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, আরবী-অনারবী, কুতুব, আবদাল, অলি আউলিয়াগণের জম্ম ভুমি এই রাউজান। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই রাউজানের। শত বছর ধরে মাইজভাণ্ডার দরবার, সিরিকোটি দরবারের গাউসিয়া কমিটি, হালি শহর তরিকা সহ অসংখ্য অগনিত আউলিয়ায়ে কেরামগনের অনুসারী আছে রাউজানে। রাউজানে আছে ইন্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়, মহামনি বৌদ্ধ মন্দির, বিদ্যুৎ কেন্দ্র। দেশের একমাত্র উপজেলা যেখানে ৪টি কামিল মাদ্রাসা, বহু স্কুল কলেজ মাদ্রাসা।

শিক্ষার হারও তুলনামূলক বেশী,  সকল ধর্ম বর্ণ হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান সবাই মিলে দারুন এক সম্প্রদায়ীক সম্প্রীতির মেলবন্ধন রাউজান। চট্টগ্রামের প্রথম সারির দৈনিক যে কটি পত্রিকা আছে প্রায় সবকটিরই মালিক ও সম্পাদক রাউজানের। বৃহত্তর চট্টগ্রামের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব এই রাউজানের সন্তান। মধ্যম পূর্ব এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী হালদার ঘা ঘেঁষে এই রাউজান আবার সর্ব উত্তরে সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটি ও দক্ষিণে কর্ণফুলী।


অত্যন্ত দুঃখ, কষ্ট ও ক্ষোভের সাথে বলতে হচ্ছে প্রিয় মাতৃভূমি দুই যুগের দীর্ঘ অধিক সময় ধরে ভাল নেই! এখানে আধিপত্য বিস্তার ঘটাতে কিছুদিন পর পর  খুনাখুনি, দখলবাজী, এক নেতা অপর নেতাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা, নিজের বাড়ীতে নিজেকে আসতে না দেওয়া হোক সেটি নিজের দলের! ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, পোষ্টার ব্যানারের রাজনীতি, একে অপরের সামাজিক মান ক্ষুন্ন করা, চাঁদাবাজি, রাস্তার মোড়ে মোড়ে কিশোর গ্যাং, গ্রুপিংয়ের এই নোংরা রাজনীতিতে  রাজনৈতিক নেতারা তাদের হীনস্বার্থে  ধর্ম, মাহফিল, ওরশ, তরিকতের সংগঠনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যাবহার! আবার অনেক ধর্মীয়, তরিকত, কমিটির কথিত নেতারাও রাজনীতিকে ব্যাবহার করছে! আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার ঘটাতে পূরো রাউজানে একের পর এক খুন হচ্ছে! তাদের অমানবিক নিষ্ঠুর রাজনীতির নোংরা খেলায় সাধারণ মানুষ এক ভয়ংকর ভয়ভীতিতে দিনাতিপাত করছে প্রতিনিয়ত! 

তাই সাধারণ রাউজানবাসী সর্বোচ্চ সচেতনতার মাধ্যমে এই রাউজানের গৌরব, ইতিহাস-ঐতিহ্য, শান্তি, সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে  সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ