সহকারী অধ্যাপক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
আমড়া (বৈজ্ঞানিক নাম: Spondias dulcis) বাংলাদেশের একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় ফল। এটি টক-মিষ্টি স্বাদের জন্য পরিচিত এবং কাঁচা ও পাকা দুইভাবেই খাওয়া যায়। আমড়া শুধু স্বাদেই ভালো না, এতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা।
নিচে আমড়ার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
|
উপাদান |
পরিমাণ |
|
ক্যালোরি |
৩৫-৫০ কিলোক্যালোরি |
|
পানি |
৮৫-৯০% |
|
প্রোটিন |
০.৫-১ গ্রাম |
|
কার্বোহাইড্রেট |
৮-১২ গ্রাম |
|
খাদ্য আঁশ (Fiber) |
২-৩ গ্রাম |
|
ফ্যাট |
০.২-০.৫ গ্রাম |
|
ভিটামিন সি |
৫০-৭০ মিলিগ্রাম |
|
ভিটামিন এ |
অল্প পরিমাণ |
|
ক্যালসিয়াম |
২০-৩০ মিলিগ্রাম |
|
লৌহ (Iron) |
১-২ মিলিগ্রাম |
|
ফসফরাস |
১০-১৫ মিলিগ্রাম |
আমড়ায় প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। সর্দি-কাশি ও সাধারণ ইনফেকশন প্রতিরোধে সাহায্য করে।
ভিটামিন সি ও অন্যান্য ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস শরীরের কোষকে ফ্রি-রেডিকেল থেকে রক্ষা করে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
আমড়ায় থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।
আমড়ার ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দাঁত ও হাড়কে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে।
আমড়ায় থাকা আয়রন (লোহিত লৌহ) রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে, যা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে কার্যকর।
কম ফ্যাট, কম সোডিয়াম ও ভালো পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি হার্টের জন্য উপকারী।
· অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা আমড়া খেলে পেটে গ্যাস হতে পারে।
· যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তারা পরিমাণমতো খাওয়া উচিত।
· কাঁচা খাওয়া যায় লবণ বা মরিচ মেখে।
· আচার, চাটনি, জেলি ও জুস হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।
আমড়া একটি স্বল্পমূল্য ও সহজলভ্য ফল হলেও এতে রয়েছে অসাধারণ পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই ফলটি যুক্ত করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোসহ শরীরের বিভিন্ন উপকার হয়।
৫৩
৯১ মন্তব্য