Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ জুলাই, ২০২৫ ১০:৩৪ অপরাহ্ণ

স্বদেশ [আমাদের দেশ] পাঠঃ ১১

স্বদেশ


— আহসান হাবীব 



এই যে নদী

নদীর জোয়ার

নৌকা সারে সারে,

একলা বসে আপন মনে

বসে নদীর ধারে

এই ছবিটি চেনা।

মনের মধ্যে যখন খুশি

এই ছবিটি আঁকি

এক পাশে তার জারুল গাছে

দুটি হলুদ পাখি,

এমনি পাওয়া এই ছবিটি

কড়িতে নয় কেনা।


মাঠের পরে মাঠ চলেছে

নেই যেন এর শেষ

নানা কাজের মানুষগুলো

আছে নানান বেশ,

মাঠের মানুষ যায় মাঠে আর

হাটের মানুষ হাটে,

দেখে দেখে একটি ছেলের

সারাটা দিন কাটে।


এই ছেলেটির মুখ

সারাদেশের সব ছেলেদের

মুখেতে টুকটুক

কে তুমি ভাই,

প্রশ্ন করি যখন,

ভালোবাসার শিল্পী আমি,

বলবে হেসে তখন।


এই যে ছবি এমনি আঁকা

ছবির মতো দেশ,

দেশের মাটি দেশের মানুষ

নানান রকম বেশ,

বাড়ি বাগান পাখ‑পাখালি

সব মিলে এক ছবি,

নেই তুলি নেই রং, তবুও

আঁকতে পারি সবই। 




📝 কবিতা বিশ্লেষণ:

ছবি ও অনুভূতি: কবিতে গ্রামের প্রকৃতি—নদী, নৌকা, জারুল গাছ, হলুদ পাখি—চিত্রায়িত হয়ে এক কিশোরের চোখে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। 



মানবিক সম্পর্ক: মাঠে কাজ করা মানুষ, হাটে ব্যবসায়ী, সবাই মিলে একটি সম্পূর্ণ দেশ গঠন করে—এই অনুভব তুলে ধরেছেন কবি। 



লক্ষণীয় বার্তা: তুলিসংকেত নেই, রং নেই—তবুও হৃদয়ে আঁকা সম্ভব দেশচিত্রটি; দেশ সম্পর্কে অগাধ ভালোবাসায় নির্মিত একটি চিরন্তন ছবি।


প্রসঙ্গভিত্তিক তথ্য:


কবি আহসান হাবীব ২ ফেব্রুয়ারি ১৯১৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১০ জুলাই ১৯৮৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন 


তিনি শিশু-কিশোরদের জন্যও ছড়া, গল্প ও কাব্য রচনা করেছেন (যেমন – বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, ছুটির দিন দুপুরে) 


“স্বদেশ” কবিতাটি সাধারণত পঞ্চম শ্রেণি বাংলা পাঠ্যবিষয়বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি বাংলা ভাষা ও দেশের প্রকৃতির সঙ্গে শিশুদের ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলে

মন্তব্য করুন