Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৭:২১ অপরাহ্ণ

আদর্শ নেতৃত্ব হলো এমন একটি গুণ যা মানুষকে তার আচরণের মাধ্যমে প্রভাবিত করে

আদর্শ নেতার গুণাবলি

 মাসুম আলভী
২১ আগস্ট, ২০২৪ ০০:০০শেয়ার
আদর্শ নেতার গুণাবলিছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি

নেতৃত্ব হলো এমন একটি গুণ, যা মানুষকে তার আচরণের মাধ্যমে প্রভাবিত করে সুসংগঠিতভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা ও আত্মবিশ্বাস আর প্রত্যয়ের সঙ্গে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। কিথ ডেভিসের মতে, নেতৃত্ব হলো মানুষের এমন এক ধরনের ক্ষমতা বা গুণ, যা অন্যদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে উৎসাহিত করতে পারে। নেতৃত্ব গুণ হলো মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বা জন্মগত। আর নেতৃত্বকে শাণিত করে জ্ঞানচর্চা ও অনুশীলন।

আদর্শ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে যোগ্য নেতৃত্বের ভূমিকা অপরিহার্য। সঠিক নেতৃত্বের ফলে একটি জাতি তার অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিকসহ সব ক্ষেত্রে উন্নতির চূড়ান্ত শিখরে আরোহণ করতে পারে। আবার দুর্বল বা অযোগ্য নেতৃত্ব জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসে। আমরা যুগে যুগে বহু শাসক দেখেছি, যারা একটি সুশৃঙ্খল জাতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।
কিন্তু নবী ও রাসুলদের রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিসহ ইতিহাসের পরতে পরতে স্বর্ণাক্ষরে লেখা কিছু শাসকের নাম আমরা শুনেছি। যাঁরা যোগ্য নেতৃত্বের আদর্শের প্রতীক। কি সেই গুণাবলি, যা অর্ধ পৃথিবী শাসন করতে পারে? আল্লাহ তাআলা বলেন, সময়ের কসম। নিশ্চয়ই সব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ততায় নিপতিত।
তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎ কাজ করেছে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে। (সুরা : আসর, আয়াত : ১-৩)

নিম্নে যোগ্য নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো

 

প্রয়োজনীয় জ্ঞান

একজন সফল নেতাকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশ অনুধাবন করে সুকৌশলে সব কিছু মোকাবেলা করার মাধ্যমে অনুসারীদের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। এ জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। কেননা এগুলো নেতার শক্তি সঞ্চার করে এবং অনুসারীদের আনুগত্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে, যা কাঁটাযুক্ত পথ চলতে সহজ করে। এ ছাড়া নেতাকে সাংগঠনিক ও অনুসারীদের সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি।

সাংগঠনিক ও অনুসারীদের সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে কাজ অনুযায়ী উপযুক্ত কর্মী বাছাই, বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে কাজ বিভক্তিকরণ, দায়িত্ব বণ্টন, সুসম্পর্কের জন্য যোগাযোগ, কার্যকর সমন্বয় সাধন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারবে না। আর অনুসারীদের শক্তি-সামর্থ্য, চাওয়া-পাওয়া, আনুগত্যের প্রমাণ, মনমানসিকতা ও  চিন্তা-চেতনা বিবেচনায় না নিয়ে কাজ করলে সেই নেতৃত্ব কখনো সফল হতে পারবে না। অনেক ক্ষমতাধর হয়েও নেতৃত্বগুণের অভাবে বহু শাসক ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। এ জন্য যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় জ্ঞান অত্যাবশকীয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, বলো, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান? বিবেকবান লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে। (সুরা : ঝুমার, আয়াত : ৯)

ব্যক্তিত্ববোধ

নেতৃত্বের জন্য ব্যক্তিত্ব খুবই দরকার। ব্যক্তিত্ব হলো ভাবগাম্ভীর্যতা, বুদ্ধিবৃত্তিক বাক্যব্যয়, মোহনীয় আচরণ এবং আন্তরিকতার মতো বিশেষ গুণাবলি। ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে অনুসারীদের মনে শ্রদ্ধাবোধ ও ইচ্ছাশক্তির ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। আলী (রা.) বলেন, মানুষের নেতৃত্বদানের অধিকারী হবে সে, যে তাদের সবার তুলনায় অধিক দৃঢ় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও বেশি শক্তিশালী হবে। (আল-ইসলাম : ২/১৪৮)

আল্লাহ তাআলা বলেন, আর তোমরা নির্বোধদের হাতে তোমাদের ধন-সম্পদ দিয়ো না, যাকে আল্লাহ তোমাদের জন্য করেছেন জীবিকার মাধ্যম।

(সুরা : নিসা, আয়াত : ৫)

দূরদর্শিতা

একজন দক্ষ নেতাকে অবশ্যই প্রজ্ঞাবান ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হতে হবে। কেননা নেতা অতীত ও বর্তমানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনুসারীদের সুস্পষ্ট ধারণা না দিতে পারলে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। একই সঙ্গে জনশক্তি মনোবল হারিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, যা নেতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে। নেতাকে পরিবেশের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য চিন্তা-ভাবনা ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তুমি তোমরা রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং সুন্দরতম পন্থায় তাদের সঙ্গে বিতর্ক করো। নিশ্চয়ই একমাত্র তোমার রবই জানেন কে তার পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি খুব ভালো করেই জানেন। (সুরা : নাহল, আয়াত : ১২৫)

আত্মবিশ্বাস

নিজেকে চিনতে পারলে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। আত্মবিশ্বাস কঠিন পরিস্থিতিতে মনোবল না হারিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। সফলতা অর্জনের জন্য আত্মবিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিকূল পরিবেশে নেতার দৃঢ়বিশ্বাস, আল্লাহর ওপর ভরসা ও সাহায্য কামনা অনুসারীদের সংখ্যা কম হলেও বিজয় সুনিশ্চিত। বদর যুদ্ধে মহানবী (সা.) আত্মবিশ্বাস ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থাশীল হয়ে ৩১৩ জন সৈন্য নিয়ে কাফিরদের এক হাজার সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে নিশ্চিত করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, অতঃপর যখন সংকল্প করবে তখন আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালোবাসেন।

(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

 

ধৈর্যশীল হওয়া

সফল নেতৃত্বের অন্যতম গুণ হলো ধৈর্য ও পরমতসহিষ্ণুতা। প্রতিকূল পরিবেশে নেতাকে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। কখন কোন কাজ করতে হবে, আবার কখন বিরত থাকতে হবে, সেটা জানতে হবে। কিন্তু এই কাজ বড়ই কঠিন। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমার ওপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধরো। নিশ্চয়ই এগুলো অন্যতম দৃঢ় সংকল্পের কাজ।

(সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৭)

 

সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা

সফলতা অর্জনের মহা মন্ত্র হলো যথাসময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। নেতা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত যথাসময়ে গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলে বা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে অনুসারীদের মধ্যে হতাশা বাসা বাঁধে। মহানবী (সা.) ত্বরিত সিদ্ধান্তে হুদায়বিয়ার সন্ধি গৃহীত হয়। সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরিবর্তনে পরিস্থিতি শীতল হয়ে যায়। আবার দেখা যায়, সিদ্ধান্তহীনতায় অনুসারীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে ফেলে দেয়। প্রতিকূল পরিবেশে ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নেতার জন্য আবশ্যক।

 

ন্যায়পরায়ণতা

ন্যায়পরায়ণতা নেতার জন্য একটি আবশ্যক গুণাবলি। অনুসারীদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে না পারলে নেতার গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা হ্রাস পায়। তাই নেতাকে অবশ্যই সৎ, বিশ্বস্ত, ভাষার দৃঢ়তা, কাজে স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি পরিহারসহ আমানত তথা প্রাপ্য ব্যক্তিকে যথাযথভাব বুঝিয়ে দেওয়া আবশ্যক। কারণ কাজের প্রতি নিষ্ঠাই একজন মানুষকে বিজয়ের চূড়ায় পৌঁছে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন আমানত তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে। আর যখন মানুষের মধ্যে ফায়সালা করবে তখন ন্যায়ভিত্তিক ফায়সালা করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কতই না সুন্দর উপদেশ দিচ্ছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

(সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৮)

 

মানবিক ও নমনীয় মনোভাব

নেতাকে অবশ্যই মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধে সচেতন হতে হবে। অনুসারীদের মতামত ও পরামর্শ নম্রচিত্তে গ্রহণ করতে হবে। তারপর পরিস্থিতির আলোকে এগিয়ে যেতে হবে। নেতার একগুয়ে স্বভাব সংগঠনের সুন্দর কর্মপরিবেশ বিনষ্ট করে। 

আল্লাহ তাআলা বলেন, আর যদি তুমি কঠোর স্বভাবের ও কঠিন হৃদয়সম্পন্ন হতে, তাহলে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। সুতরাং তাদের ক্ষমা করো এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। আর কাজকর্মে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করো। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

কোরআন থেকে শিক্ষা

  • পর্ব-৮৭৬
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০০:০০শেয়ার
কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

‘অতএব, আত্মীয়কে দেবে তার হক এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে তাদের জন্য এটা শ্রেয় এবং তারাই সফলকাম।...কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে জাকাত তোমরা দাও তাই বৃদ্ধি পায়, তারাই সমৃদ্ধিশালী। আল্লাহই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদেরকে রিজিক দিয়েছেন, তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন এবং পরে তোমাদের জীবিত করবেন।

তোমাদের দেব-দেবীগুলোর এমন কেউ আছে কি, যে এসবের কোনো কিছু করতে পারে? তারা যাদেরকে শরিক করে, আল্লাহ তা থেকে পবিত্র ও মহান।’ (সুরা : রোম, আয়াত : ৩৮-৪০)

আয়াতগুলোতে আত্মীয়-স্বজনকে সহযোগিতা করার নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

 

১. যারা পাওয়ার জন্য আত্মীয়-স্বজনকে উপহার দেয়, আল্লাহ তাদের উপহারকে ‘সুদ’ (তুল্য) বলেছেন।

২. প্রতিদান পাওয়ার আশায় যে দান বা উপহার দেওয়া হয় তার মাধ্যমে দানের সওয়াব ও বরকত পাওয়া যায় না।

৩. আপনজন ও অসহায় মানুষকে যে সহযোগিতা করা হয় তা দাতার অনুগ্রহ নয়, বরং গ্রহীতার অধিকার।

৪. আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় যে দান ও সদকা করা হয়, আল্লাহ তাতে বরকত দেন এবং বহু গুণ সওয়াব বাড়িয়ে দেন।

৫. বুজুর্গ আলেমরা বলেন, পার্থিব খ্যাতি, সুনাম ও প্রতিদানের আশায় দানসহ যেকোনো ইবাদত করা গোপন শিরক। (বুরহানুল কুরআন : ৩/২৪)

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

প্রশ্ন-উত্তর

  • সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০০:০০শেয়ার
প্রশ্ন-উত্তর

বসে বিয়ের খুতবা দেওয়া

প্রশ্ন : আমি একজন আমেরিকাপ্রবাসী। সেদিন এক বিদেশি বন্ধুর বিয়ের দাওয়াতে গেলে দেখি সেখানকার একজন বৃদ্ধ আলেম বসে বিয়ের খুতবা দিচ্ছেন। বিষয়টি আমার কাছে খটকা লাগলেও এ বিষয়ে জ্ঞান থাকায় চুপ ছিলাম। প্রশ্ন হলো, বসে বিয়ের খুতবা দিলে আদায় হয়?

আব্দুল্লাহ, নিউইয়র্ক

উত্তর : বিয়ের খুতবা দাঁড়িয়ে ও বসে উভয় অবস্থায় পড়া যায়।

দাঁড়িয়ে পড়ার ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এবং দাঁড়িয়ে পড়াই সুন্নত—এ কথার প্রমাণও পাওয়া যায় না। (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ১৮/৩২০, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৬/৬৩)

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

দুঃস্বপ্ন দেখে ভয় পেলে দোয়া

শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০০:০০শেয়ার
দুঃস্বপ্ন দেখে ভয় পেলে দোয়া

উচ্চারণ : আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মা-তি মিন গজবিহি ওয়া ইক্বাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াত্বিনি ওয়া আঁই-ইয়াহদ্বুরুন।

অর্থ : আমি আল্লাহর ক্রোধ ও আজাব থেকে, তাঁর বান্দাদের উপদ্রব থেকে, শয়তানের প্ররোচনা থেকে এবং আমার কাছে শয়তানের আগমন থেকে আল্লাহর পূর্ণ কলেমাসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সূত্র : ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে খালিদ ইবনে ওলিদ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বললেন, আমি নিদ্রাবস্থায় (স্বপ্নে) ভয় পাই। রাসুল (সা.) বলেন, তুমি (শোয়ার সময়) এই দোয়া পাঠ করো।

(মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হাদিস : ১৭১৪)

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

যেসব আমলে পাপমোচন হয়

 মাইমুনা আক্তার
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০০:০০শেয়ার
যেসব আমলে পাপমোচন হয়

আল্লাহর বিশেষ বান্দা নবী-রাসুলরা ছাড়া মানুষ মাত্রই গুনাহপ্রবণ। তাই জেনে-না জেনে, বুঝে-না বুঝে গুনাহ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে সেই গুনাহ থেকে পবিত্র না হওয়া বা গুনাহ থেকে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা না করা জঘন্য অপরাধ। হাদিসে আছে, মানুষ মাত্রই গুনাহগার, তবে গুনাহগারদের মধ্যে তাওবাকারীরাই উত্তম।

(তিরমিজি, হাদিস : ২৪৯৯)

তাই আমাদের উচিত সর্বদা গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করা, গুনাহ হলে তাওবা করা এবং যেসব কাজে গুনাহ মোচন হয়, সেগুলো করার চেষ্টা করা। নিম্নে এমন কিছু কাজ তুলে ধরা হলো, যেগুলো পাপমোচন করে।

ইসলাম গ্রহণ : ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে আগের সব গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে অমুসলিমদের উদ্দেশ্য করে মহান আল্লাহ বলেছেন, যারা কুফরি করে তাদেরকে বলো, তারা যদি নিবৃত্ত হয় তাহলে তারা পূর্বে যা করেছে তা ক্ষমা করা হবে, আর যদি (কুফরির) পুনরাবৃত্তি করে, তাহলে আগের লোকদের (প্রতি অনুসৃত) নীতির দৃষ্টান্ত তো অতীতের পাতায়ই আছে।

 (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৩৮)

অর্থাৎ তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তাদের আগের গুনাহগুলো ক্ষমা করা হবে। বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, ইসলাম পূর্ববর্তী সব পাপ মিটিয়ে দেয়। (মুসলিম, হাদিস : ২২০)

নামাজ কায়েম : নামাজ কায়েমও এমন একটি ইবাদত, যার মাধ্যমে পূববর্তী কাজ থেকে ক্ষমা পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তুমি নামাজ কায়েম করো দিবসের দুই প্রান্তে এবং রাতের প্রথম অংশে।

নিশ্চয়ই ভালো কাজ মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য উপদেশ।’

(সুরা : হুদ, আয়াত : ১১৪)

অজু : অজুর মাধ্যমেও মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে গুনাহ ঝরে পড়ে। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে, তার দেহ থেকে সব পাপ ঝরে যায়, এমনকি তার নখের ভেতর থেকেও (গুনাহ) বের হয়ে যায়। (মুসলিম, হাদিস : ৪৬৬)

কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা : সার্বক্ষণিক গুনাহ থেকে বিরত থাকার চেষ্টার করাও এক ধরনের ইবাদত, বিশেষ করে যারা কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে, তাদের গুনাহ মাফ হয়।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, যদি তোমরা কবিরা গুনাহ পরিহার করো, যা থেকে তোমাদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাহলে আমি তোমাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেব আর তোমাদের প্রবেশ করাব সম্মানজনক প্রবেশস্থলে। (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩১)

রমজানের রোজা : হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানসহ পুণ্যের আশায় রমজানের রোজা পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (বুখারি, হাদিস : ৩৮)

হজ পালন : আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, মহানবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশে হজ করল এবং অশালীন কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বিরত রইল, সে ওই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে হজ থেকে ফিরে আসবে, যেদিন তার মা জন্ম দিয়েছিল। (বুখারি, হাদিস : ১৫২১)

ওমরাহ : মহানবী (সা.) বলেছেন, এক ওমরাহর পর আরেক ওমরাহ মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা। (বুখারি, হাদিস : ১৭৭৩)

সদকা : হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, দান-খয়রাত গুনাহকে বিলীন করে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২১০)

তাওবা : মহানবী (সা.) বলেছেন, গুনাহ থেকে তাওবাকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য।

(ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২৫০)

ক্ষমা : কখনো কখানো আল্লাহর জন্য কাউকে ক্ষমা করার মাধ্যমেও গুনাহ মাফ হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর তোমাদের মধ্যে যারা মর্যাদা ও প্রাচুর্যের অধিকারী, তারা যেন এমন কসম না করে যে তারা নিকটাত্মীয়দের, মিসকিনদের ও আল্লাহর পথে হিজরতকারীদের কিছুই দেবে না। আর তারা যেন তাদের ক্ষমা করে এবং তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি পছন্দ করো না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দেন? আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা : নুর, আয়াত : ২২)

মহান আল্লাহ আমাদের সবার গুনাহগুলো ক্ষমা করুন। আমিন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ