সহকারী শিক্ষক
২০ জুলাই, ২০২৫ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
অ্যাম্বাসেডর হওয়ার কথা
এক অনন্য পাওয়া আমার আইসিটি অ্যাম্বাসেডর হয়ে উঠা। প্রাথমিক শিক্ষা অঙ্গনে আমার আসাটা কোনো ঘটনাক্রমে নয়।বরং মহান রবের পুরস্কার আমার। চাকরিতে যোগদান থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে কাজ করা। ২০২০ সালে যোগদানের পর যখন বিদ্যালয় গিয়ে একদিনের পর বন্ধ হয়ে যায় ক্লাস।দীর্ঘ করোনার বন্ধের পর খুললো বিদ্যালয়। আইসিটি সরঞ্জাম ছিল প্যাকেটে ভরা। যখন প্রজেক্টের খুললাম দেখি একদম নতুন। ব্যবহার করা হয়নি এখনো। ৩ বছর আগে দেওয়া হয়েছিল।
প্রজেক্টরের ব্যবহার জানতাম না। ইউটিউব থেকে দেখে শুরু হলো মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া। বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিত বাড়তে লাগলো। আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎফুল্ল হয়ে উঠলো শিক্ষার্থীরা।পরিচিত হতে লাগলো বিশ্ব ছাড়িয়ে মহাবিশ্বের সাথে।
বিদ্যালয় হয়ে উঠলো আনন্দের জায়গা।
সেই থেকে আইসিটি অঙ্গনে কাজ করা শুরু। পরবর্তীতে শিক্ষক বাতায়নে সদস্য হলাম। নতুন জ্ঞানের জগতের সাথে পরিচিত হলাম।
ডিজিটাল কন্টেন্টের বিশাল জগৎ সাথে পরিচিত হলাম।
কন্টেন্ট তৈরির চেষ্টা করতে লাগলাম। দক্ষ আইসিটি শিক্ষক হওয়ার তীব্র বাসনা আমাকে শেখার ক্ষেত্রে উৎসাহ দিতো পরোক্ষভাবে।
শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করতে লাগলাম অবিরত। হোম ভিজিটের মাধ্যমে খুলে গেলো বাস্তব জীবনে অভিজ্ঞতার দুয়ার। ছোট্র শিক্ষার্থীদের হাসি আমাকে আরো উৎসাহ যোগাল।
জুলাই বিপ্লবের পর। সময়টা নতুন বাংলাদেশের। উপজেলা শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের ভাইবা দিলাম। অনেক সিনিয়র শিক্ষকের কাছে আমি ছিলাম নগণ্য। অবশেষে উপজেলা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-২০২৪ নির্বাচিত হলাম। এই অর্জন আমাকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরো ভূমিকা পালন করলো।
জেলা পর্যায়ে ভাইবা দিতে গিয়ে দেখি আমি সবার নিচে। সকল বিষয়ে। ফিরে প্রতিজ্ঞা নিলাম এ বছর আইসিটি অ্যাম্বাসেডর হবো। নিরলসভাবে কাজ করতে লাগলাম।
পৃথিবী যখন ঘুমিয়ে পরতো রাতের কোলে তখন আমি শিক্ষক বাতায়নের কন্টেন্ট তৈরির করতাম। বিভিন্ন ব্লক লিখতে লাগলাম।
অক্লান্ত পরিশ্রমে অবশেষে জেলা আইসিটি অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ প্রাপ্ত হলাম।আলহামদুলিল্লাহ।
আমার পথ চলা শুরু। আমার সাথে সঙ্গী আমার প্রিয় শিক্ষার্থীরা। তাদের সাদা মনের ভালোবাসায় দুর্গম পথের এক আরোহী।
১
২ মন্তব্য