সবাই মিলে দাদুর বাগানবাড়িতে
একদিন বিকেলে রোহান, রিয়াদ, মালিহা, নুসাইবা আর মিশকাত সবাই মিলে দাদুবাড়িতে খেলতে এসেছে। চারপাশে সবুজে ঘেরা দাদুর বিশাল বাগান, সেখানে অনেক রকমের গাছ—আম, কাঁঠাল, জাম আর লিচু। পাখিরা ডাকছে, বাতাসে ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ, যেন প্রকৃতি নিজেই খেলতে ডাকছে।
রিয়াদের চাচ্চু, আরিম চাচ্চু, সবার খুব প্রিয়। তিনি মজার মজার গল্প বলেন, আবার খেলাধুলাতেও সবসময় সবার সাথে থাকেন। আজ তিনি সবাইকে নিয়ে বাগানে গেলেন। বললেন,
"চলো, আজ আমরা গাছে ওঠার প্রতিযোগিতা করি! তবে সাবধানে, আমি পাশে আছি।"
সবাই খুশি হয়ে লাফিয়ে উঠল। প্রথমে রোহান আমগাছে উঠতে গেল। ও সাবধানে ডাল ধরে ধরে একেবারে মাঝামাঝি পর্যন্ত উঠে গেল। সবাই হাততালি দিল। তারপর মালিহা উঠল ছোট জামগাছে—সে ডাল ধরে ধরে উঠে একটা পাকা জাম ছিঁড়ে নিয়ে নামল। নুসাইবা আর মিশকাত ফুলের গাছের নিচে দৌড়াদৌড়ি করছিল আর বলছিল,
"আমরা পাখির খোঁজ করব!"
রিয়াদ একটু সাহস করে কাঁঠাল গাছে ওঠার চেষ্টা করল, কিন্তু ডালগুলো খুব মোটা আর পিছল। সে একটু পিছলে গেল, কিন্তু তখনই আরিম চাচ্চু হাত বাড়িয়ে ধরে ফেললেন।
"আহা! সাবধানে বাবা। খেলতে হবে মজা করে, কিন্তু নিরাপদে।"
সবাই মিলে তারপর একটা খোলা জায়গায় বসে গল্প শুনতে লাগল। আরিম চাচ্চু বললেন,
"এই গাছগুলো অনেক পুরোনো, অনেক গল্প জানে। তোরা চাইলে একদিন রাতের বেলা বসে গাছের গল্পও শুনতে পারবি!"
সবার চোখে তখন রোমাঞ্চের ঝিলিক। তারা ঠিক করল, পরের বার একটা ক্যাম্পিং পার্টি করবে দাদুবাড়ির বাগানে।
দিনের শেষে সবাই ক্লান্ত কিন্তু খুশি। মাটিতে পাতা চাটাইয়ে বসে তাজা লিচু আর দাদুর বানানো পিঠা খেতে খেতে তারা হাসতে লাগল। এমন মজার দিন সবাই মনে রাখবে অনেক দিন।
১
১ মন্তব্য