নেটওয়ার্ক এর বাংলা অর্থ বিস্তীর্ণ জালিকা । কাজেই কম্পিউটার
নেটওয়ার্ক হচ্ছে এমন একটি বিস্তীর্ণ জাল ব্যবস্থা যেখানে অনেক
কম্পিউটার একসাথে যুক্ত থাকে।
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীরা সার্ভারে থাকা সকল রিসোর্স একে
অন্যের সাথে শেয়ার করে ব্যবহার করতে পারেন, একে অপরের কাছে তথ্য
আদান-প্রদান করতে পারেন
কিংবা এক কম্পিউটারে থেকে অন্য কম্পিউটার চালাতে পারেন। আরো সহজ করে বললে
, বিভিন্ন কম্পিউটার কোন যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্বারা একসঙ্গে যুক্ত থাকলে
তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে ।
কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সম্পুর্ণ ধারণা নিতে হলে নেটওয়ার্কের সাথে
সম্পর্ক আছে এরকম কিছু যন্ত্রপাতির কথা জেনে নেওয়া প্রয়োজন।যেমন-
সার্ভার : সার্ভার হচ্ছে একটি শক্তিশালী কম্পিউটার যেটি
নেটওয়ার্কের অন্য কম্পিউটারকে নানা রকম সেবা প্রদান করে থাকে। একটি
নেটওয়ার্কে অনেকগুলো সার্ভার থাকতে পারে।
ক্লায়েন্ট: কেউ যদি অন্য কারো কাছ থেকে কোনো ধরনের সেবা নেয়,
তখন তাকে ক্লায়েন্ট বলে। কম্পিউটার নেটওয়ার্কেও ক্লায়েন্ট শব্দটির অর্থ
মোটামুটি সেরকম।
যে সব কম্পিউটার সার্ভার থেকে কোনো ধরনের তথ্য নেয় তাকে ক্লায়েন্ট বলে।
মিডিয়া : যে সব বস্তু বা ডিভাইস ব্যবহার করে কম্পিউটারগুলো
যুক্ত করা হয় সেগুলো হচ্ছে মিডিয়া। উদাহরণ-
বৈদ্যুতিক তার, কো-এক্সিয়াল তার, অপটিক্যাল ফাইবার ইত্যাদি । আবার কোনো
মিডিয়া ব্যবহার না করেও অর্থাৎ তার বিহীন (যেমন- Wi-Fi) পদ্ধতিতে
কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করা যায়।
নেটওয়ার্ক এডাপ্টার : একটি কম্পিউটারকে সরাসরি নেটওয়ার্কের
সাথে যুক্ত করা যায় না। এটি করার জন্য কম্পিউটারের সাথে একটি
নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC) যুক্ত করতে হয়।
সেই কার্ডগুলো তখন মিডিয়া থেকে তথ্য নিয়ে ব্যবহার করার জন্য কম্পিউটারকে
দিতে পারে। আবার কম্পিউটার থেকে তথ্য নিয়ে সেটি নেটওয়ার্কে ছেড়ে দিতে
পারে।
রিসোর্স : ক্লায়েন্টের কাছে ব্যবহারের জন্য যে সকল সুযোগ-সুবিধা
দেওয়া হয়, তার সবই হচ্ছে রিসোর্স। কম্পিউটারের সাথে যদি একটি প্রিন্টার
কিংবা একটি ফ্যাক্স মেশিন লাগানো হয় সেটি হচ্ছে রিসোর্স।
কম্পিউটার দিয়ে কেউ যদি সার্ভারে রাখা একটি ছবি আঁকার সফটওয়ার ব্যবহার
করে সেটিও রিসোর্স। একটি কম্পিউটার একই সাথে ক্লায়েন্ট এবং রিসোর্স দুটোই
হতে পারে । যদি কেউ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে একটি
ছবি ডাউনলোড করে ব্যবহার করে তখন সে কম্পিউটার হবে ক্লায়েন্ট । আবার একই
কম্পিউটার যদি নেটওয়ার্কের সবার সাথে কোন ছবি শেয়ার করে এবং অন্যরা
ব্যবহার করতে থাকে তখন এই কম্পিউটারই আবার হয়ে যাবে রিসোর্স ।
ইউজার : সার্ভার থেকে যে ক্লায়েন্ট রিসোর্স ব্যবহার করে, সে-ই ইউজার (user) বা ব্যবহারকারী।
প্রটোকল : ভিন্ন ভিন্ন কম্পিউটারকে একসাথে যুক্ত করতে হলে এক
কম্পিউটারের সাথে অন্য কম্পিউটারের যোগাযোগ করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম
মেনে চলতে হয়।
এসব নিয়ম মেনেই তথ্য আদান-প্রদান করতে হয়। যারা নেটওয়ার্ক তৈরি করে তারা
আগে থেকেই ঠিক করে নেয়, কোন ভাষায়, কোন নিয়ম মেনে এক কম্পিউটার অন্য
কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করবে।
এই নিয়মগুলোই হচ্ছে প্রটোকল। যেমন- ইন্টারনেটে ওয়েব পেজ ব্রাউজ করার জন্য
প্রটোকল হলো hypertext transfer protocol (http)।
১৮
২৮ মন্তব্য