সহকারী শিক্ষক
২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪১. আর তাদের জন্য এক নিদর্শন এই যে, আমরা তাদের বংশধরদেরকে বোঝাই নৌযানে আরোহণ করিয়েছিলাম(১);
(১) এখানে الفُلك দ্বারা নূহ আলাইহিস সালাম এর নৌকাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। [ইবন কাসীর, কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া(৪১) ওদের জন্য এক নিদর্শন এই যে, আমি ওদের বংশধরদেরকে বোঝাই জলযানে আরোহণ করিয়েছিলাম; [1]
[1] এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা নিজের অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করছেন যে, তিনি তোমাদের জন্য সমুদ্রে নৌকাসমূহ (জাহাজ) চলাচল সহজ করে দিয়েছেন, এমনকি তোমরা নিজেদের সাথে ভরা জাহাজে আপন সন্তান-সন্ততিকেও নিয়ে যাও। দ্বিতীয় অর্থ এও করা হয়েছে যে, ذُرِّيَّةٌ (বংশধর) বলতে উদ্দেশ্য হল পিতৃপুরুষদের বংশধর এবং ‘বোঝাই জলযান’ বলতে নূহ (আঃ)-এর জাহাজকে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ নূহ (আঃ)-এর জাহাজে যে সকল লোকদেরকে উঠানো হয়েছিল, পরে তাদের থেকেই মানুষের বংশ বৃদ্ধি হয়েছে। সত্যপক্ষে মনুষ্য-বংশের পিতৃপুরুষ তাতে সওয়ার ছিল।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪২. এবং তাদের জন্য অনুরূপ যানবাহন সৃষ্টি করেছি যাতে তারা আরোহণ করে।(১)
(১) বাক্যের অর্থ এই যে, মানুষের আরোহণ ও বোঝা বহনের জন্য কেবল নৌকাই নয়, নৌকার অনুরূপ আরও যানবাহন সৃষ্টি করেছি। আরবরা তাদের প্রথা অনুযায়ী এর অর্থ নিয়েছে উটের সওয়ারী। কারণ, বোঝা বহনে উট সমস্ত জন্তুর সেরা। বড় বড় স্তুপ নিয়ে দেশ-বিদেশ সফর করে। তাই আরবরা উটকে سَفِيْنَةُ البَرّ অর্থাৎ স্থলের জাহাজ বলে থাকে। [দেখুন: ইবন কাসীর, ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে জাকারিয়া(৪২) এবং ওদের জন্য অনুরূপ যানবাহন সৃষ্টি করেছি, যাতে ওরা আরোহণ করে। [1]
[1] অর্থাৎ, এমন যানবাহন যা নৌকার মতই মানুষ এবং বাণিজ্য-সামগ্রীকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায়। এতে কিয়ামত পর্যন্ত যত প্রকার যানবাহন আবিষ্কৃত হবে সবই এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন উড়োজাহাজ, (মোটর চালিত) জলজাহাজ, ট্রেন, বাস, ট্যাক্সি এবং অন্যান্য যানবাহন।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪৩. আর আমরা ইচ্ছে করলে তাদেরকে নিমজ্জিত করতে পারি; সে অবস্থায় তাদের কোন উদ্ধারকারী থাকবে না এবং তারা পরিত্রাণও পাবে না—
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৪৩) আমি ইচ্ছা করলে ওদেরকে ডুবিয়ে দিতে পারি; সে অবস্থায় ওরা কোন সাহায্যকারী পাবে না এবং ওরা পরিত্রাণও পাবে না--
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪৪. আমার পক্ষ থেকে রহমত না হলে এবং কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগ করতে না দিলে।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৪৪) ওদের প্রতি আমার করুণা না হলে এবং ওদেরকে কিছুকালের জন্য জীবনোপভোগ করতে না দিলে।
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪৫. আর যখন তাদেরকে বলা হয়, যা তোমাদের সামনে ও তোমাদের পিছনে রয়েছে সে ব্যাপারে তাকওয়া অবলম্বন কর(১); যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়,
(১) কাতাদাহ বলেন, এর অর্থ, তাদেরকে বলা হয়, তোমরা তোমাদের পূর্বেকার উম্মতদের উপর যে সমস্ত ঘটনাবলী ঘটেছে, তাদের উপর যে সমস্ত আযাব এসেছে, সে সমস্ত আযাব তোমাদের উপর আসার ব্যাপারে তাকওয়া অবলম্বন কর এবং তোমাদের সামনে যা রয়েছে অর্থাৎ কিয়ামত, সে ব্যাপারেও তাকওয়া অবলম্বন কর। [তাবারী] তবে মুজাহিদ বলেন, তোমাদের পূর্বে বলে, তাদের যে সমস্ত গোনাহ ও অপরাধ ইতোপূর্বে সংঘটিত হয়েছে সেগুলোকে উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। [তাবারী]
তাফসীরে জাকারিয়া(৪৫) যখন ওদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা অগ্রে যা (পাপ বা শাস্তি) আছে ও পশ্চাতে যা (পাপ বা শাস্তি) আছে, তাকে ভয় কর; যাতে তোমরা করুণার পাত্র হতে পার।’ (তখন ওরা তা অগ্রাহ্য করে।)
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪৬. আর যখনই তাদের রবের আয়াতসমূহের কোন আয়াত তাদের কাছে আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৪৬) যখনই ওদের প্রতিপালকের কোন নিদর্শন ওদের নিকট আসে, তখনই ওরা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। [1]
[1] অর্থাৎ, তওহীদ ও রসূলের সত্যতার যে সকল নিদর্শনই তাদের সামনে আসে, তাতে তারা চিন্তা-ভাবনাই করে না যে, তাতে তারা উপকৃত হবে। বরং প্রত্যেক নিদর্শনকে অস্বীকার করাই তাদের স্বভাব।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪৭. আর যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছেন তা থেকে ব্যয় কর। তখন কাফিররা মুমিনদেরকে বলে, যাকে আল্লাহ্ ইচ্ছে করলে খাওয়াতে পারতেন আমরা কি তাকে খাওয়াব? তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছ।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৪৭) যখন ওদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে যে রুযী দান করেছেন, তা হতে ব্যয় কর’,[1] তখন অবিশ্বাসীরা বিশ্বাসীদেরকে বলে, ‘যাকে ইচ্ছা করলে আল্লাহ খাওয়াতে পারতেন, আমরা কেন তাকে খাওয়াব? [2] তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছ।’ [3]
[1] অর্থাৎ, গরীব-মিসকীন এবং অভাবী ব্যক্তিদেরকে দান কর।
[2] অর্থাৎ, আল্লাহ চাইলে তাদেরকে গরীবই করত না, অতএব আমরা তাদেরকে দান করে আল্লাহর ইচ্ছার বিপরীত আচরণ কেন করব?
[3] অর্থাৎ, ‘গরীবদেরকে সাহায্য কর’ এই কথা বলে তোমরা স্পষ্ট ভুল করছ। তাদের এই কথা ঠিক ছিল যে, দারিদ্র্য ও অসচ্ছলতা আল্লাহর ইচ্ছায় ছিল, কিন্তু তাকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করার বাহানা বানিয়ে নেওয়া ভুল ছিল। কারণ তাদেরকে সাহায্য করার আদেশদাতাও তো আল্লাহ ছিলেন। সুতরাং তাঁর সন্তুষ্টি তো গরীব-মিসকীনদেরকে সাহায্য করাতেই নিহিত আছে। কারণ ইচ্ছা এক জিনিস, আর সন্তুষ্টি অন্য এক জিনিস। ইচ্ছার সম্পর্ক সৃষ্টিগত বিষয়সমূহের সাথে এবং তার ফলে যা কিছু ঘটে, তার হিকমত ও যৌক্তিকতা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। আর সন্তুষ্টির সম্পর্ক শরয়ী বিষয়সমূহের সাথে, যা পালন করার আদেশ আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে, যাতে আমরা তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪৮. আর তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, এ প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে?
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৪৮) ওরা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহলে বল, এ প্রতিজ্ঞা কখন পূর্ণ হবে?’
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৪৯. তারা তো অপেক্ষায় আছে এক বিকট শব্দের, যা তাদেরকে আঘাত করবে তাদের বাক-বিতণ্ডাকালে।(১)
(১) কাফেররা ঠাট্টা ও পরিহাসাচ্ছলে মুসলিমদেরকে জিজ্ঞেস করত, তোমরা যে কেয়ামতের প্রবক্তা, তা কোন বছর ও কোন তারিখে সংঘটিত হবে। বর্ণিত আয়াতে তারই জওয়াব দেয়া হয়েছে। তাদের প্রশ্ন বাস্তব বিষয় জানার জন্যে নয়, বরং ঠাট্টা ও পরিহাসের ছলে নিছক চ্যালেঞ্জের ঢংয়ে কুটতর্ক করার জন্য। এ ব্যাপারে তারা একথা বলতে চাচ্ছিল যে, কোন কিয়ামত হবে না, তোমরা খামাখা আমাদের ভয় দেখাচ্ছে। এ কারণে তাদের জবাবে বলা হয়নি, কিয়ামত অমুক দিন আসবে বরং তাদেরকে বলা হয়েছে, তা আসবে এবং প্রচণ্ড শক্তিতে আসবে। জানার জন্য হলেও কেরামতের সন-তারিখের নিশ্চিত জ্ঞান কাউকে না দেয়াই স্রষ্টার সৃষ্টি রহস্যের দাবি ছিল। তাই আল্লাহ তা’আলা এ জ্ঞান তাঁর নবী-রসুলকেও দান করেননি। নির্বোধদের এই প্রশ্ন অনর্থক ও বাজে ছিল বিধায় এর জওয়াবে কেয়ামতের তারিখ বর্ণনা করার পরিবর্তে তাদেরকে হুশিয়ার করা হয়েছে যে, যে বিষয়ের আগমন অবশ্যম্ভাবী। তার জন্যে প্রস্তুতি গ্ৰহণ করা এবং সন-তারিখ খোঁজাখুঁজিতে সময় নষ্ট না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কেয়ামতের খবর শুনে বিশ্বাস স্থাপন করা এবং সৎকর্ম সম্পাদন করাই ছিল বিবেকের দাবি। কিন্তু তারা এমনি গাফেল যে, কেয়ামতের আগমনের পর তারা যেন চিন্তা করার অপেক্ষায় আছে। তাই বলা হয়েছে যে, তারা কেয়ামতের অপেক্ষা করছে। অথচ কিয়ামত আস্তে আস্তে ধীরে-সুস্থে আসবে এবং লোকেরা তাকে আসতে দেখবে, এমনটি হবে না। বরং তা এমনভাবে আসবে যখন লোকেরা পূর্ণ নিশ্চিন্ততা সহকারে নিজেদের কাজ কারবারে মশগুল থাকবে এবং তাদের মনের ক্ষুদ্রতম কোণেও এ চিন্তা জাগবে না যে, দুনিয়ার শেষ সময় এসে গেছে। এ অবস্থায় অকস্মাৎ একটি বিরাট বিস্ফোরণ ঘটবে এবং যে যেখানে থাকবে সেখানেই খতম হয়ে যাবে।
হাদীসে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, লোকেরা পথে চলাফেরা করবে, বাজারে কেনাবেচা করতে থাকবে, নিজেদের মজলিসে বসে আলাপ আলোচনা করতে থাকবে, এমন সময় হঠাৎ শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে। কেউ কাপড় কিনছিল। হাত থেকে রেখে দেবার সময়টুকু পাবে না, সে শেষ হয়ে যাবে। কেউ নিজের পশুগুলোকে পানি পান করাবার জন্য জলাধার ভর্তি করবে এবং তখনো পানি পান করানো শুরু করবে না তার আগেই কিয়ামত হয়ে যাবে। কেউ খাবার খেতে বসবে এবং এক গ্রাস খাবার মুখ পর্যন্ত নিয়ে যাবার সুযোগও পাবে না। [বুখারীঃ ৬৫০৬]
তাফসীরে জাকারিয়া(৪৯) ওরা তো এক মহাগর্জনের অপেক্ষায় আছে যা এদের বাক্-বিতন্ডাকালে ওদেরকে আঘাত করবে। [1]
[1] অর্থাৎ, মানুষ বাজারে কেনা-বেচা এবং স্বাভাবিক অভ্যাস অনুযায়ী কথাবার্তা ও বাক্-বিতন্ডায় ব্যস্ত থাকবে, এমতাবস্থায় হঠাৎ শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে এবং কিয়ামত অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে। এটা হবে প্রথম ফুৎকার, যাকে نَفْخَةُ فَزَعٍ বলা হয়। বলা হয়েছে যে, এর পরে দ্বিতীয় ফুৎকার হবে نَفْخَةُ الصَّعْقِ যাতে আল্লাহ তাআলা ছাড়া সমস্ত জীব মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
৫০. তখন তারা ওসিয়াত করতে সমর্থ হবে না এবং নিজেদের পরিবার-পরিজনদের কাছে ফিরেও আসতে পারবে না।
-
১৪
২৩ মন্তব্য