সহকারী শিক্ষক
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১১:০৯ অপরাহ্ণ
সাতকরা সিলেটের বিখ্যাত লেবু গোত্রের টক-স্বাদযুক্ত এক ফল !
সাতকরা সিলেটের বিখ্যাত লেবু গোত্রের টক-স্বাদযুক্ত এক ফল !
সাতকরা বা সাতকড়া এক ধরনের বিশেষ ঘ্রাণযুক্ত লেবু জাতীয় টক ফল। তবে লেবুর মতো সাতকরা কাঁচা খাওয়া যায় না। গরু বা খাসির মাংস, বোয়াল মাছ কিংবা ডাল রান্না করা হয় সাতকরা দিয়ে। এটি ভারতের আসামের পাহাড়ি এলাকার আদি ফল এবং মালেশিয়ার স্থানীয় ফল যা বর্তমানে বাংলাদেশের সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, জাফলং ছাড়াও এখানকার পাহাড় ও টিলায় চাষ হয়। স্থানীয়ভাবে এটি সিট্রন ফল হিসেবে পরিচিত। দেখতে চ্যাপ্টা গোলাকার, খোসা পুরু, শাঁস পরিমাণে খুব কম, সাতকরা দিয়ে মাংস রান্না সিলেটের ঐতিহ্যবাহী রান্না। মাংসের সাথে রান্না করলে একটি আকর্ষণীয় ঘ্রাণযুক্ত খাদ্য তৈরি হয়। মূলত সাতকরা ও গরুর পায়ের হাড় দিয়ে জনপ্রিয় খাট্টা (ঝোলযুক্ত টক) তৈরি করা হয়। এছাড়া মাংসের ভুনাও তৈরি করা হয়। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের মাংস, মাছ এমনকি যেকোন সবজি রান্নায় এনে দেয় অনন্য স্বাদ ও ঘ্রাণ। এর আচার খেতেও খুব সুস্বাদু। দেখতে অনেকটা বড় গোলাকার লেবু ও ছোট জাম্বুরার মতো। এর সুঘ্রাণ মন মাতওয়ারা করে তোলে। সিলেটিদের সবার ঘরে সাতকরা থাকবেই। বিশেষ করে গরুর মাংসে , মুরগী মাংসে ,কচুর মুখি, বড় মাছ, ছোট মাছ , টক তরকারীতে সাতকরা দিয়ে রান্না করলে খুবই সুস্বাদু হয়।
সাতকরার গুনাগুণ:
সাতকরায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে। যা' মানব দেহের জন্য দারুণ উপকারী। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। লিভার, কিডনি ও হার্ট রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। এছাড়াও ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাতকরা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বাত, শিরা উপশিরা ব্যথায় সাতকরা বেশ উপকারী। এটি সুগন্ধি হিসেবে কাজ করে। যেমন একটি ডিপ ফ্রিজে টাটকা একটি সাতকরা একসপ্তাহ রেখে তারপর খোলা হলে পুরো কক্ষ সুগন্ধিতে ভরে যাবে। এর পারিফিউম গুণাবলী চমৎকার ও প্রাকৃতিক। সাতকরায় এসেনশিয়াল ওয়েল বা সুগন্ধি তেল থাকে খোসার ওপর। যা সাতকরা হাতে নিলে বুজা যায়। তবে সাতকরায় অন্য সব সাইট্রাস ফলের মতো ভেতরের রসালো অংশ খাওয়া যায় না। কারণে এতে প্রচুর পরিমাণে এসিডিক ও তেতো স্বাদ থাকে। সাতকরা অনেকে আচার করেও সংরক্ষণ করেন। আচার অবশ্য বছর ধরেও খাওয়া যায়। এটি ব্রিটিশ বাংলাদেশ ফাস্টফুড রেস্তোঁরায় ডোনার কাবাবেও ব্যবহৃত হয়।
সাতকরায় গোশত রান্নার প্রণালী:
এক কেজি গরুর গোশতের সঙ্গে একটি সাতকরার চার ভাগের এক ভাগ ব্যবহার করা জুতসই। সাতকরা কেটে ভেতরে বুকের রসালো অংশ বাদ দিয়ে খোসা মাংসের আকৃতির সঙ্গে মিল রেখে টুকরো করতে হবে। পেঁয়াজ কুঁচি ১ কাপ, পেঁয়াজবাটা ১ কাপ, রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ, আদা ১ টেবিল চামচ, পাঁচফোড়ন ও জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ করে, হলুদের গুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচ গুঁড়ো দেড় চা-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ আর তেল-লবণ পরিমাণ মতো।
গোশত পরিষ্কার করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এবার গোশতে মসলা মিশিয়ে সেদ্ধ করতে হবে। সেদ্ধ হলে নামিয়ে অন্য এক পাত্রে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি লাল করে ভাজতে হবে। সঙ্গে বাটা পেঁয়াজও কষাতে হবে। কষানো মসলায় সেদ্ধ করা গোশত ঢেলে প্রায় ১৫ মিনিট অল্প আঁচে ভুনতে হবে। ভুনা হলে পরে টুকরা সাতকরা দিয়ে আরও কিছুক্ষণ কষিয়ে দেড় কাপ পরিমাণ পানি দিতে হবে। এতে সাতকরা সেদ্ধ হয়ে পানি শুকিয়ে গেলে রান্না শেষ। রান্নার আগে সাতকরা সেদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। সেদ্ধ করলে এর স্বাদ আর ঘ্রাণ থাকে না।
( তথ্যসূত্র: জাতীয় পত্রিকা ও গুগল উইকিপিডিয়া ও কৃষি ওয়েবসাইট )
৫
৫ মন্তব্য