সহকারী শিক্ষক
০৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
৭২ : ১১
وَّ اَنَّا مِنَّا الصّٰلِحُوۡنَ وَ مِنَّا دُوۡنَ ذٰلِكَ ؕ كُنَّا طَرَآئِقَ قِدَدًا ﴿ۙ۱۱﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
১১. এও যে, আমাদের কিছু সংখ্যক সৎকর্মপরায়ণ এবং কিছু সংখ্যক এর ব্যতিক্রম, আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথের অনুসারী(১);
(১) অর্থাৎ আমাদের মধ্যে নৈতিক চরিত্রের দিক থেকেও ভাল ও মন্দ দু' প্রকারের জিন আছে এবং আকীদা-বিশ্বাসের দিক থেকেও মত ও পথ একটি নয়। এ ক্ষেত্রেও আমরা বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত। [সা’দী]
তাফসীরে জাকারিয়া(১১) এবং আমাদের কতক সৎকর্মপরায়ণ এবং কতক এর ব্যতিক্রম, আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথের অনুসারী। [1]
[1] قِدَدٌ অর্থ কোন বস্তুর খন্ড। صَارَ القَوْمُ قِدَدًا ঐ সময় বলা হয়, যখন তাদের অবস্থা এক অপর থেকে ভিন্ন (খন্ড-খন্ড) হয়। অর্থাৎ, আমরা বিভিন্ন দলে এবং বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত হয়ে আছি। অর্থাৎ, জ্বিনদের মধ্যেও মুসলিম, কাফের, ইয়াহুদী ও অগ্নিপূজক ইত্যাদি রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এদের মধ্যেও মুসলিমদের মত ক্বাদারিয়াহ, মুরজিয়াহ, এবং রাফেযাহ ইত্যাদি ফির্কা রয়েছে। (ফাতহুল ক্বাদীর)
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৭২ : ১২
وَّ اَنَّا ظَنَنَّاۤ اَنۡ لَّنۡ نُّعۡجِزَ اللّٰهَ فِی الۡاَرۡضِ وَ لَنۡ نُّعۡجِزَهٗ هَرَبًا ﴿ۙ۱۲﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
১২. এও যে, আমরা বুঝেছি, আমরা যমীনে আল্লাহকে পরাভূত করতে পারব না এবং পালিয়েও তাকে ব্যর্থ করতে পারব না।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১২) (এখন) আমরা বুঝেছি[1] যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহকে পরাভূত করতে পারব না এবং পলায়ন করেও তাঁকে ব্যর্থ করতে পারব না।
[1] ظَنَّ এর অর্থ এখানে জানা, বুঝা ও দৃঢ় বিশ্বাস করার অর্থে ব্যবহূত হয়েছে। যেমন, আরো বহু স্থানে এসেছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৭২ : ১৩
وَّ اَنَّا لَمَّا سَمِعۡنَا الۡهُدٰۤی اٰمَنَّا بِهٖ ؕ فَمَنۡ یُّؤۡمِنۡۢ بِرَبِّهٖ فَلَا یَخَافُ بَخۡسًا وَّ لَا رَهَقًا ﴿ۙ۱۳﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
১৩. এও যে, আমরা যখন হিদায়াতের বাণী শুনলাম তাতে ঈমান আনলাম। সুতরাং যে ব্যক্তি তার রবের প্রতি ঈমান আনে তার কোন ক্ষতি ও কোন অন্যায়ের আশংকা থাকবে না।(১)
(১) بخس শব্দের অর্থ প্রাপ্য অপেক্ষা কম দেয়া এবং رهق শব্দের অর্থ যুলুম করা, অত্যাচার করা। উদ্দেশ্য এই যে মুমিনের প্রতিদান কম দেয়া হবে না এবং আখেরাতে তার উপর যুলুম করে কিছু বাড়িয়ে দেওয়াও হবে না। [ইবন কাসীর]
তাফসীরে জাকারিয়া(১৩) আমরা যখন পথ-নির্দেশক বাণী শুনলাম, তখন তাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম। আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তার কোন ক্ষতি ও কোন অন্যায়ের আশংকা থাকবে না। [1]
[1] অর্থাৎ, না এই আশঙ্কা আছে যে, তাদের সৎকর্মসমূহের প্রতিদানে কোন কমি করা হবে, আর না এই ভয় আছে যে, তাদের অসৎকর্মসমূহকে বর্ধিত করা হবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৭২ : ১৪
وَّ اَنَّا مِنَّا الۡمُسۡلِمُوۡنَ وَ مِنَّا الۡقٰسِطُوۡنَ ؕ فَمَنۡ اَسۡلَمَ فَاُولٰٓئِكَ تَحَرَّوۡا رَشَدًا ﴿۱۴﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
১৪. এও যে, আমাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক আছে মুসলিম আর কিছু সংখ্যক আছে সীমালঙ্ঘনকারী; অতঃপর যারা ইসলাম গ্ৰহণ করেছে তারা সুচিন্তিতভাবে সত্য পথ বেছে নিয়েছে।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৪) আমাদের কতক আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) এবং কতক সীমালংঘনকারী;[1] সুতরাং যারা আত্মসমর্পণ করে (মুসলমান হয়), তারা নিঃসন্দেহে সত্য পথ বেছে নেয়।
[1] অর্থাৎ, যে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর নবুঅতের উপর ঈমান এনেছে সে মুসলিম এবং যে তা অস্বীকার করে সে সীমালংঘনকারী। قَاسِطٌ অর্থ, অত্যাচারী, অনাচারী, সীমালংঘনকারী ও অবিচারকারী। আর مُقْسِطٌ অর্থ, ন্যায়পরায়ণ। অর্থাৎ, قسط ধাতু থেকে গঠিত শব্দ যদি ‘সুলাসী মুজাররাদ’ (কেবল তিন অক্ষরবিশিষ্ট) বাব থেকে হয়, তাহলে অর্থ হবে, অবিচার করা। আর যদি ‘মাযীদ ফীহ’ (তিন অক্ষরের অধিক বর্ধিত ‘ইফআল’) বাব থেকে হয়, তবে অর্থ হবে, সুবিচার করা।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৭২ : ১৫
وَ اَمَّا الۡقٰسِطُوۡنَ فَكَانُوۡا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا ﴿ۙ۱۵﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
১৫. আর যারা সীমালঙ্ঘনকারী তারা তো হয়েছে জাহান্নামের ইন্ধন৷
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৫) অপরপক্ষে সীমালংঘনকারীরা তো জাহান্নামেরই ইন্ধন।’[1]
[1] এ থেকে জানা গেল যে, মানুষের মত জ্বিনরাও জাহান্নাম এবং জান্নাত দু’টিতেই প্রবেশকারী হবে। এদের মধ্যে যে কাফের সে জাহান্নামে যাবে এবং মুসলিম জান্নাতে যাবে। (মাটির সৃষ্টি মানুষ যেমন মাটির আঘাতে কষ্ট পায়, তেমনি আগুনের সৃষ্টি জ্বিন জাহান্নামের আগুনে কষ্ট পাবে।) এখান থেকে জ্বিনদের কথা শেষ হল। এবার আল্লাহর কথা শুরু হচ্ছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৭২ : ১৬
وَّ اَنۡ لَّوِ اسۡتَقَامُوۡا عَلَی الطَّرِیۡقَۃِ لَاَسۡقَیۡنٰهُمۡ مَّآءً غَدَقًا ﴿ۙ۱۶﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
১৬. আর তারা যদি সত্য পথে প্রতিষ্ঠিত থাকত তবে অবশ্যই তাদেরকে আমরা প্রচুর বারি বর্ষণে সিক্ত করতাম,
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৬) আর এই যে, তারা যদি সত্য পথে প্রতিষ্ঠিত থাকত, তাহলে তাদেরকে আমি অবশ্যই প্রচুর পানি পান করাতাম।
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৭২ : ১৭
لِّنَفۡتِنَهُمۡ فِیۡهِ ؕ وَ مَنۡ یُّعۡرِضۡ عَنۡ ذِكۡرِ رَبِّهٖ یَسۡلُكۡهُ عَذَابًا صَعَدًا ﴿ۙ۱۷﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
১৭. যা দ্বারা আমরা তাদেরকে পরীক্ষা করতে পারি। আর যে ব্যক্তি তার রবের স্মরণ হতে বিমুখ হয় তিনি তাকে দুঃসহ শাস্তিতে প্রবেশ করাবেন।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৭) যার মাধ্যমে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করব। [1] আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের স্মরণ হতে বিমুখ হয়, তিনি তাকে কঠিন শাস্তিতে প্রবেশ করাবেন। [2]
[1]أَنْ لَّوِ اسْتَقَامُوْا (আর এই যে---) আয়াতটির সংযোগ হল أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ (আমার প্রতি অহী প্রেরিত হয়েছে যে---) আয়াতের সাথে। অর্থাৎ, আর এ কথাও আমার প্রতি অহী করা হয়েছে যে,---। الطَّرِيْقَةِ অর্থ, সত্য-সরল পথ। অর্থাৎ, ইসলাম। غَدَقٌ অর্থ, প্রচুর। প্রচুর পানি বলতে পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, পৃথিবীতে মাল-ধন এবং বহু উপায়-উপকরণ দিয়ে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করব। যেমন, অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন, {وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ} অর্থাৎ, আর যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং পরহেযগারী অবলম্বন করত, তাহলে আমি তাদের প্রতি আসমানী ও পার্থিব নিয়ামতসমূহের (দ্বার) উন্মুক্ত করে দিতাম।’’ (সূরা আ’রাফ ৯৬ আয়াত) আহলে কিতাবদের আলোচনায়ও এই কথাই বলা হয়েছে। (সূরা মায়িদাহ ৬৬ আয়াত) আবার কেউ কেউ বলেন, এই আয়াত সেই সময় অবতীর্ণ হয়, যখন কাফের কুরাইশদের উপর দুর্ভিক্ষ নেমে এসেছিল। الطَّرِيْقَةِ এর দ্বিতীয় অর্থ করা হয়েছে, ভ্রান্ত পথ। এই অর্থের দিক দিয়ে পার্থিব বরকত বা প্রাচুর্যের কথা ‘ইস্তিদরাজ’ (ক্রমান্বয়ে কিছু দিয়ে আবার কেড়ে নেওয়ার) অর্থে ব্যবহার হয়েছে। যেমন, অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন, {فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ} অর্থাৎ, তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা যখন তা বিস্মৃত হল, তখন তাদের জন্য সমস্ত কিছুর দ্বার উন্মুক্ত করে দিলাম। (সূরা আনআম ৪৪ আয়াত) {أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِهِ مِنْ مَالٍ وَبَنِينَ، نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ অর্থাৎ, তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সাহায্য স্বরূপ যে ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি দান করি তার দ্বারা তাদের জন্যে সর্বপ্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করছি? (সূরা মু’মিনূন ৫৫-৫৬ আয়াত) ইমাম ইবনে কাসীরের নিকট لِنَفْتِنَهُمْ (যাতে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করি) এর দিকে লক্ষ্য করে এই দ্বিতীয় অর্থটাই বেশী সঙ্গতিপূর্ণ। পক্ষান্তরে ঈমাম শাওকানীর নিকট প্রথম অর্থটাই অধিক সঠিক।
[2] صَعَدًا، أي: عَذَابًا شَاقًّا شَدِيْدًا مُوْجِعًا مُؤْلِمًا অর্থাৎ, অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টদায়ক আযাব বা শাস্তি।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৭২ : ১৮
وَّ اَنَّ الۡمَسٰجِدَ لِلّٰهِ فَلَا تَدۡعُوۡا مَعَ اللّٰهِ اَحَدًا ﴿ۙ۱۸﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
১৮. আর নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। কাজেই আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না।(১)
(১) مساجد শব্দটি مسجد এর বহুবচন। মুফাসসিরগণ শব্দটি সাধারণভাবে ইবাদাতখানা বা উপাসনালয় অর্থে গ্রহণ করেছেন। তখন আয়াতের এক অর্থ এই যে, মসজিদসমূহ কেবল আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের জন্যে নির্মিত হয়েছে। অতএব, তোমরা মসজিদে গিয়ে আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কাউকে সাহায্যের জন্যে ডেকো না। সেগুলোতে আল্লাহর ইবাদাতের সাথে সাথে আর কারো ইবাদত করো না। যেমন ইহুদী ও নাসারারা তাদের উপাসনালয়সমূহে এ ধরনের শির্ক করে থাকে। অনুরূপভাবে মসজিদসমূহকে ভ্রান্ত আকীদা-বিশ্বাস ও মিথ্যা কর্মকাণ্ড থেকেও পবিত্র রাখতে হবে। হাসান বাসরী বলেন, সমস্ত পৃথিবীটাই ইবাদাতখানা বা উপাসনালয়। তাই আয়াতটির মূল বক্তব্য হলো আল্লাহর এ পৃথিবীতে কোথাও যেন শিরক করা না হয়। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ বাণী থেকে প্রমাণ পেশ করেছেন, তিনি বলেছেন, “আমার জন্য সমগ্ৰ পৃথিবীকে ইবাদাতের স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের উপায় বানিয়ে দেয়া হয়েছে।” [বুখারী: ৩৩৫, তিরমিযী: ৩১৭]
সাঈদ ইবনে জুবাইর এর মতে, মসজিদ বলতে যেসব অংগ-প্রত্যংগের সাহায্যে মানুষ সিজদা করে সেগুলো অর্থাৎ হাত, হাঁটু, পা ও কপাল বুঝানো হয়েছে। এ ব্যাখ্যা অনুসারে আয়াতটির অর্থ হলো, সমস্ত অংগ-প্রত্যংগ আল্লাহর তৈরী। এগুলোর সাহায্যে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সিজদা করা যাবে না। [কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া(১৮) আর এই যে, মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকেও ডেকো না।[1]
[1] মসজিদের অর্থ সিজদা করার জায়গা। সিজদাও নামাযের একটি রুকন। এই জন্য নামায পড়ার স্থানকে মসজিদ বলা হয়। আয়াতের উদ্দেশ্য স্পষ্ট যে, মসজিদগুলোর উদ্দেশ্য হল, কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করা। তাই মসজিদগুলোতে অন্য কারো ইবাদত করা, অন্য কারো কাছে প্রার্থনা করা এবং অন্য কারো নিকট ফরিয়াদ করা ও সাহায্য চাওয়া জায়েয নয়। এই বিষয়গুলো তো এমনিতেই নিষেধ। কোথাও গায়রুল্লাহর ইবাদত করা জায়েয নয়। তবে মসজিদের কথা বিশেষ করে এই জন্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, এগুলোর নির্মাণ করার উদ্দেশ্যই হল এক আল্লাহর ইবাদত করা। যদি এখানেও গায়রুল্লাহর আহবান আরম্ভ হয়ে যায়, তাহলে এটা অতি জঘন্য এবং অন্যায় আচরণ হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, বর্তমানে অনেক অজ্ঞ মুসলমান মসজিদগুলোতেও আল্লাহর সাথে অন্যকেও সাহায্যের জন্য আহবান করে। বরং মসজিদগুলোতে এমন এমন বাক্য লিপিবদ্ধ থাকে, যাতে আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যের নিকট ফরিয়াদ করা হয়। فَلْيَبْكِ عَلَى الإِسْلاَمِ مَنْ كَانَ بَاكِيًا
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৭২ : ১৯
وَّ اَنَّهٗ لَمَّا قَامَ عَبۡدُ اللّٰهِ یَدۡعُوۡهُ كَادُوۡا یَكُوۡنُوۡنَ عَلَیۡهِ لِبَدًا ﴿ؕ۱۹﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
*রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
**কাফিরগণ।
১৯. আর নিশ্চয় যখন আল্লাহর বান্দা(১) তাঁকে ডাকার জন্য দাঁড়াল, তখন তারা তার কাছে ভিড় জমাল।
(১) এখানে ‘আল্লাহর বান্দা' বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। [সা’দী]
তাফসীরে জাকারিয়া(১৯) আর এই যে, যখন আল্লাহর দাস তাঁকে ডাকবার জন্য দন্ডায়মান হল, তখন তারা তার নিকট ভিড় জমাল। [1]
[1] عَبْدُ اللهِ (আল্লাহর বান্দা বা দাস) বলতে রসূল (সাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। আর এর অর্থ হল, মানুষ ও জ্বিন মিলিত হয়ে আল্লাহর জ্যোতিকে ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিতে চায়। এর আরো অর্থ বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু ইমাম ইবনে কাসীরের নিকট এই অর্থই প্রাধান্য পেয়েছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান৭২ : ২০
قُلۡ اِنَّمَاۤ اَدۡعُوۡا رَبِّیۡ وَ لَاۤ اُشۡرِكُ بِهٖۤ اَحَدًا ﴿۲۰﴾
-আল-বায়ান
-তাইসিরুল
-মুজিবুর রহমান
-Sahih International
২০. বলুন, আমি তো কেবল আমার রবকেই ডাকি এবং তার সঙ্গে কাউকেও শরীক করি না।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(২০) বল, ‘আমি কেবল আমার প্রতিপালককেই ডাকি এবং তাঁর সাথে কাউকেও শরীক করি না।’ [1]
[1] অর্থাৎ, যখন সকলেই তোমার সাথে শত্রুতা করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং উঠে পড়ে লেগেছে, তখন তুমি তাদেরকে বলে দাও, আমি তো কেবল আমার প্রতিপালকের ইবাদত করি, তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং তাঁরই উপর ভরসা করি।
১৬
২৬ মন্তব্য