সহকারী অধ্যাপক
০১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৮:০৮ পূর্বাহ্ণ
“ সুন্দরবন মহিলা কলেজ, রামপাল, বাগেরহাট-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত সকল মনীষিদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ”
“ সুন্দরবন মহিলা কলেজ, রামপাল, বাগেরহাট-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত সকল মনীষিদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ”
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সুন্দরবন মহিলা কলেজ, যা ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার বুকে গড়ে ওঠে। এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দক্ষিণ বাংলার নারীদের উচ্চশিক্ষার এক অন্যতম আশ্রয়স্থল ও আত্মপ্রকাশের এক অনন্য ক্ষেত্র।
সুন্দরবন মহিলা কলেজের পেছনে যিনি ছিলেন মূল অনুপ্রেরণা ও প্রতিষ্ঠার কর্ণধার, তিনি হলেন মরহুম আলহাজ্জ্ব আবুবকর ছিদ্দিক। তিনি নিজের দূরদর্শিতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নারী শিক্ষার প্রতি গভীর বিশ্বাস থেকে এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, দৃঢ় সংকল্প এবং নিঃস্বার্থ নেতৃত্ব ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানটি হয়তো আজও অন্ধকারে ঢাকা থাকতো।
শুধু আলহাজ্জ্ব আবুবকর ছিদ্দিক নন, তাঁর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আরও অনেক শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, যাঁরা তৎকালীন সময়ে নারী শিক্ষার সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজকের এই প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণাঞ্চলের অসংখ্য নারীর জীবনে শিক্ষার আলো জ্বালাতে সক্ষম হয়েছে।
এই কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দক্ষিণ বঙ্গে নারীরা পেয়েছে একটি নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ, যেখানে তারা উচ্চ মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পর্যায়ে পাঠ গ্রহণ করে নিজেদেরকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারছে। সুন্দরবন মহিলা কলেজ আজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি নারী ক্ষমতায়নের এক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি যতই সময় অতিক্রম করছে, ততই এটি নিজেকে আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলিতে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময় নানা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই মরহুম
আলহাজ্জ্ব আবুবকর ছিদ্দিক এবং তাঁর সহযাত্রীদের প্রতি,
যাঁদের দূরদর্শী চিন্তা, আত্মত্যাগ ও
সমাজসেবার মানসিকতা আজকের সুন্দরবন মহিলা কলেজকে বাস্তবতা দিয়েছে। তাঁদের এই অবদান
চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য
প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
একটি জাতির প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব না
দিলে। সুন্দরবন মহিলা কলেজ সেই অঙ্গীকারেরই বাস্তব প্রতিফলন। নারী শিক্ষা বিস্তারে
এই প্রতিষ্ঠান যুগ যুগ ধরে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকুক — এটাই সকলের কামনা।
প্রতিষ্ঠাতাসহ মৃত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি,আর যারা জীবিত আছেন তাদের দির্ঘ নি:রোগ সুন্দর জীবন কামনা করি।
১৭
২৭ মন্তব্য