Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ জুলাই, ২০২৫ ০৬:৫৬ অপরাহ্ণ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পড়ছে সবাই, শিখছে কে?

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পড়ছে সবাই, শিখছে কে?

 

আইসিটি পাঠ্যক্রম চালুর উদ্দেশ্য ছিল— ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা। অথচ, বাস্তবে নেই ব্যবহারিক ক্লাস, নেই কম্পিউটার ল্যাব, শুধু মুখস্থের খেলা। শিক্ষার্থীরা রয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি অজ্ঞ।

 তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল যুগের জন্য প্রস্তুত করা। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। শহর হোক বা মফস্বল, কোথাও এই বিষয়ের ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে, এই পাঠ্যবিষয় শিক্ষার্থীদের কাছে নিছক মুখস্থ বিদ্যায় পরিণত হয়েছে, যার বাস্তব জীবনের সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই।

তত্ত্বীয় পাঠ্যবইয়ে যেসব বিষয় সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে যুগোপযোগী এবং আন্তর্জাতিক মানের। ষষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা শেখে কম্পিউটার পরিচিতি, অপারেটিং সিস্টেম, হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার, ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস, ডিজিটাল কনটেন্ট ইত্যাদি। সপ্তম শ্রেণিতে আসে কমিউনিকেশন টেকনোলজি, ক্লাউড কম্পিউটিং, নেটওয়ার্কিং, সাইবার সিকিউরিটি। অষ্টম শ্রেণি থেকে শুরু হয় প্রোগ্রামিং ধারণা, স্ক্র্যাচ বা পাইথনের প্রাথমিক বিষয়, মাল্টিমিডিয়া ও গ্রাফিক্স। নবম-দশম শ্রেণিতে শেখানো হয় এসকিউএল কোয়েরি, পাইথন বা সি প্রোগ্রামিংয়ের শর্ত, লুপ, ফাংশন থেকে শুরু করে ব্লকচেইন ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স পর্যন্ত। এটি একদিকে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী উদ্যোগ, কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে এটি একপ্রকার ব্যঙ্গাত্মক প্রচেষ্টায় পরিণত হয়েছে।

তত্ত্বগতভাবে যা পড়ানো হচ্ছে, তার ছিটেফোঁটাও শিক্ষার্থীরা বাস্তবে দেখছে না, বুঝছে না। আইসিটি বিষয়টি বাস্তব জীবনে কতটা প্রাসঙ্গিক, তা বোঝাতে হলে শিক্ষার্থীদের হাতে কম্পিউটার তুলে দিতে হতো, ইন্টারঅ্যাকটিভ ল্যাব সেশনের ব্যবস্থা করতে হতো, হ্যান্ডস-অন অভিজ্ঞতা দিতে হতো। কিন্তু দেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে আজও কম্পিউটার ল্যাব নেই। যেসব স্কুলে নামমাত্র ল্যাব আছে, সেখানে পর্যাপ্ত কম্পিউটার নেই।

মন্তব্য করুন

ব্লগ