ইসলামের মৌলিক বিধানগুলোর মধ্যে পর্দা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিধান। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনে ওহী নাযিলের মাধ্যমে এই বিধানকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় পরিবারে নিবিড়ভাবে চর্চা করে এই বিধানকে গোটা উম্মতের জন্য ‘অনিবার্য’ করে গেছেন বিধান নাযিলের শুরুর দিন থেকেই।
পর্দার বিধান নাযিলের বহুবিধ কারণ উল্লেখ করা যায়, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটা হলো—নারীর বাহ্যিক সৌন্দর্যকে প্রকাশমান হওয়া থেকে বিরত রাখা। সৃষ্টির সূচনালগ্ন হতে আজ পর্যন্ত, সমাজে অশ্লীলতা আর পাপাচারের যতো ঘনঘটা দেখা গেছে, তার পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে দুটো প্রধান কারণ। প্রথমত পুরুষের লোলুপতা এবং দৃষ্টির অসংযত অবস্থা, দ্বিতীয়ত নারীর রূপ লাবণ্যের অবাধ প্রকাশ। এই দুটো কারণ যখন একসাথে হয়, তখনই অনাচার আর পাপাচারে ভরে উঠে সমাজ আর নষ্ট হয় সভ্যতার সম্প্রীতি।
যুগের বিবর্তনের সাথে সাথে সকল জিনিসের বিকৃতি সাধিত হয়। একইভাবে, আমাদের সমাজেও আজ পর্দা-প্রথা চরম বিকৃতির শিকার। আজকাল অনেকে পর্দা করেন বটে, কিন্তু সেসব পর্দার সাথে পর্দাহীনতার যে কী সম্পর্ক—তা বুঝে উঠাই মুশকিল হয়।
পরিপূর্ণ জীবনবিধান হিসেবে ইসলাম কিন্তু অবিকৃত। চৌদ্দ’শ বছর আগে যে বিধান যেভাবে নাযিল হয়েছে, আজও তা সেভাবে সংরক্ষিত। যুগের আধুনিকতায় পর্দার ধারণা, ব্যবহার এবং রকমফেরে বিকৃতি আসলেও, আমরা যদি দ্বীনের বুনিয়াদি বিষয়ের কাছে ফিরে যাই, আমরা পেয়ে যাবে সঠিক পর্দার নিয়ম এবং তা ব্যবহার ও কার্যকরের নিয়ামবলি। বাহারি পর্দার এই দুনিয়ায় যারা সত্যিকার অর্থেই দ্বীনের মৌলিক ধারণার কাছে ফিরতে চায়, তাদের সুনিপুণভাবে জানতে হবে পরিপূর্ণ শারয়ি পর্দা কী এবং তা কীভাবে পালন করতে হয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে ভালোবেসে যেসকল নারীগণ দ্বীনের বুনিয়াদি বিষয়ের দিকে ফিরতে চায়, যারা নিজেদের আবৃত করতে চায় পরিপূর্ণ শারয়ি পর্দায়, যারা পর্দা বিষয়ে মনের যাবতীয় সংশয়, দ্বিধা এবং সংকোচকে ঝেড়ে ফেলতে চায়, শাইখ ইউসুফ আল হাজ আহমাদ রচিত ‘পরিপূর্ণ শারয়ি পর্দা’ বইটি হতে পারে তাদের অনুপম সঙ্গী, ইনশা আল্লাহ। সহজিয়া ভাষা, বন্ধুত্বপূর্ণ বর্ণনা এবং যুক্তি আর দলিলের আলোকে শাইখ তুলে ধরেছেন পর্দার যৌক্তিকতা, আবশ্যিকতা এবং পরিপূর্ণ শারয়ি পর্দার আদ্যোপান্ত।
১৬
২৬ মন্তব্য