Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ আগস্ট, ২০২৫ ১১:০২ পূর্বাহ্ণ

আর সিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে তৎক্ষণাৎ তারা কবর থেকে তাদের রবের দিকে ছুটে আসবে
৩৬ : ৫১ وَ نُفِخَ فِی الصُّوۡرِ فَاِذَا هُمۡ مِّنَ الۡاَجۡدَاثِ اِلٰی رَبِّهِمۡ یَنۡسِلُوۡنَ ﴿۵۱﴾ 
و نفخ فی الصور فاذا هم من الاجداث الی ربهم ینسلون ﴿۵۱﴾
আর শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা কবর থেকে তাদের রবের দিকে ছুটে আসবে।

-আল-বায়ান

আর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা ক্ববর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে আসবে।

-তাইসিরুল

যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে তখনই তারা কাবর হতে ছুটে আসবে তাদের রবের দিকে।

-মুজিবুর রহমান

And the Horn will be blown; and at once from the graves to their Lord they will hasten.

-Sahih International

৫১. আর যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে তখনই তারা কবর থেকে ছুটে আসবে তাদের রবের দিকে।(১)

(১) صور শব্দের অর্থ শিঙ্গা। সঠিক মত অনুসারে কিয়ামতের শিঙ্গার ফুঁক দুটি। এক, ধ্বংসের ফুৎকার। যার কথা এ সূরারই ৪৯ নং আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। দুই. পূনরুত্থানের জন্য ফুৎকার। এ আয়াতে এ ফুৎকারের কথাই আলোচনা করা হয়েছে। [আদওয়াউল বায়ান]। তখনকার অবস্থা বর্ণনা করে বলা হয়েছে যে, যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে তখনই তারা কবর থেকে ছুটে আসবে তাদের প্রতিপালকের দিকে। এখানে ينسلون শব্দটি نسلان থেকে উদ্ভূত। যার অর্থ দ্রুত চলা। [ইবন কাসীর]

অন্য এক আয়াতে এসেছে, “যেদিন তাদের উপরস্থ জমীন বিদীর্ণ হবে এবং মানুষ ত্ৰস্ত-ব্যস্ত হয়ে ছুটোছুটি করবে, এ সমবেত সমাবেশকরণ আমার জন্য সহজ।” [সূরা কাফ: ৪৪] আরও এসেছে, “সেদিন তারা কবর থেকে বের হবে দ্রুতবেগে, মনে হবে তারা যেন কোন উপাসনালয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে”। [সূরা মা'আরিজ: ৪৩] অপর আয়াতে বলা হয়েছে, “হাশরের সময় মানুষ কবর থেকে উঠে দেখতে থাকবে।” [সূরা আয-যুমার: ৬৮]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫১) যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে[1] তখন মানুষ কবর থেকে তাদের প্রতিপালকের দিকে ছুটে আসবে।

[1] প্রথম মত অনুযায়ী এটা দ্বিতীয় ফুৎকার এবং দ্বিতীয় মত অনুযায়ী এটা তৃতীয় ফুৎকার হবে, যাকে نَفْخَةُ الْبَعْثِ وَالنُّشُوْرِ বলা হয়। এতে মানুষ কবর থেকে জীবিত হয়ে উঠে দাঁড়াবে। (ইবনে কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
৩৬ : ৫২ قَالُوۡا یٰوَیۡلَنَا مَنۡۢ بَعَثَنَا مِنۡ مَّرۡقَدِنَا ٜۘؐ هٰذَا مَا وَعَدَ الرَّحۡمٰنُ وَ صَدَقَ الۡمُرۡسَلُوۡنَ ﴿۵۲﴾ 
قالوا یویلنا من بعثنا من مرقدنا ٜ هذا ما وعد الرحمن و صدق المرسلون ﴿۵۲﴾
তারা বলবে, ‘হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে উঠালো’? (তাদেরকে বলা হবে) ‘এটা তো তা যার ওয়াদা পরম করুনাময় করেছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন’।

-আল-বায়ান

তারা বলবে, ‘হায় আমাদের দুর্ভোগ! আমাদেরকে আমাদের ঘুমের জায়গা থেকে কে উঠালো? (তাদেরকে জবাব দেয়া হবে) ‘‘এটা হল তাই- দয়াময় আল্লাহ যার ও‘য়াদা দিয়েছিলেন, আর রসূলগণও সত্য কথাই বলেছিলেন।’

-তাইসিরুল

তারা বলবেঃ হায়! দুর্ভোগ আমাদের! কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল হতে উঠালো? দয়াময় (আল্লাহ) তো এরই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্যই বলেছিলেন।

-মুজিবুর রহমান

They will say, "O woe to us! Who has raised us up from our sleeping place?" [The reply will be], "This is what the Most Merciful had promised, and the messengers told the truth."

-Sahih International

৫২. তারা বলবে, হায়! দুর্ভোগ আমাদের! কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে উঠাল? দয়াময় আল্লাহ্ তো এরই প্ৰতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্যই বলেছিলেন।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫২) ওরা বলবে, ‘হায় দুর্ভোগ আমাদের! কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে উত্থিত করল?’[1] এ হল তা-ই, পরম দয়াময় যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং রসূলগণ সত্যই বলেছিলেন।

[1] কবরকে নিদ্রাস্থল বলার উদ্দেশ্য এ নয় যে, কবরে তাদের আযাব হবে না। বরং তখন যে ভয়ানক দৃশ্য এবং শাস্তির কঠিনতা দেখবে, তার তুলনায় তাদেরকে কবরের জীবন একটি নিদ্রাস্থল বলে মনে হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
৩৬ : ৫৩ اِنۡ كَانَتۡ اِلَّا صَیۡحَۃً وَّاحِدَۃً فَاِذَا هُمۡ جَمِیۡعٌ لَّدَیۡنَا مُحۡضَرُوۡنَ ﴿۵۳﴾ 
ان كانت الا صیحۃ واحدۃ فاذا هم جمیع لدینا محضرون ﴿۵۳﴾
তা ছিল শুধুই একটি বিকট আওয়াজ, ফলে তৎক্ষণাৎ তাদের সকলকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে।

-আল-বায়ান

মাত্র একটা প্রচন্ড শব্দ হবে, তক্ষুণি তাদের সব্বাইকে আমার সামনে হাজির করা হবে।

-তাইসিরুল

এটা হবে শুধুমাত্র এক মহানাদ; তখনই তাদের সকলকে উপস্থিত করা হবে আমার সম্মুখে।

-মুজিবুর রহমান

It will not be but one blast, and at once they are all brought present before Us.

-Sahih International

৫৩. এটা হবে শুধু এক বিকট শব্দ; তখনই এদের সকলকে উপস্থিত করা হবে আমাদের সামনে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫৩) এ হবে এক মহাগর্জন; তখনই ওদের সকলকে আমার সম্মুখে উপস্থিত করা হবে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
৩৬ : ৫৪ فَالۡیَوۡمَ لَا تُظۡلَمُ نَفۡسٌ شَیۡئًا وَّ لَا تُجۡزَوۡنَ اِلَّا مَا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۵۴﴾ 
فالیوم لا تظلم نفس شیئا و لا تجزون الا ما كنتم تعملون ﴿۵۴﴾
সুতরাং আজ কাউকেই কোন যুলম করা হবে না এবং তোমরা যা আমল করছিলে শুধু তারই প্রতিদান তোমাদের দেয়া হবে।

-আল-বায়ান

আজ কারো প্রতি কোন যুলম করা হবে না, তোমরা যে ‘আমাল করছিলে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেয়া হবে।

-তাইসিরুল

আজ কারও প্রতি কোন যুলম করা হবেনা এবং তোমরা যা করতে শুধু তারই প্রতিফল দেয়া হবে।

-মুজিবুর রহমান

So today no soul will be wronged at all, and you will not be recompensed except for what you used to do.

-Sahih International

৫৪. অতঃপর আজ কারো প্রতি কোন যুলুম করা হবে না এবং তোমরা যা করতে শুধু তারই প্রতিফল দেয়া হবে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫৪) এবং বলা হবে, আজ কারও প্রতি কোন জুলুম করা হবে না এবং তোমরা যা করতে কেবল তারই প্রতিফল দেওয়া হবে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
৩৬ : ৫৫ اِنَّ اَصۡحٰبَ الۡجَنَّۃِ الۡیَوۡمَ فِیۡ شُغُلٍ فٰكِهُوۡنَ ﴿ۚ۵۵﴾ 
ان اصحب الجنۃ الیوم فی شغل فكهون ﴿۵۵﴾
নিশ্চয় জান্নাতবাসীরা আজ আনন্দে মশগুল থাকবে।

-আল-বায়ান

সে দিন জান্নাতীরা আনন্দে মশগুল হয়ে থাকবে।

-তাইসিরুল

এ দিন জান্নাতবাসীরা আনন্দে মগ্ন থাকবে।

-মুজিবুর রহমান

Indeed the companions of Paradise, that Day, will be amused in [joyful] occupation -

-Sahih International

৫৫. এ দিন জান্নাতবাসীগণ আনন্দে মগ্ন থাকবে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫৫) এ দিন বেহেশ্তিগণ আনন্দে মগ্ন থাকবে, [1]

[1] فَاكِهُوْنَ এর অর্থ হল فَارِحُوْنَ আনন্দিত, স্বাচ্ছন্দ্যশীল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
৩৬ : ৫৬ هُمۡ وَ اَزۡوَاجُهُمۡ فِیۡ ظِلٰلٍ عَلَی الۡاَرَآئِكِ مُتَّكِـُٔوۡنَ ﴿۵۶﴾ 
هم و ازواجهم فی ظلل علی الارآئك متكـٔون ﴿۵۶﴾
তারা ও তাদের স্ত্রীরা ছায়ার মধ্যে সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে উপবিষ্ট থাকবে।

-আল-বায়ান

তারা আর তাদের স্ত্রীরা সুশীতল ছায়ায়, উঁচু উঁচু আসনে হেলান দিয়ে বসবে।

-তাইসিরুল

তারা এবং তাদের সঙ্গিনীরা সুশীতল ছায়ায় সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসবে।

-মুজিবুর রহমান

They and their spouses - in shade, reclining on adorned couches.

-Sahih International

৫৬. তারা এবং তাদের স্ত্রীগণ সুশীতল ছায়ায় সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসবে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫৬) তারা এবং তাদের স্ত্রীগণ সুশীতল ছায়ায় থাকবে এবং হেলান দিয়ে বসবে সুসজ্জিত আসনে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
৩৬ : ৫৭ لَهُمۡ فِیۡهَا فَاكِهَۃٌ وَّ لَهُمۡ مَّا یَدَّعُوۡنَ ﴿ۚۖ۵۷﴾ 
لهم فیها فاكهۃ و لهم ما یدعون ﴿۵۷﴾
সেখানে তাদের জন্য থাকবে ফল-ফলাদি এবং থাকবে তারা যা চাইবে তাও।

-আল-বায়ান

তাদের জন্য সেখানে থাকবে ফলমূল আর তাদের জন্য থাকবে তারা যা কিছু পেতে চাইবে।

-তাইসিরুল

সেখানে থাকবে তাদের জন্য ফল-মূল এবং থাকবে যা তারা ফরমায়েশ করবে।

-মুজিবুর রহমান

For them therein is fruit, and for them is whatever they request [or wish]

-Sahih International

৫৭. সেখানে থাকবে তাদের জন্য ফলমূল এবং তাদের জন্য বঞ্চিত সমস্ত কিছু,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫৭) সেখানে তাদের জন্য থাকবে ফল-মূল এবং বাঞ্ছিত সমস্ত কিছু।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
৩৬ : ৫৮ سَلٰمٌ ۟ قَوۡلًا مِّنۡ رَّبٍّ رَّحِیۡمٍ ﴿۵۸﴾ 
سلم قولا من رب رحیم ﴿۵۸﴾
অসীম দয়ালু রবের পক্ষ থেকে বলা হবে, ‘সালাম’।

-আল-বায়ান

দয়াময় প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাদেরকে ‘সালাম’ বলে সম্ভাষণ করা হবে।

-তাইসিরুল

পরম দয়ালু রবের পক্ষ হতে তাদেরকে বলা হবে ‘সালাম’।

-মুজিবুর রহমান

[And] "Peace," a word from a Merciful Lord.

-Sahih International

৫৮. পরম দয়ালু রবের পক্ষ থেকে সালাম, (সাদর সম্ভাষণ বা নিরাপত্তা)।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫৮) পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষ হতে তাদেরকে বলা হবে ‘সালাম’ (শান্তি)। [1]

[1] আল্লাহর এই সালাম ফিরিশতাগণ জান্নাতীগণের নিকট পৌঁছে দেবেন। অনেকে বলেন যে, আল্লাহ তাআলা নিজে সরাসরি তাদেরকে সালাম দিয়ে সম্মানিত করবেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
৩৬ : ৫৯ وَ امۡتَازُوا الۡیَوۡمَ اَیُّهَا الۡمُجۡرِمُوۡنَ ﴿۵۹﴾ 
و امتازوا الیوم ایها المجرمون ﴿۵۹﴾
আর [বলা হবে] ‘হে অপরাধীরা, আজ তোমরা পৃথক হয়ে যাও’।

-আল-বায়ান

(সে দিন বলা হবে) ‘হে অপরাধীরা! আজ তোমরা আলাদা হয়ে যাও।’

-তাইসিরুল

আর হে অপরাধীরা! তোমরা আজ পৃথক হয়ে যাও।

-মুজিবুর রহমান

[Then He will say], "But stand apart today, you criminals.

-Sahih International

৫৯. আর হে অপরাধীরা! তোমরা আজ পৃথক হয়ে যাও।(১)

(১) হাশরের ময়দানে প্রথমে মানুষ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় সমবেত হবে। অন্য আয়াতে এ অবস্থার চিত্ৰ বৰ্ণনা করে বলা হয়েছে, “তারা হবে বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের মত” [সূরা আল কামার: ৭] কিন্তু পরে কর্মের ভিত্তিতে তাদের পৃথক পৃথক দলে বিভক্ত করা হবে। এর দু'টি অর্থ হতে পারে। একটি হচ্ছে, অপরাধীরা সৎকর্মশীল মুমিনদের থেকে ছাঁটাই হয়ে আলাদা হয়ে যাও। কারণ দুনিয়ায় তোমরা তাদের সম্প্রদায়, পরিবার ও গোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত থাকলে থাকতে পারো, কিন্তু এখানে এখন তোমাদের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। ফলে কাফের, মুমিন, সৎকর্মী ও অসৎকর্মী লোকগণ পৃথক পৃথক জায়গায় অবস্থান করবে। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “আর যখন আত্মাসমূহকে জোড়া জোড়া করা হবে।” [সূরা আত-তাকওয়ীর: ৭] আলোচ্য আয়াতেও এ পৃথকীকরণ ব্যক্ত হয়েছে।

অনুরূপভাবে এ পৃথকীকরণের কথা কুরআনের অন্যান্য সূরায়ও বর্ণিত হয়েছে, যেমন: সূরা ইউনুস: ৩৮, সূরা আর-রূম: ১৪, ৪৩, সূরা আস-সাফফাত: ২২–২৩। দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, তোমরা নিজেদের মধ্যে আলাদা হয়ে যাও। এখন তোমাদের কোন দল ও জোট থাকতে পারে না। তোমাদের সমস্ত দল ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। তোমাদের সকল প্রকার সম্পর্ক ও আত্মীয়তা খতম করে দেয়া হয়েছে। তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে এখন একাকী ব্যক্তিগতভাবে নিজের কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। [দেখুন: কুরতুবী, ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫৯) আর (বলা হবে,) ‘হে অপরাধিগণ! তোমরা আজ পৃথক হয়ে যাও।’ [1]

[1] অর্থাৎ, মু’মিনদের থেকে আলাদা হয়ে দাঁড়াও। অর্থাৎ, হাশরের ময়দানে মু’মিন ও অনুগত এবং কাফের ও অবাধ্যকে আলাদা আলাদা করে দেওয়া হবে। যেমন অন্য স্থানে মহান আল্লাহ বলেন

(وَيَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ يَّتَفَرَّقُوْنَ (يَوْمَئِذٍ يَّصَّدَّعُوْنَأي :يَصِيْرُوْنَ صَدْعَيْنِ فِرْقَتَيْنِ

অর্থাৎ, সেই দিন মানুষ দুই দলে বিভক্ত হয়ে যাবে। (সূরা রূম ১৪, ৪৩ আয়াত) দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হল যে, পাপীদেরকেই বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দেওয়া হবে। যেমন ইয়াহুদীদের দল, খ্রিষ্টানদের দল, বেদ্বীনদের দল, অগ্নিপূজকদের দল, ব্যভিচারীদের দল, মদ্যপায়ীদের দল ইত্যাদি ইত্যাদি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
শেয়ার লিঙ্ক কপি হয়েছে!
৩৬ : ৬০ اَلَمۡ اَعۡهَدۡ اِلَیۡكُمۡ یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ اَنۡ لَّا تَعۡبُدُوا الشَّیۡطٰنَ ۚ اِنَّهٗ لَكُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ ﴿ۙ۶۰﴾ 
الم اعهد الیكم یبنی ادم ان لا تعبدوا الشیطن انهٗ لكم عدو مبین ﴿۶۰﴾
হে বনী আদম, আমি কি তোমাদেরকে এ মর্মে নির্দেশ দেইনি যে, ‘তোমরা শয়তানের উপাসনা করো না। নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’?

-আল-বায়ান

‘হে আদাম সন্তান! আমি কি তোমাদেরকে নির্দেশ দেইনি যে, তোমরা শয়ত্বানের ‘ইবাদাত করো না, কারণ সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন?

-তাইসিরুল

হে বানী আদম! আমি কি তোমাদেরকে নির্দেশ দেইনি যে, তোমরা শাইতানের দাসত্ব করনা, কারণ সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?

-মুজিবুর রহমান

Did I not enjoin upon you, O children of Adam, that you not worship Satan - [for] indeed, he is to you a clear enemy -

-Sahih International

৬০. হে বনী আদম! আমি কি তোমাদেরকে নির্দেশ দেইনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদাত করো না(১), কারণ সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?

(১) অর্থাৎ সমস্ত মানুষ এমনকি, জিনদেরকেও কেয়ামতের দিন বলা হবে, আমি কি তোমাদেরকে দুনিয়াতে শয়তানের ইবাদত না করার আদেশ দেইনি? এখানে প্রশ্ন হয় যে, কাফেররা সাধারণত শয়তানের এবাদত করত না, বরং দেবদেবী অথবা অন্যকোন বস্তুর পূজা করত। কাজেই তাদেরকে শয়তানের ইবাদত করার অভিযোগে কেমন করে অভিযুক্ত করা যায়? এর জওয়াব হচ্ছে, এখানে আল্লাহ “ইবাদত” কে আনুগত্য অর্থে ব্যবহার করেছেন। প্রত্যেক কাজে ও প্রত্যেক অবস্থায় কারও আনুগত্য করার নামই ইবাদত। শয়তানকে নিছক সিজদা করাই নিষিদ্ধ নয় বরং তার আনুগত্য করা এবং তার হুকুম মেনে চলাও নিষিদ্ধ। কাজেই আনুগত্য হচ্ছে ইবাদাত। শয়তানের ইবাদাত করার বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। কখনো এমন হয়, মানুষ একটি কাজ করে এবং তার অংগ-প্রত্যংগের সাথে সাথে তার কণ্ঠও তার সহযোগী হয় এবং মনও তার সাথে অংশ গ্ৰহণ করে। আবার কখনো এমনও হয়, অংগ-প্রত্যংগের সাহায্যে মানুষ একটি কাজ করে কিন্তু অন্তর ও কণ্ঠ সে কাজে তার সহযোগী হয় না।

এ হচ্ছে নিছক বাইরের অংগ-প্রত্যংগের সাহায্যে শয়তানের ইবাদাত। আবার এমন কিছু লোকও আছে যারা ঠাণ্ডা মাথায় অপরাধ করে এবং মুখেও নিজেদের এ কাজে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করে। এরা ভিতরে বাইরে উভয় পর্যায়ে শয়তানের ইবাদতকারী। তারা চিরকাল শয়তানী শিক্ষার অনুসরণ করেছিল বিধায় তাদেরকে শয়তানের ইবাদতকারী বলা হয়েছে। সে অনুসারেই যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি কিংবা অসন্তুষ্টির তোয়াক্কা না করে অর্থের মহব্বতেএমন সবকাজ করে, যদ্দারা অর্থ বৃদ্ধি পায় এবং স্ত্রীর মহব্বতেএমন সবকাজ করে যদ্দারা স্ত্রী সন্তুষ্ট হয়, হাদীসে তাদেরকে অর্থের দাস ও স্ত্রীর দাস বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। [দেখুন: বুখারী: ২৮৮৬, তিরমিযী: ২৩৭৫]

মন্তব্য করুন