প্রভাষক
২৬ জুলাই, ২০২৫ ০৮:২৬ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
আমাদের যুগে স্কুল থেকে বই দেওয়া হতো না। আমাদের বাড়ীর অপোজিটে আমার বান্ধবী কুমকুম দের বাড়ী। কুমকুমের আব্বা-মাকে নানা এবং নানী বলতাম। রূপগঞ্জ বাজারে নানার বইয়ের দোকান ছিলো।""বুক সোসাইটি""
ডিসেম্বরের শেষে আব্বা হুংকার দিতেন,""যাও,তোমার নানাকে বলে এসো সবার জন্য বই নিয়ে আসতে।"" আমরা এক দৌঁড়ে নানাকে বলে আসতাম।ঐ দিন রাতেই আমরা বই পেয়ে যেতাম। রঙ্গীন মলাটের নতুন বই হাতে পেয়ে আমরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠতাম।কিন্তু,তখন আমার আব্বা বলতেন,"" এখনি কালীপদ কাকার কাছে বই বাঁধাতে দিয়ে এসো।তার আগে যদি বই ছিঁড়ে যায়,পিঠের চামড়া তুলে ফেলবো।""
আমরা সবাই ""কালীপদ কাকার""কাছে বই বাঁধাতে দিয়ে আসতাম। আমরা প্রত্যেকেই বলতাম,""কাকা, আমার বই আগে বাঁধবেন। আমি কাল এসে বই নিয়ে যাবো।"" তিনি বলতেন
,""কী মুসিবত? সবার বই একসাথে কী করে দেবো?তাছাড়া তোমাগে বই আমার তো পইড়ে দেখতি হবে।
আপনার ক্যান পড়তি হবে,কাকা?আপনি কী ফোরে পড়েন?
না মা,বই পড়তি আমার ভালো লাগে।কোরআান শরীফের বাংলা পড়ে ফ্যালাইছি।তুমিও পড়বা।মহাভারত,রামায়ণও পড়বা।তুমার পড়তি ভালো লাগবে।
না কাকা,আমি সবার আগে আমার বই পড়বো।
আচ্ছা,তোমার বই আগে দিবানি। এখন বাড়ী চইলে যাও।নালি তোমার আব্বা কিন্তু-------
প্রতিদিন খোঁজ নিই বই বাঁধানো হয়েছে কী না? এক সময় বই হাতে আসে।নতুন বই উল্টে পাল্টে দেখি।আমাদের বইয়ে চমৎকার ছবি থাকতো। এবং আমাদের দেশের প্রথিতযশা কবি-লেখকদের গল্প,ছড়া ও কবিতা থাকতো। খুব অল্প সময়ে বাংলা বইয়ের কবিতা,ছড়া মুখস্থ করে ফেলতাম। আমার ছোট ভাই ভুলেও তার বই খুলে দেখতো না। সে সারাক্ষণ ব্যস্ত ছিলো তার খেলা নিয়ে।
সন্ধ্যাবেলায় যথারীতি সবাই পড়তে বসতাম।সামনে বসে থাকতেন বেত হাতে আমার আব্বা। আমার আব্বার কোনো বন্ধু ছিলোনা। আমার মা ছিলেন তাঁর একমাত্র বন্ধু। সন্ধ্যার পর তিনি কোনোদিন বাসার বাইরে থাকতেন না।তিনি ব্যবসার কাজে বাইরে গেলেই আল্লাহকে ডাকতাম,""আল্লাহ্,আব্বার বাসায় ফিরতে যেন অনেক রাত হয়ে যায়।"" কিন্তু,ঝড় হোক-বৃষ্টি হোক,তাঁকে দ্রুত বাসায় ফিরতেই হবে। অনেক আল্লাহ্ কে ডাকতাম,তবুও কোনো কাজ হতো না।
আমরা ভাই-বোনেরা মাত্র ""চোর-ডাকাত""খেলার জন্য ছোট ছোট কাগজে চোর,ডাকাত,পুলিশ ও দারোগা লিখে ফেলেছি,ঠিক তখনি সিংহের হুংকার আমাদের কানে ভেসে আসতো,
""এখনো পড়তে বসা হয়নি?সব গুলোর পিঠের চামড়া আজ খুলে ফ্যালবো।""
হংকার শুনে আমাদের আত্মা শুকিয়ে যেতো।পড়ি কী মরি করে দৌঁড়ে গিয়ে পড়তে বসতাম আর চীৎকার করে পড়তে শুরু করতাম,"" বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ--------❤️❤️
৭
৬ মন্তব্য