ইলিশ মাছের
উপকারিতা ও অপকারিতা
ইলিশের প্রতি বাঙালির ভালোবাসা তুলনাহীন।
বর্ষায় ইলিশ ভাজা, ইলিশের ভর্তা, শর্ষে ইলিশ, ভাপা ইলিশ, ইলিশ পাতুরি, দই ইলিশ, পান্তা
ইলিশ, ইলিশের ডিম ছাড়া যেন বাঙালির রসনায় তৃপ্তি আসে না। ইলিশ মাছ স্বাদে যেমন অতুলনীয়,
তেমনি পুষ্টি উপাদানেও ভরপুর।
প্রতি ১০০ গ্রাম ইলিশে রয়েছে ২৫ গ্রাম
প্রোটিন, ২০৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ৩ দশমিক ৩৯ গ্রাম শর্করা,
২ দশমিক ২ গ্রাম খনিজ ও ১৯ দশমিক ৪ গ্রাম চর্বি। আরও রয়েছে উচ্চ পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি
অ্যাসিড, নায়সিন, ট্রিপ্টোফ্যান, ভিটামিন বি১২, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ
অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেলস।
উপকারিতা-
- ইলিশে অন্যান্য মাছের তুলনায় স্যাচুরেট চর্বির পরিমাণ
কম ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি (ইপিএ ও ডিএইচএ) অ্যাসিড বেশি থাকে, যা রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড
কমিয়ে দ্রুত ভালো চর্বি বাড়াতে সাহায্য করে। এতে হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে।
- ইলিশের ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের কারণে শরীরে
রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। এতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
- ইলিশের ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অস্টিওআর্থ্রাইটিস
ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বেশ ভালো কাজ করে। এ ছাড়া চর্বিসংক্রান্ত সব সংক্রমণ
নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।
- ইলিশের ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ৪০ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের
দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। ইলিশে থাকা ভিটামিন ‘এ’ রাতকানা রোগ প্রতিরোধে
সাহায্য করে।
- ইলিশে এল-আরজিনিন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে, যা
মাংসপেশি ও টিস্যু তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ইলিশে যে প্রোটিন থাকে, তা কোলাজেনসমৃদ্ধ। কোলাজেন
হচ্ছে অদ্রবণীয় প্রোটিন, যা কোষের যোগাযোগক্ষমতা বাড়িয়ে কোষের সার্বিক কার্যকারিতা
বাড়ায়। এ ছাড়া ইলিশে ভিটামিন সি থাকে, যা ত্বক সুস্থ রাখে। এর কোলাজেন ত্বকের
তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
- ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় ইলিশ পেটের সমস্যা
যেমন আলসার, কোলাইটিস ইত্যাদি কমাতে সাহায্য করে।
- মানুষের মস্তিষ্কের ৬০ ভাগই চর্বি (ফ্যাট) থাকে।
ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। ওমেগা ৩ ছাড়াও ইলিশে আছে
ভিটামিন বি১২, যা স্নায়ুকোষকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি কমায়।
- ইলিশ ভিটামিন ডির ভালো উৎস। ভিটামিন ডি মানবদেহে
ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
- ইলিশে থাকা আয়োডিন, জিংক ও পটাশিয়ামের মতো বিভিন্ন
খনিজ উপাদান রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে, কোষের সংক্রমণ কমাতে ও থাইরয়েড হরমোন
নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- বহু গবেষণায় দেখা গেছে, সামুদ্রিক মাছ ফুসফুসের স্বাস্থ্য
ভালো রাখতে কার্যকর। শিশুদের ক্ষেত্রে হাঁপানি রোধ করতে পারে ইলিশ। যাঁরা নিয়মিত
মাছ খান, তাঁদের ফুসফুস অনেক বেশি শক্তিশালী হয়।
- ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অবসাদের মোকাবিলা করতে পারে।
সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার (এসএডি), পোস্ট–ন্যাটাল ডিপ্রেশন (সন্তান প্রস্রব–পরবর্তী
বিষণ্নতা) কাটাতে সাহায্য করে ইলিশ মাছ।
শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিতেও ইলিশ বাংলাদেশের
সেরা। বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন মাছের মধ্যে ইলিশে সবচেয়ে বেশি পুষ্টিগুণ আছে। এটা বিজ্ঞানীরা
বারবার প্রমাণ করেছেন। এত পরিমিত পরিমাণে ও নানা ধরনের পুষ্টিকর উপাদান বিশ্বের খুব
কম মাছের মধ্যেই আছে। ১০০ গ্রাম ইলিশ মাছে আনুমানিক ৩১০ ক্যালরি, ২২ গ্রাম প্রোটিন
ও ১৯ দশমিক ৫ গ্রাম ফ্যাট থাকে।
১. হৃদরোগ প্রতিরোধ: ইলিশে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
রক্তের কোলেস্টেরল মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
২. মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য: ইলিশ মাছের পুষ্টি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে
এবং আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
৩. আথ্রাইটিস: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে, যা আথ্রাইটিস
বা জয়েন্টের প্রদাহজনিত ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করতে পারে।
৪. দৃষ্টিশক্তি রক্ষা: ইলিশে থাকা উপাদানগুলো চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে এবং
বয়সজনিত দৃষ্টিশক্তির সমস্যা প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।
- ইলিশে অন্যান্য মাছের তুলনায় স্যাচুরেটেড চর্বির
পরিমাণ কম ও ওমেগা৩ ফ্যাটি (ইপিএ ও ডিএইচএ) অ্যাসিড বেশি থাকে, যা রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড
কমিয়ে দ্রুত ভালো চর্বি বাড়াতে সাহায্য করে। এতে হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে।
- ইলিশের ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের কারণে শরীরে রক্ত
সঞ্চালন ভালো হয়। এতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
- ইলিশের ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অস্টিওআর্থ্রাইটিস
ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস নিরাময়ে বেশ ভালো কাজ করে। এ ছাড়া চর্বিসংক্রান্ত সব
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।
- ইলিশের ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের
দৃষ্টিশক্তি ভালো
রাখতে সাহায্য করে। ইলিশে থাকা ভিটামিন এ রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অবসাদের মোকাবিলা করতে পারে।
সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডার (এসএডি), পোস্ট-ন্যাটাল ডিপ্রেশন (সন্তান প্রসব-পরবর্তী
বিষণ্নতা) কাটাতে সাহায্য করে ইলিশ মাছ।
- ইলিশে এল-আরজিনিন নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে,
যা মাংসপেশি ও টিস্যু তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ইলিশের প্রোটিন কোলাজেনসমৃদ্ধ। কোলাজেন হচ্ছে অদ্রবণীয়
প্রোটিন, যা কোষের যোগাযোগক্ষমতা বাড়িয়ে কোষের সার্বিক কার্যকারিতা বাড়ায়। এ ছাড়া
ইলিশে ভিটামিন সি থাকে, যা ত্বক সুস্থ রাখে। এর কোলাজেন ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে
সাহায্য করে।
·
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ে ইলিশ মাছে
·
ইলিশ মাছ খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি রয়েছে এর অধিক পুষ্টিগুণ।
এই মাছ খেলে বেশকিছু রোগের ঝুঁকি কমে। ইলিশের মধ্যে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং
অন্যান্য পুষ্টি উপাদান স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সতর্কতা
ইলিশ খেলে কারও কারও শরীরে অ্যালার্জি
বা গ্যাসের উদ্রেক হতে পারে। এ রকম সমস্যা থাকলে তাঁদের এ মাছ এড়িয়ে চলাই ভালো।
সূত্রঃ
অনলাইন
বিনীত নিবেদক
মোঃ সাখাওয়াত হোসেন
প্রভাষক
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
বিভাগ,
আগানগর ডিগ্রি কলেজ,
বরুড়া, কুমিল্লা।
ICT4E
District Ambassador at a2i (Cumilla District)
Best
Content Developer at a2i.
৫৩
৯১ মন্তব্য