সহকারী অধ্যাপক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৭:০২ অপরাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
গেওয়া গাছের বানিজ্যিক গুরুত্ব (বৈজ্ঞানিক নাম: Excoecaria agallocha) বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জন্মানো একটি গুরুত্বপূর্ণ লবণসহিষ্ণু গাছ। এটি ম্যানগ্রোভ প্রজাতির অন্তর্গত এবং বিশেষত সুন্দরবনের একটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। নিচে এর বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
গেওয়া গাছের কাঠ শক্ত ও হালকা হওয়ায় এটি কাঠ হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী। এর কাঠ:
· পিলার, ফার্নিচার, খুঁটি, কাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত হয়।
· আগুনে সহজে জ্বলে না, তাই জ্বালানি কাঠ হিসেবে ভালো।
· নৌকা, নেটের খুঁটি, বাঁশের বিকল্প কাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
· গেওয়া কাঠ থেকে পাওয়া কয়লা উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।
· গ্রামীণ ও উপকূলীয় এলাকায় রান্নার কাজে গেওয়া কাঠের ব্যাপক ব্যবহার হয়।
গেওয়া গাছে থাকা নির্যাস বা রস বিষাক্ত হলেও চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর কিছু নির্দিষ্ট অংশ:
· চর্মরোগ,
· বাতরোগ,
· পোকামাকড়ের কামড়ের চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য বলে ধরা হয়।
গেওয়া গাছ ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের অংশ হওয়ায়:
· মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ির প্রজননক্ষেত্র তৈরি করে।
· এতে প্রাকৃতিক মৎস্যচাষ (Fish nursery) সুবিধা পায়, যা বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
য虽 গেওয়া সরাসরি বাণিজ্যিক ফসল না, তবুও এটি:
· নদীভাঙন রোধে,
· লবণাক্ততা সহ্য করে মাটির উর্বরতা ধরে রাখতে,
·
ঘূর্ণিঝড়ে উপকূল রক্ষা করতে,
এবং এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে কৃষি ও মৎস্য খাতকে রক্ষা করে,
যা অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
গেওয়ার পাতা ও ছাল থেকে একধরনের বিষাক্ত রস বের হয়, যা:
· মাছ ধরা বা কীটনাশক হিসেবে ঐতিহ্যগতভাবে কিছু এলাকায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
· গবেষণাগারে এই বিষাক্ত উপাদানের কীটনাশক বা ওষুধে ব্যবহার নিয়ে গবেষণা চলছে।
· সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ গাছ হিসেবে গেওয়া ইকো-ট্যুরিজম আকর্ষণের অংশ, যা পর্যটন খাতের আয় বাড়ায়।
গেওয়া গাছ সরাসরি কৃষিজ বা খাদ্যশস্য উৎপাদনের গাছ না হলেও, এর কাঠ, পরিবেশগত অবদান, ঔষধি ব্যবহার, এবং মৎস্য খাতে অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত উপকূলীয় অঞ্চলে এর বাণিজ্যিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব অপরিসীম। গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে এর বানিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বাড়ানো সম্ভব।
৫৩
৯১ মন্তব্য