Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০২:৫৪ অপরাহ্ণ

IPEMIS এর পূর্ণরূপ হলো Integrated Primary Education Management Information System
IPEMIS এর পূর্ণরূপ কী?
IPEMIS এর পূর্ণরূপ হলো Integrated Primary Education Management Information System
এটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) কর্তৃক পরিচালিত একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সকল তথ্য, যেমন - স্কুল, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবকাঠামো, পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ইত্যাদি সহজে ও দ্রুততার সাথে ব্যবস্থাপনা করা হয়।
Check completed •Understand the results
এই সিস্টেমে লগ ইন করার জন‌্য কী কী তথ্যের প্রয়োজন হয়?
IPEMIS সিস্টেমে লগইন করার জন্য মূলত দুটি প্রধান তথ্যের প্রয়োজন হয়:
১. ইউজারনেম (Username): এটি আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর অথবা ইমেইল ঠিকানা হতে পারে। IPEMIS সিস্টেমে আপনার যে মোবাইল নম্বর বা ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়েছে, সেটিই আপনার ইউজারনেম হিসেবে কাজ করবে।
২. পাসওয়ার্ড (Password): আপনার অ্যাকাউন্টের জন্য নির্ধারিত পাসওয়ার্ড। যদি আপনি প্রথমবার লগইন করেন, তাহলে প্রাথমিক পাসওয়ার্ড হিসেবে সাধারণত "000000" (৬টি শূন্য) ব্যবহার করতে হয়। প্রথমবার লগইন করার পর আপনাকে আপনার পছন্দের পাসওয়ার্ড সেট করার সুযোগ দেওয়া হবে।
যদি আপনি পাসওয়ার্ড ভুলে যান, তাহলে "Forgot Password?" লিংকে ক্লিক করে নিরাপত্তা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে পাসওয়ার্ড রিসেট করতে পারবেন।
নাগরিক সেবা থেকে কী কী সেবা পাওয়া যায়?
IPEMIS সিস্টেমে "নাগরিক সেবা" (Citizen Service) অংশটি মূলত প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও সেবার একটি প্রবেশদ্বার। সাধারণ জনগণ বা অভিভাবক হিসেবে আপনি এই অংশ থেকে যে সকল সেবা পেতে পারেন, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
প্রাথমিক বিদ্যালয় ডিরেক্টরি
আপনি এই সেবার মাধ্যমে সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর তথ্য খুঁজে দেখতে পারবেন। এখানে আপনি বিভিন্ন ফিল্টার ব্যবহার করতে পারবেন, যেমন:
বিভাগ, জেলা, উপজেলা/থানা, ইউনিয়ন/ওয়ার্ড অনুযায়ী বিদ্যালয় অনুসন্ধান।
বিদ্যালয়ের নাম বা কোড ব্যবহার করে নির্দিষ্ট বিদ্যালয় খুঁজে বের করা।
বিদ্যুৎ সংযোগ, ইন্টারনেট সুবিধা, খেলার মাঠ, লাইব্রেরি, বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য সুবিধা আছে এমন বিদ্যালয়গুলো খুঁজে বের করা।
এটি প্রাথমিক শিক্ষার একটি সম্পূর্ণ চিত্র প্রদান করে, যেখানে মোট বিদ্যালয়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেখা যায়।
তথ্যসেবা (পাবলিক ড্যাশবোর্ড)
IPEMIS এর পাবলিক ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন পরিসংখ্যানগত তথ্য উন্মুক্তভাবে দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে:
বিদ্যালয়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং তাদের লিঙ্গভিত্তিক তথ্য।
বিভিন্ন ধরণের বিদ্যালয়ের সংখ্যা, যেমন সরকারি, নব-জাতীয়করণকৃত ইত্যাদি।
বিভিন্ন চার্ট ও গ্রাফের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক চিত্র।
এই তথ্যগুলো প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা দেয় এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ ফর্ম ও প্রতিবেদনসমূহ
"নাগরিক সেবা" অংশে প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন, নীতিমালা, নির্দেশিকা, প্রকাশনা এবং প্রয়োজনীয় ফর্ম ডাউনলোডের সুযোগ থাকে। এর মধ্যে কিছু উদাহরণ হলো:
বিদ্যালয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নির্দেশিকা।
সমন্বিত অনলাইন বদলি নির্দেশিকা।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ ও বিদ্যমান পরিবর্তন নীতিমালা।
প্রাথমিক শিক্ষা পদক নীতিমালা।
উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন অপারেশন ম্যানুয়্যাল।
ফিডব্যাক/মতামত প্রদান
এই সিস্টেমের মাধ্যমে নাগরিক এবং অভিভাবকরা প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে তাদের মতামত, পরামর্শ বা অভিযোগ সরাসরি জমা দিতে পারেন। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন সম্পর্কিত যেকোনো পরামর্শও এখানে দেওয়া যায়।
রিমোট লার্নিং (Remote Learning)
শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন রিমোট লার্নিং ম্যাটেরিয়াল বা কন্টেন্ট (যেমন: ভিডিও টিউটোরিয়াল, অডিও ফাইল, পিডিএফ ডকুমেন্ট) এই অংশে উপলব্ধ থাকতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের বাসায় বসে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সাহায্য করে।
হেল্প ডেস্ক ও সহায়ক তথ্য
নাগরিক সেবার অংশ হিসেবে একটি হেল্প ডেস্ক থাকে, যেখানে সিস্টেম ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়। এখানে ভিডিও টিউটোরিয়াল, সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ), ইউজার গাইড এবং অফলাইন ফর্ম ডাউনলোডের সুযোগ থাকে। এছাড়া, IPEMIS ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সহায়ক ফেসবুক গ্রুপ এবং ইউটিউব ভিডিওর লিঙ্কও দেওয়া থাকে।
সংক্ষেপে, IPEMIS এর নাগরিক সেবা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্যকে একটি একক প্ল্যাটফর্মে এনেছে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রাথমিক শিক্ষার হালনাগাদ তথ্য সহজে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।
IPEMIS এর এই সেবাগুলো সম্পর্কে আপনার আর কোনো নির্দিষ্ট কিছু জানার আছে কি?
IPEMIS এর গুরুত্বপূর্ণ মডিউল সমূহ কী কী?
IPEMIS (Integrated Primary Education Management Information System) বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এটি প্রাথমিক শিক্ষার সকল গুরুত্বপূর্ণ দিককে একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন মডিউলের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। এর প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ মডিউলগুলো হলো:
১. বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা মডিউল (School Management Module): * বিদ্যালয়ের বিস্তারিত তথ্য (নাম, ঠিকানা, কোড, প্রতিষ্ঠা সাল, ধরন ইত্যাদি) সংরক্ষণ। * বিদ্যালয়ের ভৌগোলিক অবস্থান (জিও-ট্যাগিং) সহ মানচিত্রে প্রদর্শন। * অবকাঠামো ও ভৌত সুবিধার তথ্য (শ্রেণিকক্ষ, টয়লেট, পানি, বিদ্যুৎ, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, খেলার মাঠ ইত্যাদি)। * বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক তথ্য, যেমন - প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির তথ্য।
২. শিক্ষক ব্যবস্থাপনা মডিউল (Teacher Management Module): * শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর)। * শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার তথ্য। * নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি ও সংযুক্তির ইতিহাস। * প্রশিক্ষণের তথ্য (কোন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, কতদিনের, কোথায়)। * অবসর গ্রহণ এবং অন্যান্য সেবাবিষয়ক তথ্য।
৩. শিক্ষার্থী ব্যবস্থাপনা মডিউল (Student Management Module): * শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, জন্ম তারিখ, জন্ম নিবন্ধন নম্বর, লিঙ্গ, ঠিকানা, অভিভাবকের তথ্য)। * ভর্তি, শ্রেণি পরিবর্তন, প্রমোশন, টিসি (Transfer Certificate) এবং ড্রপআউটের তথ্য। * উপস্থিতি ও একাডেমিক পারফরম্যান্সের তথ্য। * উপবৃত্তি প্রাপ্তির তথ্য। * বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের তথ্য।
৪. বার্ষিক শুমারি মডিউল (Annual Census Module): * প্রতি বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদ করা হয়। এই মডিউলটি এই শুমারি কার্যক্রমকে স্বয়ংক্রিয় ও নির্ভুল করতে সাহায্য করে।
৫. পাঠ্যপুস্তক বিতরণ মডিউল (Textbook Distribution Module): * প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা নিরূপণ। * পাঠ্যপুস্তক বিতরণের পরিকল্পনা, ট্র্যাকিং এবং বিতরণ প্রক্রিয়া ব্যবস্থাপনা। * বিতরিত বইয়ের হিসাব সংরক্ষণ।
৬. প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা মডিউল (Training Management Module): * শিক্ষকদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের তালিকা তৈরি ও ব্যবস্থাপনা। * প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের নিবন্ধন ও ট্র্যাকিং। * প্রশিক্ষণের ফলাফল ও মূল্যায়ন সংরক্ষণ।
৭. বদলি কার্যক্রম মডিউল (Transfer Management Module): * শিক্ষকদের অনলাইন বদলি আবেদন প্রক্রিয়া। * বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া। * বদলির আদেশ জারি ও কার্যকরীকরণ।
৮. রিপোর্টিং ও অ্যানালিটিক্স মডিউল (Reporting and Analytics Module): * উপরের মডিউলগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন রিপোর্ট তৈরি। * ড্যাশবোর্ড ও গ্রাফিক্যাল উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক চিত্র প্রদর্শন। * নীতিনির্ধারকদের জন্য তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা। * পাবলিক ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য উন্মুক্ত রাখা।
৯. নাগরিক সেবা মডিউল (Citizen Service Module): * এই মডিউলের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ বা অভিভাবকরা বিদ্যালয় সম্পর্কিত তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ ফর্ম, প্রতিবেদন এবং মতামত প্রদানের সুযোগ পান। (পূর্ববর্তী উত্তরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে)।
১০. রিমোট লার্নিং মডিউল (Remote Learning Module): * শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের উপর অনলাইন শিক্ষা উপকরণ (ভিডিও, অডিও, পিডিএফ) সরবরাহ। * শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য রিমোট লার্নিং সহজ করা।
এই মডিউলগুলো একত্রিত হয়ে IPEMIS প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সকল কার্যক্রমকে সমন্বিত, স্বয়ংক্রিয় ও স্বচ্ছ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
IPEMIS এর শিক্ষাথীর কোন কোন তথ‌্য সংরক্ষণ করা হয়?
IPEMIS (Integrated Primary Education Management Information System) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করে থাকে। এই তথ্যগুলো প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনা, পর্যবেক্ষণ এবং উন্নয়নে সহায়তা করে। IPEMIS-এ সাধারণত যে সকল শিক্ষার্থীর তথ্য সংরক্ষণ করা হয়, সেগুলো হলো:
ব্যক্তিগত তথ্য:
শিক্ষার্থীর নাম (বাংলা ও ইংরেজি)।
জন্ম তারিখ।
জন্ম নিবন্ধন নম্বর।
লিঙ্গ (ছেলে/মেয়ে)।
ধর্ম।
জাতীয়তা।
রক্তের গ্রুপ (যদি থাকে)।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা (যদি থাকে) এবং এর ধরন।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী কিনা।
পারিবারিক তথ্য:
পিতা ও মাতার নাম।
পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর।
পিতা ও মাতার পেশা।
অভিভাবকের নাম (যদি পিতা-মাতা না হন)।
অভিভাবকের সাথে শিক্ষার্থীর সম্পর্ক।
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা।
যোগাযোগের মোবাইল নম্বর।
শিক্ষাগত তথ্য:
ভর্তির তারিখ।
ভর্তিকৃত শ্রেণি।
শিক্ষার্থীর আইডি নম্বর।
বর্তমান শ্রেণি ও রোল নম্বর।
পূর্ববর্তী শ্রেণির ফলাফল।
উপস্থিতির তথ্য।
প্রমোশন বা ড্রপআউটের ইতিহাস।
টিসি (Transfer Certificate) সম্পর্কিত তথ্য (যদি অন্য বিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হয়)।
উপবৃত্তি সংক্রান্ত তথ্য:
উপবৃত্তি প্রাপ্তির যোগ্যতা।
উপবৃত্তি প্রাপ্তির অবস্থা।
ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট নম্বর (যেখানে উপবৃত্তির টাকা জমা হয়)।
বার্ষিক শুমারি তথ্য:
প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের হালনাগাদ সংখ্যা ও অন্যান্য পরিসংখ্যানগত তথ্য।
এই তথ্যগুলো শিক্ষক, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, উপজেলা/জেলা শিক্ষা অফিস এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করে থাকে।
IPEMIS সিস্টেমে কী কী রিপোর্ট তৈরি করা যায়?
Show thinking
IPEMIS (Integrated Primary Education Management Information System) একটি ব্যাপক ডেটাবেজ হওয়ায়, এটি থেকে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নানা ধরনের রিপোর্ট তৈরি করা যায়। এই রিপোর্টগুলো নীতিনির্ধারক, প্রশাসক, শিক্ষক এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের জন্য তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অত্যন্ত সহায়ক হয়।
IPEMIS সিস্টেমে যে সকল প্রধান রিপোর্ট তৈরি করা যায়, সেগুলোর একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. বিদ্যালয় সম্পর্কিত রিপোর্ট:
বিদ্যালয় প্রোফাইল রিপোর্ট: প্রতিটি বিদ্যালয়ের বিস্তারিত তথ্য (অবকাঠামো, জমির মালিকানা, ভৌত সুবিধা, বিদ্যুৎ, পানি, টয়লেট, কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ ইত্যাদি)।
বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও অন্যান্য সুবিধা রিপোর্ট: কোন বিদ্যালয়ে কী কী ভৌত সুবিধা আছে বা নেই তার তালিকা।
ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় রিপোর্ট: ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বা অপ্রতুল সুবিধা সম্পন্ন বিদ্যালয়গুলোর তালিকা।
নতুন বিদ্যালয় স্থাপন বা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার রিপোর্ট: শিক্ষার্থী ও এলাকার চাহিদা অনুযায়ী নতুন বিদ্যালয় স্থাপন বা বিদ্যমান বিদ্যালয় সম্প্রসারণের সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ।
২. শিক্ষক সম্পর্কিত রিপোর্ট:
শিক্ষক প্রোফাইল রিপোর্ট: প্রতিটি শিক্ষকের ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত ও চাকুরি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য।
শিক্ষক সংখ্যা রিপোর্ট: বিদ্যালয়, উপজেলা, জেলা ও বিভাগ ভিত্তিক শিক্ষক সংখ্যা (পুরুষ/মহিলা, পদবী অনুযায়ী)।
শিক্ষক ঘাটতি রিপোর্ট: বিদ্যালয় ও শ্রেণি অনুযায়ী শিক্ষক ঘাটতির তথ্য।
প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক রিপোর্ট: কোন শিক্ষক কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন তার তালিকা।
অবসর গ্রহণকারী শিক্ষক রিপোর্ট: আগামীতে অবসর গ্রহণ করবেন এমন শিক্ষকদের তালিকা।
বদলি সংক্রান্ত রিপোর্ট: বদলির জন্য আবেদনকারী, সুপারিশপ্রাপ্ত ও বদলিকৃত শিক্ষকদের তালিকা।
৩. শিক্ষার্থী সম্পর্কিত রিপোর্ট:
শিক্ষার্থী সংখ্যা রিপোর্ট: শ্রেণি, লিঙ্গ, বয়স এবং ধর্ম ভিত্তিক শিক্ষার্থী সংখ্যা (বিদ্যালয়, উপজেলা, জেলা ও বিভাগ ভিত্তিক)।
ভর্তি ও ঝরে পড়ার হার রিপোর্ট: নির্দিষ্ট সময়কালে নতুন ভর্তি, উপস্থিতি এবং ঝরে পড়ার হার বিশ্লেষণ।
উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী রিপোর্ট: উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা ও তাদের তথ্যাদি।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী রিপোর্ট: বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও তাদের প্রকারভেদ।
শ্রেণি ভিত্তিক অগ্রগতি রিপোর্ট: শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভিত্তিক উত্তীর্ণ ও অনুত্তীর্ণের হার।
৪. পাঠ্যপুস্তক বিতরণ সম্পর্কিত রিপোর্ট:
পাঠ্যপুস্তক চাহিদা রিপোর্ট: বিদ্যালয় ও শ্রেণি অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা।
পাঠ্যপুস্তক বিতরণ রিপোর্ট: বিতরণকৃত বইয়ের সংখ্যা এবং বিতরণের অবস্থা।
বইয়ের ঘাটতি বা উদ্বৃত্ত রিপোর্ট: কোন বিদ্যালয়ে বইয়ের ঘাটতি বা অতিরিক্ত বই আছে কিনা তার তথ্য।
৫. বার্ষিক শুমারি ও পরিসংখ্যানগত রিপোর্ট:
বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি (APSC) রিপোর্ট: প্রতি বছর সংগৃহীত সকল প্রাথমিক তথ্য নিয়ে বিস্তারিত পরিসংখ্যানগত রিপোর্ট।
শিক্ষার গুণগত মান রিপোর্ট: বিভিন্ন সূচকের উপর ভিত্তি করে শিক্ষার গুণগত মানের বিশ্লেষণ।
বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রবণতা রিপোর্ট: সময়ের সাথে সাথে শিক্ষার্থী ভর্তি, ঝরে পড়া, পাশের হার ইত্যাদির প্রবণতা বিশ্লেষণ।
শিক্ষাব্যবস্থার ড্যাশবোর্ড রিপোর্ট: সকল গুরুত্বপূর্ণ সূচকের একটি সারসংক্ষেপ চিত্র (সাধারণত গ্রাফ ও চার্টের মাধ্যমে প্রদর্শিত)।
৬. প্রশাসনিক ও আর্থিক রিপোর্ট:
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য রিপোর্ট: প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রোফাইল ও পদায়ন।
উন্নয়ন প্রকল্প ও বাজেট বন্টন রিপোর্ট: বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাজেট ব্যবহারের তথ্য।
বিদ্যালয় অনুদান ব্যবহার রিপোর্ট: বিদ্যালয়গুলোতে বরাদ্দকৃত অনুদানের ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য।
এই রিপোর্টগুলো তৈরি করার মাধ্যমে IPEMIS প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার একটি সামগ্রিক ও স্বচ্ছ চিত্র প্রদান করে, যা দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সময়োপযোগী নীতি প্রণয়নে অপরিহার্য।
IPEMIS এ একজন প্রধান শিক্ষক কী কী গুরুত্বপুর্ন কাজ করতে পারেন?
IPEMIS সিস্টেমে একজন প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারেন, যা বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অপরিহার্য। প্রধান শিক্ষকের মূল কাজগুলো সাধারণত IPEMIS-এর বিভিন্ন মডিউলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ উল্লেখ করা হলো:
১. শিক্ষার্থী তথ্য ব্যবস্থাপনা: * নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি: নতুন শিক্ষার্থীদের তথ্য সিস্টেমে এন্ট্রি করা। * শিক্ষার্থীর প্রোফাইল হালনাগাদ: শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য, পারিবারিক তথ্য, শিক্ষাগত তথ্য (যেমন: উপস্থিতি, পরীক্ষার ফলাফল, প্রমোশন) নিয়মিত হালনাগাদ করা। * শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার তথ্য: কোনো শিক্ষার্থী ঝরে পড়লে তার তথ্য সিস্টেমে আপডেট করা। * টিসি (Transfer Certificate) ইস্যু ও গ্রহণ: এক বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা।
২. শিক্ষক তথ্য ব্যবস্থাপনা: * শিক্ষকদের উপস্থিতি: শিক্ষকদের দৈনিক উপস্থিতি সিস্টেমে রেকর্ড করা। * শিক্ষকদের প্রোফাইল হালনাগাদ: শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য (যেমন: প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি, বদলি) হালনাগাদ করা। * শিক্ষক ঘাটতি বা অতিরিক্ত শিক্ষক চিহ্নিতকরণ: বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষক সংখ্যা যাচাই করা।
৩. বিদ্যালয় তথ্য ব্যবস্থাপনা: * বিদ্যালয়ের প্রোফাইল হালনাগাদ: বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, ভৌত সুবিধা, জমির মালিকানা, বিদ্যুৎ, পানি, টয়লেট, কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ ইত্যাদি তথ্য নিয়মিত আপডেট করা। * বার্ষিক শুমারি তথ্য প্রদান: প্রতি বছর প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারির (APSC) জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও সিস্টেমে এন্ট্রি করা।
৪. পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ব্যবস্থাপনা: * পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা নিরূপণ: শিক্ষার্থীদের সংখ্যার ভিত্তিতে পাঠ্যপুস্তকের সঠিক চাহিদা সিস্টেমে এন্ট্রি করা। * বই বিতরণের তথ্য আপডেট: বিতরিত বইয়ের সংখ্যা এবং বিতরণের অবস্থা সিস্টেমে রেকর্ড করা।
৫. রিপোর্ট ও ড্যাশবোর্ড পর্যবেক্ষণ: * বিভিন্ন রিপোর্ট দেখা: বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবকাঠামো এবং অন্যান্য কার্যক্রম সম্পর্কিত বিভিন্ন রিপোর্ট দেখা ও বিশ্লেষণ করা। * ড্যাশবোর্ড পর্যবেক্ষণ: বিদ্যালয়ের সার্বিক অবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা।
৬. অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ: * বিভিন্ন আবেদন ও অনুমোদন: শিক্ষকদের বদলি বা অন্যান্য প্রশাসনিক আবেদনের প্রাথমিক অনুমোদন বা সুপারিশ করা। * যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান: ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে তথ্যের আদান-প্রদান করা। * মনিটরিং ও মেন্টরিং সংক্রান্ত তথ্য: ই-মনিটরিং গাইডলাইন অনুযায়ী শ্রেণি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও গঠনকালীন মূল্যায়নের তথ্য সংরক্ষণ করা।
সংক্ষেপে, একজন প্রধান শিক্ষক IPEMIS সিস্টেম ব্যবহার করে তার বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ভৌত সম্পদের তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষণ, হালনাগাদ এবং পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, যা বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
IPEMIS এ একজন সহকারী শিক্ষক কী কী তথ‌‌্য আপডেট করতে পারেন?
একজন সহকারী শিক্ষকের IPEMIS (Integrated Primary Education Management Information System) সিস্টেমে তথ্য হালনাগাদ করার ক্ষমতা প্রধান শিক্ষকের চেয়ে কিছুটা সীমিত থাকে। সাধারণত, সহকারী শিক্ষকরা মূলত তাঁদের নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্যাদি এবং তাঁদের তত্ত্বাবধানে থাকা শিক্ষার্থীদের তথ্য হালনাগাদ করতে পারেন।
সহকারী শিক্ষক IPEMIS-এ যে সকল তথ্য আপডেট করতে পারেন, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য
একজন সহকারী শিক্ষক তাঁর নিজস্ব প্রোফাইল সেকশনে কিছু তথ্য হালনাগাদ করতে পারেন। এর মধ্যে থাকতে পারে:
যোগাযোগের তথ্য: যেমন - মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা।
বর্তমান ঠিকানা: যদি ঠিকানার পরিবর্তন হয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ: নতুন কোনো ডিগ্রি অর্জন করলে বা প্রশিক্ষণের সনদ যোগ করলে।
প্রশিক্ষণ সম্পর্কিত তথ্য: বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের বিবরণ।
তবে, পদোন্নতি, বদলি, পদবী পরিবর্তন, বা সার্ভিস বুকের মতো সংবেদনশীল তথ্যগুলো সাধারণত প্রধান শিক্ষক অথবা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আপডেট করা হয়।
২. শিক্ষার্থীদের তথ্য (প্রধান শিক্ষকের অনুমতিক্রমে বা তত্ত্বাবধানে)
শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা মুখ্য হলেও, সহকারী শিক্ষকরা নির্দিষ্ট কিছু তথ্য আপডেটে সহায়তা করতে পারেন, বিশেষ করে যদি তাদের নির্দিষ্ট শ্রেণির দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়। এর মধ্যে থাকতে পারে:
শিক্ষার্থীর উপস্থিতি: দৈনিক বা মাসিক উপস্থিতি রেকর্ড করা।
পরীক্ষার ফলাফল: নির্দিষ্ট বিষয়ে বা শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফল সিস্টেমে এন্ট্রি করা।
শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যগত তথ্য: যদি কোনো নতুন স্বাস্থ্যগত তথ্য জানা যায় (যেমন - কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা বিশেষ প্রয়োজন)।
উপবৃত্তি সম্পর্কিত তথ্য: উপবৃত্তি প্রাপ্তি বা যোগ্যতার প্রাথমিক তথ্য।
এই কাজগুলো সাধারণত প্রধান শিক্ষক কর্তৃক সহকারী শিক্ষককে নির্দিষ্ট দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যাতে তথ্যের নির্ভুলতা ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
সহকারী শিক্ষকের IPEMIS অ্যাক্সেসের মাত্রা এবং তথ্য আপডেটের ক্ষমতা বিদ্যালয়ের পলিসি এবং IPEMIS সিস্টেমের নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর ভূমিকা (User Role) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে, সহকারী শিক্ষকরা তথ্যের প্রাথমিক এন্ট্রি করেন এবং প্রধান শিক্ষক সেগুলো যাচাই করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন।
এই সিস্টেমে সহকারী শিক্ষকদের অ্যাক্সেস মূলত তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা এবং প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক চাপ কমানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
IPEMIS এ পাসওয়ার্ড ভূলে গেলে কীভাবে পুনরুদ্ধার করা যায়?
IPEMIS সিস্টেমে পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে আপনি সাধারণত দুটি প্রধান উপায়ে তা পুনরুদ্ধার করতে পারেন:
১. নিরাপত্তা প্রশ্নের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার (যদি সেট করা থাকে)
যদি আপনার IPEMIS অ্যাকাউন্টে নিরাপত্তা প্রশ্ন সেট করা থাকে, তাহলে আপনি নিজেই পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধার করতে পারবেন:
লগইন পৃষ্ঠায় যান: IPEMIS-এর লগইন পেজে (সাধারণত login.ipemis.dpe.gov.bd/login) যান।
'পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?' ক্লিক করুন: লগইন বক্সের নিচে থাকা "Forgot Password?" অথবা "পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?" লিংকে ক্লিক করুন।
ইউজারনেম/মোবাইল নম্বর/ইমেইল দিন: আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বা ইমেইল ঠিকানা (যা আপনি ইউজারনেম হিসেবে ব্যবহার করেন) ইনপুট বক্সে লিখুন।
নিরাপত্তা প্রশ্নের উত্তর দিন: সিস্টেম আপনাকে আপনার সেট করা নিরাপত্তা প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করবে। প্রশ্নটির সঠিক উত্তর লিখুন।
নতুন পাসওয়ার্ড সেট করুন: যদি নিরাপত্তা প্রশ্নের উত্তর সঠিক হয়, তাহলে সিস্টেম আপনাকে একটি নতুন পাসওয়ার্ড সেট করার অনুমতি দেবে। এখানে একটি শক্তিশালী এবং মনে রাখার মতো পাসওয়ার্ড সেট করুন।
২. ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার
যদি আপনি আপনার সেট করা নিরাপত্তা প্রশ্নের উত্তর ভুলে যান অথবা কোনো কারণে উপরের পদ্ধতিটি কাজ না করে, তাহলে আপনাকে আপনার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে হবে:
উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার (UPEO/TPEO): প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা সহকারী শিক্ষকরা সাধারণত তাঁদের উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার (UPEO/TPEO) এর সাথে যোগাযোগ করে পাসওয়ার্ড রিসেট করার অনুরোধ করতে পারেন।
সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার (AUPEO/ATPEO): ক্ষেত্রবিশেষে সহকারী উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসারও (AUPEO/ATPEO) এই বিষয়ে সাহায্য করতে পারেন।
আপনার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের অ্যাক্সেস থেকে আপনার পাসওয়ার্ড রিসেট করে দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে তারা আপনাকে একটি টেম্পোরারি পাসওয়ার্ড দিতে পারেন, যা দিয়ে লগইন করার পর আপনাকে অবশ্যই আপনার নিজের পছন্দমতো একটি নতুন পাসওয়ার্ড সেট করে নিতে হবে।
মনে রাখবেন:
আপনার ইউজারনেম সাধারণত আপনার IPEMIS-এ নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বা ইমেইল ঠিকানা হয়ে থাকে।
নিরাপত্তা প্রশ্ন সেট করার সময় এমন একটি প্রশ্ন এবং উত্তর নির্বাচন করুন যা আপনার মনে রাখা সহজ কিন্তু অন্যের জন্য অনুমান করা কঠিন।
পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত পরিবর্তন করুন এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন (বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ অক্ষরের সমন্বয়ে)।
অনলাইন শিক্ষক বদলিতে আবেদন দাখিলের ধাপসমূহ কী কী?
প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইন বদলি প্রক্রিয়া IPEMIS (Integrated Primary Education Management Information System) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করেছে। অনলাইনে বদলির জন্য আবেদন দাখিলের ধাপগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
১. IPEMIS সিস্টেমে লগইন
ওয়েবসাইটে প্রবেশ: প্রথমে IPEMIS-এর নির্দিষ্ট বদলি পোর্টাল (https://login.ipemis.dpe.gov.bd/login অথবা http://myschool.eis.dpe.gov.bd) এ প্রবেশ করুন।
লগইন তথ্য: আপনার IPEMIS ইউজার আইডি (সাধারণত আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর) এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সিস্টেমে লগইন করুন। শিক্ষক পিন (ই-প্রাইমারি সিস্টেম) ব্যবহার করে ওটিপি (OTP) অথেনটিকেশনের মাধ্যমেও লগইন করার সুযোগ থাকতে পারে, যা গোপনীয়তা রক্ষা করে।
২. বদলি আবেদন মেনু নির্বাচন
'বদলি আবেদন' অপশনে ক্লিক: লগইন করার পর আপনার ড্যাশবোর্ডে "বদলি আবেদন" বা "Teacher Transfer" অথবা "Inter Department Transfer" নামে একটি অপশন খুঁজে পাবেন। এই অপশনে ক্লিক করুন।
৩. আবেদন ফর্ম পূরণ
ব্যক্তিগত তথ্যের যাচাই: সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার IPEMIS প্রোফাইল থেকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, আইডি, বর্তমান বিদ্যালয়, পদবী ইত্যাদি) প্রদর্শন করবে। নিশ্চিত করুন যে সকল তথ্য সঠিক এবং হালনাগাদ আছে। যদি কোনো তথ্য ভুল থাকে, তবে আগে আপনার প্রোফাইল আপডেট করে নিতে হতে পারে।
বদলির কারণ নির্বাচন: বদলির কারণ নির্বাচন করুন (যেমন: পারিবারিক সমস্যা, স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল পরিবর্তন, স্বাস্থ্যগত কারণ, দূরত্ব, পারস্পরিক বদলি ইত্যাদি)।
পছন্দের বিদ্যালয় নির্বাচন: আপনি বদলি হতে ইচ্ছুক এমন সর্বোচ্চ তিনটি বিদ্যালয় পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে, সিস্টেম শূন্যপদের সকল তথ্য দেখাবে এবং আপনি বিদ্যমান শূন্যপদ দেখে বিদ্যালয় বাছাই করতে পারবেন। যদি একাধিক পছন্দ না থাকে, তবে একটি বিদ্যালয়ও নির্বাচন করা যাবে।
প্রয়োজনীয় তথ্য ও কারণ উল্লেখ: বদলির যৌক্তিক কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করুন। যদি পারস্পরিক বদলি হয়, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের তথ্যও দিতে হবে।
সংযুক্তি (Attachments): বদলির কারণের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন। যেমন: কাবিননামা, স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থলের প্রমাণপত্র, চাকরির বহির প্রথম ৫ পৃষ্ঠার ফটোকপি, মেডিক্যাল সনদ (যদি স্বাস্থ্যগত কারণে হয়), নদীভাঙন সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়) ইত্যাদি।
৪. আবেদন দাখিল (Submit Application)
তথ্য যাচাই: আবেদন দাখিল করার আগে নিশ্চিত করুন যে সকল তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সকল সংযুক্তি আপলোড করা হয়েছে।
আবেদন জমা দিন: "Submit" বা "দাখিল করুন" বাটনে ক্লিক করে আবেদনটি জমা দিন।
৫. আবেদন ট্র্যাকিং ও নিশ্চিতকরণ
ট্র্যাকিং নম্বর: সফলভাবে আবেদন দাখিল করার পর আপনি একটি অ্যাপ্লিকেশন ট্র্যাকিং নম্বর এবং একটি সিস্টেম জেনারেটেড রসিদ (PDF কপি) পাবেন। এটি ভবিষ্যতের রেফারেন্সের জন্য সংরক্ষণ করুন।
মোবাইল নোটিফিকেশন: আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরেও একটি নোটিফিকেশন পেতে পারেন।
আবেদনের অগ্রগতি: আপনার শিক্ষক পিন ব্যবহার করে লগইন করে যেকোনো সময় আপনার ড্যাশবোর্ড থেকে আবেদনের বর্তমান অবস্থা (যেমন: কোন কর্মকর্তার কাছে প্রক্রিয়াধীন আছে) জানতে পারবেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ:
নীতিমালা অনুসরণ: বদলির আবেদন অবশ্যই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত 'সমন্বিত অনলাইন বদলি নির্দেশিকা' (সংশোধিত) ২০২৩ অনুযায়ী হতে হবে। সফটওয়্যারটি নীতিমালার শর্তাবলী মেনে আবেদন গ্রহণ করে, তাই অযাচিত বা শর্ত পূরণ করে না এমন আবেদন গৃহীত হয় না।
স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া: আবেদন দাখিলের পর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে চলে যাবে। প্রতিটি ধাপে সময় নির্ধারিত থাকে এবং সময়ক্ষেপণের কোনো সুযোগ থাকে না।
স্বয়ংক্রিয় স্কোরিং: আবেদনকারীর বদলির প্রেক্ষাপটের আলোকে সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্কোর নির্ধারিত হয়, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
সময়সীমা: অনলাইন বদলির আবেদনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। এই সময়সীমার মধ্যে আবেদন করা অত্যন্ত জরুরি।
এই ধাপগুলো অনুসরণ করে একজন শিক্ষক সহজে IPEMIS সিস্টেমে অনলাইন বদলির আবেদন দাখিল করতে পারেন।
Generate Audio Overview
IPEMIS এর পূর্ণরূপ কী?
IPEMIS এর পূর্ণরূপ হলো Integrated Primary Education Management Information System।
এটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) কর্তৃক পরিচালিত একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সকল তথ্য, যেমন - স্কুল, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবকাঠামো, পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ইত্যাদি সহজে ও দ্রুততার সাথে ব্যবস্থাপনা করা হয়।
এই সিস্টেমে লগ ইন করার জন‌্য কী কী তথ্যের প্রয়োজন হয়?
IPEMIS সিস্টেমে লগইন করার জন্য মূলত দুটি প্রধান তথ্যের প্রয়োজন হয়:
১. ইউজারনেম (Username): এটি আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর অথবা ইমেইল ঠিকানা হতে পারে। IPEMIS সিস্টেমে আপনার যে মোবাইল নম্বর বা ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়েছে, সেটিই আপনার ইউজারনেম হিসেবে কাজ করবে।
২. পাসওয়ার্ড (Password): আপনার অ্যাকাউন্টের জন্য নির্ধারিত পাসওয়ার্ড। যদি আপনি প্রথমবার লগইন করেন, তাহলে প্রাথমিক পাসওয়ার্ড হিসেবে সাধারণত "000000" (৬টি শূন্য) ব্যবহার করতে হয়। প্রথমবার লগইন করার পর আপনাকে আপনার পছন্দের পাসওয়ার্ড সেট করার সুযোগ দেওয়া হবে।
যদি আপনি পাসওয়ার্ড ভুলে যান, তাহলে "Forgot Password?" লিংকে ক্লিক করে নিরাপত্তা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে পাসওয়ার্ড রিসেট করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন

ব্লগ