বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল নীতি মূলত জাতীয় শিক্ষানীতি (২০১০) এবং সংবিধানের ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত, যা শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে। এগুলো দেশের শিক্ষার দর্শন, কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতির ভিত্তি।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল নীতি
১. সর্বজনীনতা ও সমতা
- প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা।
- শিক্ষা লাভে ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ।
২. মানসম্মত শিক্ষা
- শিক্ষার সব স্তরে মান বজায় রাখা ও উন্নয়ন।
- দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক পাঠ্যক্রম ও প্রযুক্তি ব্যবহার।
৩. মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা
- প্রাথমিক স্তরে বাংলা ভাষায় শিক্ষা প্রদান।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা।
৪. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা
- তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার।
- ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি।
৫. কর্মমুখী ও জীবনমুখী শিক্ষা
- শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানমুখী করে তোলা।
- কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও উদ্যোক্তা শিক্ষায় জোর দেওয়া।
৬. আজীবন শিক্ষার সুযোগ
- প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা, দূরশিক্ষা ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে শেখার সুযোগ।
৭. জাতীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ
- শিক্ষার মাধ্যমে জাতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও দেশপ্রেম লালন।
৮. সৃজনশীলতা ও গবেষণা
- মুখস্থের বদলে সৃজনশীল পদ্ধতি ও গবেষণামূলক শিক্ষা উৎসাহিত করা।
সংবিধান অনুযায়ী শিক্ষা নীতি
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে—
- রাষ্ট্র সর্বজনীন ও এককভাবে পরিচালিত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
- প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্যে হবে।
- উচ্চ শিক্ষা ধাপে ধাপে সহজলভ্য করা হবে।
১
২ মন্তব্য