Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১১:১২ পূর্বাহ্ণ

রক্ততঞ্চন রক্ততঞ্চন বলতে কী বোঝ?

 যে প্রক্রিয়ায় রক্ত জমাট বেঁধে অর্ধ কঠিন জেলির মত পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রক্ত তঞ্চন বলে ।প্রাণীদেহে রক্ত তঞ্চন পদ্ধতিটি নিম্ন আলোচনা করা হল যখন রক্তপাত ঘটে তখন ওই কাটা স্থান এবং ভাঙা অণুচক্রিকা থেকে থ্রম্বোপ্লাসটিন নিঃসৃত হতে থাকে । ক্ষত অংশের কলাকোষ + ভাঙা অণুচক্রিকা থ্রম্বোপ্লাসটিন এই থ্রম্বোপ্লাসটিন রক্তের প্রোথ্রমবিন ও ক্যালসিয়াম আয়নকে থ্রমবিনে পরিণত করে ।

রক্ততঞ্চন একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যাতে রক্ত জমাট বেঁধে তঞ্চন-পিণ্ড বা থ্রম্বাস (বহুবচনে থ্রম্বাই) তৈরি হয়। পরপর অনেকগুলি উৎসেচক ও তাদের কোফ্যাকটরের স্তরীভূত শৃঙ্খল বিক্রিয়ার দ্বারা শেষে থ্রম্বিন নামক একটি উৎসেচকের বিস্ফোরক মাত্রায় উৎপাদন ঘটলে ফাইব্রিনোজেন থেকে ফাইব্রিন জমাট তৈরি হয়ে তার মধ্যে অণুচক্রিকা ও অন্যান্য রক্তকণিকা আটকা পড়ে তঞ্চন-পিণ্ড তৈরি হয়। শরীরের মধ্যে তঞ্চনের কাজ ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা। তঞ্চনের অভাবে ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। আবার অত্যধিক তঞ্চন রক্তবাহী শিরা বা ধমনীর মধ্যে হলে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে স্থানীয় কলার ইস্কিমিয়া (রক্তাভাব পরিবর্তনীয় আঘাত) বা ইনফার্কশান (রক্তাভাব জনিত স্থায়ী কলা মৃত্যু) হয়ে পারে। (যেমন হৃৎযন্ত্রের পক্ষে হার্ট অ্যাটাক বা মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে থ্রম্বোটিক স্ট্রোক) রক্তবাহের আভ্যন্তরীন আস্তরণ অর্থাৎ এন্ডোথেলিয়ামে চোট লাগলে তার নিম্নবর্তী কলার সঙ্গে রক্তের সংস্পর্শে তঞ্চনের অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই তঞ্চন শুরু করার মূল উৎস রক্ত ও অণুচক্রিকাদের সঙ্গে রক্তবাহের নিম্নবর্তী কলার ফাইব্রোব্লাস্ট বা মসৃণ পেশী কলার গায়ের টিস্যু ফ্যাক্টর নামক একটি প্রোটিন ও ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট কয়েকধরনের ফসফোলিপিড (যাদের একত্রে টিস্যু থ্রম্বোপ্লাস্টিন বলে)।

মন্তব্য করুন

ব্লগ