Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বশিক্ষার সাথে তালমিলিয়ে চলতে আমাদের কি কি করা উচিৎ ?

মনিরুল হক,

      বিশ্বশিক্ষার সাথে তালমিলিয়ে চলতে হলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কয়েকটি দিককে গুরুত্ব দিয়ে উন্নত করতে হবে। চলুন সহজভাবে ভেঙে দেখি

১. দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা:
শুধু মুখস্থনির্ভর পরীক্ষামুখী শিক্ষা না হয়ে শিক্ষার্থীরা যেন বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান করতে পারে সেইভাবে পড়াতে হবে। সমালোচনামূলক চিন্তা, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান আর যোগাযোগ দক্ষতা গড়ে তোলা জরুরি।

২. প্রযুক্তির ব্যবহার:
বিশ্বশিক্ষা এখন ডিজিটাল। তাই আমাদের শ্রেণীকক্ষে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা (স্মার্ট ক্লাস, ই-লার্নিং, অনলাইন রিসোর্স) চালু করতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল লিটারেসি বাড়াতে হবে।

৩. কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা:
শুধু সার্টিফিকেট নয়
শিক্ষার্থীরা যেন কাজ শিখে কর্মসংস্থানে যোগ দিতে পারে, সেই দিকে জোর দিতে হবে। টেকনিক্যাল, ভোকেশনাল ও উদ্যোক্তা শিক্ষা বাড়াতে হবে।

৪. গবেষণা ও উদ্ভাবন:
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু পাঠদান নয়, গবেষণায়ও জোর দেবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনকেই দেশের উন্নতির চালিকাশক্তি হিসেবে নিতে হবে।

৫. মূল্যবোধ ও মানবিক শিক্ষা:
বিশ্বশিক্ষার সাথে তাল মেলাতে হলেও মানবিকতা, নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা শেখানো জরুরি। শুধু দক্ষ কর্মী নয়, দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তুলতে হবে।

৬. আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রম:
পাঠ্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে সাজাতে হবে
যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের যেকোনো জায়গায় প্রতিযোগিতা করতে পারে। ভাষা (বিশেষত ইংরেজি), বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গণিত (STEM) বিষয়ে বিশ্বমানের শিক্ষা দিতে হবে।

৭. শিক্ষক উন্নয়ন:
শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ থাকতে হবে। একজন দক্ষ শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের পথে এগিয়ে নিতে পারেন।

 

আসলে, বিশ্বশিক্ষার সাথে তাল মিলিয়ে চলা মানে শুধু বিদেশি বই বা পদ্ধতি অনুকরণ নয়। আমাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপটে শিক্ষা আধুনিক ও ব্যবহারিক করে তুলতে হবে, যেন শিক্ষার্থী শুধু ডিগ্রি নয়, বাস্তব জীবনে সফল হতে পারে।

 

মোঃ মনিরুল হক

সহকারী শিক্ষক

আমলাবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়

খোকসা, কুষ্টিয়া

০১৭২২ ২৭৩২৭২

 

মন্তব্য করুন