Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

“ হাওরে মাছের পোনা নিধন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংকট ”

“ হাওরে মাছের পোনা নিধন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংকট ”

বাংলাদেশের হাওর, বিল-ঝিল প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার। এসব জলাশয়ে মাছের উৎপাদন গ্রামীণ জীবিকা, অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ এসব জায়গায় পোনা মাছ নিধন এক ভয়াবহ সমস্যায় রূপ নিয়েছে। ঝুরি জাল, ভেড় জাল কিংবা অন্যান্য নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার ফলে অসংখ্য পোনা ও ডিমসহ মা মাছ বিনাশ হচ্ছে। এতে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন চক্র ব্যাহত হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মাছের সরবরাহ হুমকির মুখে পড়ছে।হাওরের বিলঝিলে প্রায়ই বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা হয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে প্রচুর মাছ মারা গেলেও সেই সঙ্গে অগণিত পোনা মাছ এবং প্রজননক্ষম মা মাছও ধ্বংস হয়। বিষ প্রয়োগ শুধু মাছকেই নিধন করে না, জলজ পরিবেশকেও ধ্বংস করে দেয়। মাছের স্বাভাবিক আবাসস্থল বিনষ্ট হওয়ায় মাছের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে।অন্যদিকে, মা মাছের জন্য কোনো অভয়াশ্রম না থাকাও সংকটকে বাড়িয়ে তুলছে। প্রজনন মৌসুমে মা মাছ রক্ষার জন্য যদি নিরাপদ আশ্রয় না থাকে, তবে মাছের বংশবিস্তার বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়ে মাছের সংকট আরও ঘনীভূত হবে।আজকের অনিয়ন্ত্রিত পোনা নিধন আগামী দিনের মাছের ঘাটতি ডেকে আনবে। গ্রামীণ দরিদ্র মানুষ যারা মাছের উপর নির্ভরশীল, তারা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেলে শুধু খাদ্যের সংকট নয়, পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হবে।এই সংকট নিরসনে কঠোর আইন প্রয়োগ, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধ, বিষ প্রয়োগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মা মাছের জন্য অভয়াশ্রম তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও মাছের স্বাদ নিতে পারে এবং হাওর–বিল আবারও হয়ে ওঠে মাছের ভাণ্ডার।

মোঃ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া 

সহকারী প্রধান শিক্ষক

লাইম পাশা উচ্চ বিদ্যালয় ,ইটনা, কিশোরগঞ্জ। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ