Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ জুলাই, ২০২৫ ০২:৪১ পূর্বাহ্ণ

চায়ের টেবিলে বিজ্ঞান: পঞ্চব্রীহী ধান নিয়ে জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীর সঙ্গে আলাপ

আজকের দিনটা আমার জীবনে সত্যিই বিশেষ ছিল ভুলবার নয় এমন এক অভিজ্ঞতা। বিদ্যালয় ছূটির পর ড. আবেদ চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি । কী এক আনন্দ!

দেশের এই প্রখ্যাত বিজ্ঞানীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ তো রোজ রোজ হয় না। তাঁর বাড়িতে পৌঁছাতেই দেখি, একটুকরো সবুজ স্বর্গ যেন। চারপাশে গাছপালা, ফুলের বাগান আর বাতাসে এক শান্ত সব মিলিয়ে মনটা জুড়িয়ে গেল। তিনি খুব সাধারণভাবেই অভ্যর্থনা জানালেন। বসালেন নিজের পাশেই, যেখানে এক কোণে টেবিলে ধোঁয়া উঠছে চায়ের কাপ থেকে। আমি বসতেই তিনি হাসিমুখে বললেন, "চলো, চায়ের সঙ্গে আজ তোমাদের একটা গল্প শোনাই—আমার প্রিয় ধান পঞ্চব্রীহী নিয়ে।"

চা খেতে খেতে তিনি শুরু করলেন সেই গল্প।

বললেন, “তুমি কি কখনও ভেবেছো, যদি এক গাছায় পাঁচটা শীষ ধরে তাহলে কৃষকের চোখে কতটা আনন্দ ফুটে ওঠে?” আমি অবাক হয়ে তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। তিনি বলছিলেন কীভাবে তিনি দেশীয় ধানের গুণাবলি আর বিজ্ঞানের জ্ঞান মিলিয়ে এমন একটি বিশেষ ধান তৈরি করেছেন, যেটা শুধু বেশি ফলনই দেয় না খুব কম সার-পানি দিয়েই ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।

তিনি বললেন, “আমি চাই, বাংলাদেশের প্রতিটা কৃষক এমন ধান চাষ করুক যেন তাদের জীবন বদলে যায়। যেন কেউ আর অভুক্ত না থাকে যেন গ্রামেই থাকে সম্ভাবনা।”

পঞ্চব্রীহী ধান নিয়ে তিনি এতটা আবেগ নিয়ে কথা বলছিলেন যেন তা তাঁর নিজের সন্তান। তাঁর চোখে দেখলাম স্বপ্ন, দেখলাম দেশের জন্য ভালো কিছু করার দৃঢ় প্রত্যয়। আমরা চুপ করে বসে শুনছিলাম। মনে হচ্ছিল, বিজ্ঞান এক কঠিন বিষয় নয় যদি সেটি হৃদয় দিয়ে করা যায়। তাহলে তা গল্পের মতো সহজ, আর মানুষকে ছুঁয়ে যায়।

গতদিন দিন আমি শুধু এক কাপ চা খাইনি, আমি পেয়েছি অনুপ্রেরণা। একজন বিজ্ঞানীর স্বপ্ন আর দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা খুব কাছ থেকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ