ওহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয় বদর যুদ্ধের এক বছর পর অর্থাৎ তৃতীয় হিজরীর শাওয়াল মাসে। ওহুদ একটি পর্বতের নাম। এই পর্বতের সম্মুখস্থ ময়দানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় বলে এর নাম ওহুদ যুদ্ধ। নবুওয়াতির পূর্বে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মক্কাবাসীদের অতি আদরণীয় ও প্রিয় মিত্র। কিন্তু নবুওয়াত প্রাপ্তির পর তিনি যে মুহূর্তে আল্লাহর উপর বিশ্বাস আনার জন্য মক্কাবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান, তখন থেকেই তিনি তাদের ঘোরতর শত্রুরূপে বিবেচ্য হলেন এবং তার উপর চলল অমানুষিক নির্যাতন আর নিষ্পেষণের ষ্টিম রোলার। যার ফলশ্রুতিতে পরম করুণাময় আল্লাহ তা’আলার ইঙ্গিতে তাকে মদীনায় হিজরত করতে হয়। হিজরতের পর ধৈর্য্য-সহ্যের প্রতিকৃতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়। পড়ে পড়ে মার খাওয়া নয়- “ঔষধে কাজ না হলে অস্ত্রোপাচার” অভ্যুদয় ঘটে ধর্মযুদ্ধ বা জিহাদের। প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম রা. এর মতে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ ১৯টি জিহাদে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন (মতান্তরে ২১, ২৪, ২৭ টি জিহাদে)।
তৃতীয় হিজরীতে ওহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। একে আলাদা যুদ্ধ না বলে ‘বদর যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়’ বা ধারাবাহিকতা বলেও আখ্যায়িত করা যায়। কেননা বদর যুদ্ধে মক্কাবাসী কুরাইশরা যে আঘাত পায় তার প্রতিশোধ গ্রহণের অগ্নিময় মনোবৃত্তিই ওহুদ যুদ্ধের মূল কারণ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে সংঘটিত বড় যুদ্ধসমূহের মধ্যে ওহুদ যুদ্ধ অন্যতম প্রধান। এই যুদ্ধে মুসলমানগণ যে পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আল্লাহর তরফ থেকে পরীক্ষিত হয়েছিলেন, সমকালীন আর কোন যুদ্ধে তা হয়নি। এ কারণেই ইসলামের ইতিহাসে এই যুদ্ধ একটি শিক্ষণীয় মডেল হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়ে আছে।
এই যুদ্ধে কুরাইশদের ছিল প্রচুর রণসম্ভারে সমৃদ্ধ তিন হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী। বাহিনীর সামনে ছিল হোবল ঠাকুরের বিরাট এক মূর্তি আর এর পিছনে উষ্টপৃষ্টে আরোহিত রণরঙ্গিনী হিংস্র রমণীগণ রণসংগীত গেয়ে চলছিল কুরাইশ সৈন্যদের উত্তেজিত করতে। পক্ষান্তরে মুসলমানরা যখন যুদ্ধের জন্যে যাত্রা করেছিল, তখন তাদের সংখ্যা ছিল এক হাজারের মতো। এরপরও কিছুদূর গিয়ে তিন শ’ মুনাফিক আলাদা হয়ে গেল। এবার বাকী থাকলো শুধু সাত শ’ মুসলমান। তদুপরি যুদ্ধের সামানপত্র ছিল কম এবং এক তৃতীয়াংশ সৈন্যও গেল বিচ্ছিন্ন হয়ে। এই নাজুক পরিস্থিতিতে কিছু লোকের মনোবল ভেঙ্গে পড়তে লাগলো। এ সময় শুধু আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তার সাহায্যের ওপর ভরসাই মুসলমানদেরকে দুশমনদের মুকাবেলায় এগিয়ে নিয়ে চললো। এ উপলক্ষে হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদেরকে যে শান্তনা প্রদান করেন, আল্লাহ তা নিম্নোক্ত ভাষায় উল্লেখ করেছেন-
‘স্মরণ করো, যখন তোমাদের দুটি দল সাহস হারাবার উপক্রম হলো, অথচ আল্লাহ তাদের সাহায্যকারী ছিলেন, আর আল্লাহর উপরই ভরসা করা মুমিনদের উচিত। বস্তুতঃ আল্লাহ বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল। কাজেই আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো। আপনি যখন বলতে লাগলেন মুমিনগণকে- তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের সাহায্যার্থে তোমাদের পালনকর্তা আসমান থেকে অবতীর্ণ তিন হাজার ফেরেশতা পাঠাবেন। অবশ্য তোমরা যদি সবর কর এবং বিরত থাক আর তারা যদি তখনই তোমাদের উপর চড়াও হয়, তাহলে তোমাদের পালনকর্তা চিহ্নিত ঘোড়ার উপর পাঁচ হাজার ফেরেশতা তোমাদের সাহায্যে পাঠাতে পারেন। বস্তুতঃ এটা তো আল্লাহ তোমাদের সুসংবাদ দান করলেন, যাতে তোমাদের মনে এতে শান্তনা আসতে পারে। আর সাহায্য শুধুমাত্র পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানী আল্লাহরই পক্ষ থেকে।’ [সূরা আলে ইমরান : ১২২-১২৬]
৬২৫ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি, তৃতীয় হিজরীর ১১ শাওয়াল (মতান্তরে ১৫ শাওয়াল) শনিবার মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহুদের ময়দানে পৌঁছেন। স্বল্পসংখ্যক সৈন্য নিয়ে বিরাট শত্রুবাহিনীর মুখোমুখী হতে হবে বিধায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সূক্ষ কৌশল অবলম্বন করলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রা. এর নেতৃত্বে পঞ্চাশ জনের একটি তীরান্দাজ বাহিনী সংকীর্ণ গিরিসংকুল পথে মোতায়েন করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোর হুঁশিয়ারী দিলেন, যাতে তারা যেন কোন অবস্থাতেই উক্ত স্থান পরিত্যাগ না করে, যদিও বা বাকী সৈন্যরা এমনকি তিনি স্বয়ং শহীদও হন। কেননা তাদের সামান্য অনুপস্থিতির সুযোগে পিছন দিক থেকে শত্রু সৈন্যদের আক্রমণের যথেষ্ঠ সম্ভাবনা ছিল।
আক্রমণ শুরু হল। কাফেরদের পক্ষ থেকে তালহা প্রচণ্ড দম্ভভরে মুসলমানদের কটাক্ষ করতে করতে ময়দানে নামা মাত্রই শেরে খোদা হযরত আলী রা. তরবারির এক আঘাতে তাকে দ্বিখণ্ডিত করে তার দম্ভের জবাব দিলেন। অতঃপর তালহার পুত্র ওসমান অগ্রসর হলে মহাবীর হামজা রা. তদ্রুপ জবাব দিলেন।
এরপর শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। মুসলিম বাহিনী আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে শত্রু নিধন করতে করতে অগ্রসর হতে থাকে, আর শত্রুপক্ষ বিপর্যস্ত হয়ে পিছনে হটতে থাকে; এমনকি উত্তেজনা সৃষ্টিকারী নারী বাহিনী তাদের রণসংগীত ভঙ্গ করে পশ্চাদ্ধাবন করতে থাকে। রণাঙ্গণে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুপ্রেরণায় যে মুহূর্তে মুসলমানদের বিজয় সুনিশ্চিত হয়ে ওঠেছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে আকস্মাৎ যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেল, জয়-পরাজয়ে পরিবর্তন ঘটে গেল।
দুর্ভাগ্যক্রমে মুসলমানরা এ বিজয় ধরে রাখতে পারলেন না। আল্লাহর উপর সুগভীর বিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে দৃঢ় চিত্ততায় একতাবদ্ধ হয়ে স্বল্প সংখ্যক সৈন্য নিয়ে বিশাল বাহিনীর মোকাবেলা করে বিজয় যখন হাতের মুঠোয় এবং কুরাইশরা প্রচণ্ড মার খেয়ে যখন পশ্চাদ্ধাবনরত; ঠিক সেই সময়ে মুসলমানদের এক অংশ বিজয় হয়েছে ভেবে গনিমতের মাল সংগ্রহে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে পেছন দিক থেকে শত্রুর আক্রমণকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য যে তীরান্দাজ বাহিনীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোর হুঁশিয়ারী দিয়েছিলেন, যেন তারা কোন অবস্থাতেই এই নির্ধারিত স্থান ত্যাগ না করে, তারাও অন্যদের অনুসরণ করে গিরি-উপত্যকা ত্যাগ করে শত্রুপক্ষের ফেলে যাওয়া মাল সংগ্রহে লিপ্ত হয়ে যায়। খালিদ বিন অলীদ তখন কাফির সৈন্যদের একজন অধিনায়ক। সে এই সুবর্ণ সুযোগ কে পুরোপুরি কাজে লাগানো এবং পাহাড়ের পেছন দিক দিয়ে ঘুরে গিয়ে সুড়ঙ্গ-পথে মুসলমানদের ওপর হামলা করলো। হযরত আবদুল্লাহ এবং তার ক’জন সঙ্গী শেষ পর্যন্ত সুড়ঙ্গ পথের প্রহরায় ছিলেন, তাদের অধিকাংশই এই হামলার মুকাবেলা করলেন। কিন্তু কাফের দের এই প্রচণ্ড হামলাকে তারা প্রতিহত করতে পারলেন না। তারা শহীদ হয়ে গেলেন। অতঃপর দুশমনরা একে একে মুসলমানদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। ওদিকে যে সব পলায়নপর কাফির দূর থেকে এই দৃশ্য দেখছিল, তারাও আবার ফিরে এলো। এবার দুদিক দিয়ে মুসলমানদের ওপর হামলা শুরু হলো। এই অভাবিত পরিস্থিতিতে মুসলমানদের মধ্যে এমন আতঙ্কের সঞ্চার হলো যে, যুদ্ধের মোড়ই সম্পূর্ণ ঘুরে গেলো। মুসলমানরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এদিক ওদিক পালাতে লাগলেন।
এতদসত্তেও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দলীয় সৈন্যদের যুদ্ধক্ষেত্র পরিত্যাগ না করে আক্রমণ প্রতিহত করার আহ্বান জানান। কিন্তু শত্রুপক্ষের প্রচণ্ড আক্রমণের কারণে তারা পিছু হটতে বাধ্য হন। তথাপি তারা থেমে থাকেননি। পর্যায়ক্রমে এক একজন বীর সেনানী অগ্রসর হয়ে শত্রুপক্ষের সৈন্যকে পিছনে হটাতে থাকে। এ সময় রণাঙ্গনে গুজব রটে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শহীদ হয়েছেন। এই একটি খবরে যুদ্ধরত দু’শিবিরে দু’ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শহীদ হওয়ার খবরে মুসলিম বাহিনী বে-পরোয়াভাবে শত্রুর মোকাবেলায় তৎপর হয়ে ওঠে। তারা ভাবলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি বেঁচে না থাকেন তাহলে আমাদের বেঁচে থাকার যুক্তি নেই। তার চাইতে শাহাদত বরণই শ্রেয়। অন্যদিকে কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাহাদতকে বিজয় মনে করে যুদ্ধ চালনা অনাবশ্যক মনে করল। তদুপরি সংখ্যায় নগণ্য হলেও মুসলমানদের প্রতিরোধের মুখে কুরাইশ বাহিনী মদীনার দিকে অগ্রসর না হয়ে পিছনে ফিরে মক্কার দিকে চলল এবং তাদের নেতা আবু সুফিয়ান হুমকি দেয় “আমি প্রতিশোধ নিয়েছি, আগামী বছর নতুন করে বদর প্রান্তরে তোমাদের সঙ্গে আবার দেখা হবে।”
ওহুদ যুদ্ধে কারা জয়ী হয়েছে- তা সত্যিই বিতর্কিত। কেননা বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হয় মুসলমানদেরই পরাজয় হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মুসলমানদের পরাজয় ঘটেনি বরং হয়েছে অর্জন। সে সম্পর্কিত কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো-
০১. নেতার আদেশ মান্য করলে তা হয় কল্যাণকর আর লংঘন করলে অকল্যাণ বয়ে আনে, তা মুসলমানগণ যুগপৎভাবে অনুধাবন করেছিলেন। যার ফলে ভবিষ্যতে আর এর পুনারাবৃত্তি ঘটেনি।
০২. পার্থিব লোভ-লালসার কারণে নিজ সম্পদও যে হাতছাড়া হয়ে যায় ওহুদের যুদ্ধ এই শিক্ষাই দেয়।
০৩. এই যুদ্ধে মুসলমানগণ বহু আকাংখিত শাহাদতের মৃত্যু লাভের সুযোগ পান।
০৪. কারা প্রকৃত মুসলিম আর কারা মুনাফিক তা ওহুদ রণাঙ্গন থেকেই স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়ে যায়।
০৫. বিজয় অর্জনের চাইতে তা ধরে রাখা যে অধিকতর কঠিন ও সুফল দায়ক এবং এ লক্ষ্যে যুদ্ধ জয়ের পূর্বদিন অপেক্ষা পরের দিন বেশি সতর্কতাবস্থায় থাকতে হয়, এ যুদ্ধ থেকে মুসলমানগণ এই শিক্ষা অর্জন করেন।
০৬. নিরবছিন্ন বিজয় কোন জাতির ভাগ্যেই আসে না। জয়-পরাজয়, সুখ-দুঃখ, জাগতিক জীবনে অবশ্যম্ভাবী এবং ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সাথে যে এসবের মোকাবেলা করতে হয় এ শিক্ষাও তারা এখান থেকে পান।
০৭. ‘দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় না মহীতে’। অনায়াসলব্ধ বস্তুর কদর অপেক্ষাকৃত কম। এরূপ প্রাপ্তি অলসতার জন্ম দেয়। কাজেই ওহুদ যুদ্ধের দুর্লভ প্রাপ্তি পরবর্তী বিজয়সমূহের পথ সুগম করে দেয়।
০৮. আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছা- ‘কাফিররা ধ্বংস হোক মুসলমানদের মোকাবেলায়’। কাজেই প্রতি যুদ্ধেই যদি কাফেররা পরাজিত হয় তাহলে তো তারা সম্মুখ সমরে না এসে দূর থেকে অথবা লুক্কায়িত থেকে ইসলামের অনিষ্ট সাধন করতে থাকবে। এ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করলে ওহুদের পরাজয় বিফলে যায়নি।
০৯. সাহাবীগণের ন্যায় অতুলনীয় ভক্তবৃন্দকে প্রতিনিয়ত বিশেষ বিশেষ সংকটের সম্মুখীন হতে হয়েছে পরবর্তী জীবনে এবং সে সব সংকটকালে তাঁদের কি করণীয় তার শিক্ষা নেয়ার সুযোগ হয়েছিল ওহুদ রণাঙ্গণের অংশ বিশেষ থেকে।
১০. ব্যর্থতায় বিমর্ষতা আর সাফল্যে অতি হর্ষোৎফুল্লতা যে অকল্যাণ বয়ে আনে এর প্রমাণ ওহুদ যুদ্ধ।
১১. ওহুদ যুদ্ধে সত্তর জন মুসলিম শহীদ হন, কিন্তু কেউ-ই বন্দী হননি। পক্ষান্তরে বদর যুদ্ধে কাফেরদের সত্তর জন নিহত ও সত্তর জন বন্দী হয়েছিল। এ প্রেক্ষিতে প্রশ্ন- কুরাইশরা কি আদৌ জয় লাভ করেছিল?
১২. বিজয়ের মূল্যায়ন সম্মুখ পানে অগ্রসর হওয়া। কিন্তু এক্ষেত্রে কুরাইশরা পেছন দিকে অর্থাৎ মক্কার দিকে রওয়ানা দেয়। পক্ষান্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ওহুদের ময়দানে তিনদিন অবস্থান করে শহীদদের দাফন-কাফনসহ বহু প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করেন।
১৩. কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানের হুমকি- “আমি প্রতিশোধ নিয়েছি, আগামী বছর নতুন করে বদর প্রান্তরে তোমাদের সঙ্গে আবার দেখা হবে।” এটা কোন ক্রমেই বিজেতার উক্তি হতে পারে না।
১৪. মুসলিমরা যদি পরাজিতই হবে, তাহলে কুরাইশরা মদীনা দখল না করেই ফিরে যাবে কেন?
পরিশেষে, যদিও ঐতিহাসিকগণ ওহুদের জয়-পরাজয়ের বিষয়টি বিতর্কিত বলে আখ্যায়িত করেছেন, তথাপি উপরের আলোচনার আলোকে এটাকে মুসলিমদের পরাজয় বা কুরাইশদের নিরঙ্কুশ বিজয় বলে ধরে নেয়া যায় না। একথা ঠিক যে, এই যুদ্ধে মুসলমানগণ যথেষ্ট ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আল্লাহর তরফ থেকে পরীক্ষিত হয়েছিলেন। সোনা যেমন আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়, তেমনি মুসলমানগণ এই যুদ্ধ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে খাঁটি সোনায় রূপান্তরিত হন। কাজেই ওহুদ যুদ্ধের প্রাপ্তি ন্যূনতম হলেও অন্তর্নিহিত প্রাপ্তির গুরুত্ব অপরিসীম।
এ প্রেক্ষাপটে নির্দ্বিধায় বলে দেয়া যায়- এটা মুসলমানদের জয়-পরাজয় নয় বরং ‘অর্জন’। আর এই অর্জনের ফল হয়েছিল সুদূরপ্রসারী।
১৪
২৪ মন্তব্য