Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ আগস্ট, ২০২৫ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

শিক্ষকবাতায়ন আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের বাতিঘর।(শিক্ষক বাতায়ন নিয়ে একটি লেখা। অনেক আগের পুরাতন ভার্সন নিয়ে লেখা

(শিক্ষক বাতায়ন নিয়ে একটি লেখা। অনেক আগের পুরাতন ভার্সন নিয়ে লেখা 

#শিক্ষকবাতায়ন আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের বাতিঘর। 

আমাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবন সমাজ ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে। অনেক সময়ই শিক্ষার্থীরা তাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাকে মিলাতে পারে না। পরিবর্তনশীল সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর এই নানা মূখী চাহিদা পূরণ করা এবং  শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম সংশ্লিষ্ট্য মন্ত্রনালয়ের সাথে শিক্ষাক্ষেত্রে উদ্ভাবন নিয়ে প্রায় এক যুগ ধরে কাজ করে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, সময়োপযোগী শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভবিষৎ চাহিদার সাথে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার যোগসুত্র স্থাপনে কাজ করে চলেছে এটুআই।

 ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে এটুআই  এর যুগান্তকারী কিছু শিক্ষা উপকরণ হলো সহজ আনন্দময় ও ফলপ্রসু শিক্ষা নিশ্চিত করতে মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন বাড়াতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম,সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে মুক্তপাঠ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীসহ সকলের একীভূত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে মাল্টিমিডিয়া টকিং,যথাযথ মনিটরিং ও ব্যবস্থাপনার জন্য ক্লাসরুম মনিটরিং ড্যাশবোর্ড এবং উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শিক্ষকদের মাঝে কন্টেন্ট ও আইডিয়া আদান প্রদানের জন্য শিক্ষক বাতায়ন।

মূলত একুশ শতকের শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজন একুশ শতকের শিক্ষাব্যবস্থা: আর এই একুশ শতকের শিক্ষাব্যবস্থায় নেতৃত্ব দিতে প্রয়োজন একুশ শতকের শিক্ষক। তাই শিক্ষকদের উপর আস্থা রেখে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে এবং শিক্ষকদের দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে, প্রায় চার লক্ষ শিক্ষকের একটি মহিরূহ প্রতিষ্ঠান "শিক্ষক বাতায়ন"। 

"শিক্ষক বাতায়ন " একটি অনুপ্রেরণার নাম, একটি সুস্থ প্রতিযোগীতার নাম। সর্বস্তরের শিক্ষকরা তাদের মনে মাধুরী মিশিয়ে ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে শিক্ষক বাতায়নে আপলোড করতে পারেন। শিক্ষক বাতায়নে আপলোডকৃত কন্টেন্ট এর প্যাডাগজীক্যাল দিক,শ্রণি ও পাঠ উপযোগীতা এবং মান দেখে  প্রতি সপ্তাহে তিনজন সেরা শিক্ষক ঘোষনা করে কাজের স্বীকৃতি প্রদান করা হচ্ছে এবং বছর শেষে সব সেরা শিক্ষকদেরকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে শিক্ষক সম্মেলনের করে পুরুষ্কার প্রদান করা হয়, ফলে শিক্ষকরা তাদের কষ্টের কাজের স্বীকৃতি পাবার লক্ষে কে কার থেকে মানসম্পন্ন কন্টেন্ট তৈরি করতে পারে, সে প্রতিযোগীতা করে যাচ্ছে এবং শিক্ষক বাতায়নকে ডিজিটাল কন্টেন্ট দিয়ে সমৃদ্ধ করছেন আর এভাবেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে

" ক্লাসের পড়া ক্লাসে শেষ, 

বাসায় থাকবো মজায় বেশ,

মাল্টিমিডিয়ার বাংলাদেশ"। 

তথা শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শতভাগ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে শিক্ষক বাতায়নের মাধ্যমে কাজ যাচ্ছে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)।

বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রশাসনের সর্বক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন। দেশের প্রতিটি স্তর এবং সেক্টর বর্তমানে গুটি গুটি পায়ে ডিজিটালাইজেশন এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

এই ক্ষেত্রে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে শিক্ষা বিভাগ বহুলাংশে এগিয়ে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরিচালিত (বর্তমানে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ) এটুআই এর শিক্ষক বাতায়ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে,গতানুগতিক শিক্ষাদানে বা পাঠদানে আমুল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এই শিক্ষক বাতায়ন। ইতিমধ্যে সরকার TQI-SEP প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে ICT এবং Digital Content Development এর উপর প্রায় সব শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করেছেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডয়া ক্লাস পরিচালনা করার জন্য ল্যাপটপ,  প্রজেক্টর, মডেম, সীম সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শেখ ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করেছেন, যাতে করে প্রশিক্ষিত শিক্ষকগন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে লব্ধ জ্ঞান প্রয়োগ করে গুনগত মানসম্পন্ন শ্রণি উপযোগী ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে পাঠদান করতে সক্ষম হন এবং নিজের সে কন্টেন্ট অন্যান্য শিক্ষকগন পাঠদান করতে পারেন সে লক্ষ্যে নিজেদের কন্টেন্ট তাঁরা শিক্ষক বাতায়নে আপলোড দেন এবং নিজেরাও অন্যান্য শিক্ষকদের কন্টেন্ট ডাউনলোড করে শ্রণি কার্য্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন,যার ফলশ্রুতিতি দেশের শিক্ষক সমাজে পরিবর্তনের পাশাপাশি পঠন-পাঠন প্রক্রিয়ার আমুল আধুনিকতার ছোঁয়া লাগছে।

কাজেই এটি নিংসন্দে বলা যায় যে শিক্ষক বাতায়ন শিক্ষকতা পেশা এবং দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্টের বাতিঘর।

শিক্ষক বাতায়নের কারণে অধিকতর পিছিয়ে পড়া শিক্ষকগনও তাদের কর্মকান্ডে গতি নিয়ে এসেছেন, অগ্রসর শিক্ষকদের সহায়তায় তারা শিক্ষক বাতায়নের সদস্য হয়ে প্রয়োজনী ক্লাস সেখান থেকে ডাউনলোড করে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে শিক্ষক বাতায়ন।শিক্ষক বাতায়ন হল শিক্ষকদের একটি ওয়েবপোর্টাল যেখানে শিক্ষকগন তাদের তৈরিকৃত কন্টেন্ট আপলোড করতে পারেন, প্রয়োজনীয় কন্টেন্ট দেখে করতে পারেন এবং কন্টেন্টে রেটিং দিতে পারেন। শিক্ষক বাতায়নের ওয়েব এড্রেস হল https://www.teachers.gov.bd ব্রাউসারের এড্রেসবারে লিখে ক্লিক করলেই শিক্ষক বাতায়নের ওয়েব পেইজ দেখা যায়। 

https://www.teachers.gov.bd ব্যবহার করে যে কেহ সহজে শিক্ষক বাতায়নে প্রবেশ করে যে কোন বিষয়ের যে কোন শ্রেণির কন্টেন্ট ডাউনলোড করতে পারেন তবে কোন বিষয় বা কন্টেন্ট আপলোড করতে চাইলে বা ব্লগে মতামত বা পরামর্শ দিতে চাইলে শুধুমাত্র শিক্ষকেরা Register এ ইমেল এবং পাশওয়ার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরন করে সদস্য হতে হবে। সদস্য হবার পর ইউজার আইডি ও পাশওয়ার্ড দিয়ে লগইন এর মাধ্যমে শিক্ষক বাতায়নে প্রবেশ করতে হবে।

শিক্ষক বাতায়ন ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্টের বাতিঘর। বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ের প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রণি পর্যন্ত সদস্যদের আপলোড কন্টেন্ট সংখ্যা প্রায় ১,৬০০০০ টি,প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে।  মডেল কন্টেন্ট সংখ্যা ৯৪৩ টি যা বাতায়ন কতৃপক্ষ মডেল কন্টেন্ট নির্মাতাদের মাধ্যমে নির্মান করেছেন।বর্তমানে শিক্ষক বাতায়নের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩৫০০০০ জন, প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে।

 শিক্ষক বাতায়নে প্রতিনিধিত্ব করণের জন্য একজন শিক্ষককে ০৮ টি মানদন্ডের নিরিখে এটুআই কতৃক ICT4E  জেলা অ্যাম্বাসেডর হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। সারা বাংলাদেশে ১২০০ জন দক্ষ শিক্ষককে জেলা অ্যাম্বাসেডর করেছেন বাতায়ন কতৃপক্ষ।  চট্টগ্রাম জেলায় এই সংখ্যা ৩৭ জন।

শিক্ষকরা বাতায়নে আপলোড করেন চিত্র, প্রেজেন্টেশন, ভিডও, অ্যানিমেশন, ডকুমেন্টারি, অডিও। বাতায়ন ব্লগ অংশে বাতায়নের সদস্যগন বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ প্রদান করতে পারেন, এক সদস্যের ব্লগে অন্য সদস্যরা কমেন্টস এর মাধ্যমে মতামত বক্ত করতে পারেন।ব্লগের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্থা থাকায় বাতায়ন কতৃপক্ষ সে পরামর্শ কাজে লাগিয়ে বাতায়নকে সমৃদ্ধ করেন।

ব্লগ লেখা, কন্টেন্ট আপলোড, ডাউনলোড ছাড়াও শিক্ষকরা বাতায়নের মাধ্যমে আরো জানতে পারছেন,

*টেকসই উন্নয়নে BRTC দেশ সমূহের অবস্থা,

 *বিশ্বের নানা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের তথ্য ও উপাত্ত,

* বৈশ্বিক বিষয়াবলী,

* গ্লোবাল ড্যাশবোর্ড,

*মুক্তপাঠের বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করা।

*বাতায়ন আর্কাইভ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।

* শিক্ষক বাতায়ন ই ম্যাগাজিন প্রতি দুই মাসে একবার প্রকাশিত হয়, যেখানে বাতায়নের সদস্যদের বিভিন্ন লেখা প্রকাশ করা হয়।

*খোলা জানালার পিনআপ ব্লগের মাধ্যমে বাতায়ন কতৃপক্ষের বিভিন্ন নোটিশ ও সিদ্বান্তের কথা বাতায়নের সদস্যেরা জানতে পারেন।

*আরো নানা তথ্য জানার সুযোগ আছে এই শিক্ষক বাতায়নে।

শিক্ষাকে অনেক বেশি আনন্দময়,সহজবোধ্য ও শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক করে তোলা আমাদের সমৃদ্ধ দেশ গড়ার অন্যতম পূর্বশর্ত। বর্তমানে সকল উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশেই শিক্ষা কাঠামোকে আধুনিক চাহিদা অনুযায়ী ঢেলে সাজানো প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়,যার ব্যতিক্রম বাংলাদেশেও নয়। সারা দেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই সম্ভব হবে সারা দেশে এক যোগে আসিটির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার প্রধান কান্ডারী শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিখন-শেখানো কার্য্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম করে তোলা। শিক্ষকগনকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মাধ্যমে ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহার করে শ্রেণি কার্যক্রম দক্ষ করে গড়ে তোলার কাজে ভূমিকা রাখছে শিক্ষক বাতায়ন।।

এডিটকৃত 

মহিউদ্দিন ওসমানী

মেহেরুন নেছা ফয়েজ উচ্চ বিদ্যালয়

মিরসরাই, চট্টগ্রাম,

তথ্য সূত্র 

শিক্ষক বাতায়ন, 

অধ্যক্ষ গোলাম নুর স্যার 

সদস্য শিক্ষক বাতায়ন।

মন্তব্য করুন