Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০২:৩৭ অপরাহ্ণ

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কঃ
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কঃ
************************
- মোহাম্মদ আব্দুল মুহাইমিন

#যিনি শেখান তিনি শিক্ষক, যিনি শেখেন তিনি শিক্ষার্থী অর্থাৎ, যিনি নিয়মিত অধ্যয়ন করেন, সত্যের আলোতে নিজেকে উদ্ভাসিত করেন, ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করেন, শেখার প্রতি যিনি আগ্রহী ও যত্মশীল থেকে প্রতিটি কর্তব্য যথাসময়ে সম্পাদন করেন, তিনিই ছাত্র।যুগে যুগে যত নবী-রাসুল এসেছেন সবাই শিক্ষক ছিলেন। সব নবী-রাসুল তার অনুসারীদের শিক্ষা দিয়েছেন। তাদের সম্পর্ক ছিল সুমধুর। শিক্ষার্থীর কাছে শিক্ষকের সব চেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো শিক্ষার্থীরা তার দেওয়া শিক্ষায় প্রকৃত অর্থেই শিক্ষিত হবে। তার দেখানো পথে চলবে,তাকে সম্মান করবে, শ্রদ্ধা করবে, শিক্ষক হিসেবে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেবে।
#প্রথম শিক্ষকঃ আদি শিক্ষক হলেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। তাই ফেরেশতারা বলেছিলেন; قَالُوۡا سُبۡحٰنَكَ لَا عِلۡمَ لَنَآ اِلَّا مَا عَلَّمۡتَنَا ؕ اِنَّكَ اَنۡتَ الۡعَلِيۡمُ الۡحَكِيۡمُ‏ ٣٢
আপনার সত্তাই পবিত্র। আপনি আমাদেরকে যতটুকু জ্ঞান দিয়েছেন, তার বাইরে আমরা কিছুই জানি না।(সুরা-বাকারা, আয়াত: ৩২)।
#আমাদের প্রিয় নবী (সা.)–এর প্রতি ওহির প্রথম নির্দেশ ছিল, আল্লাহ পাক কুরআনে বলেন,- اِقۡرَاۡ بِاسۡمِ رَبِّكَ الَّذِیۡ خَلَقَ ۚ﴿۱خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ عَلَقٍ ۚ﴿۲﴾اِقۡرَاۡ وَ رَبُّكَ الۡاَكۡرَمُ ۙ﴿۳﴾الَّذِیۡ عَلَّمَ بِالۡقَلَمِ ۙ﴿۴﴾ عَلَّمَ الۡاِنۡسَانَ مَا لَمۡ یَعۡلَمۡ ؕ﴿۵﴾
‘পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্ত দ্বারা। পড়ো, তোমার রব মহা সম্মানিত, যিনি শিক্ষাদান করেছেন লেখনীর মাধ্যমে। শিখিয়েছেন মানুষকে, যা তারা জানত না।’ (সুরা-৯৬ আলাক, আয়াত: ১-৫)।
#অপর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন- اَلرَّحۡمٰنُ ۙ﴿۱﴾عَلَّمَ الۡقُرۡاٰنَ ؕ﴿۲﴾ خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ ۙ﴿۳﴾عَلَّمَهُ الۡبَیَانَ ﴿۴
‘দয়াময় রহমান আল্লাহ! কোরআন শেখাবেন বলে মানব সৃষ্টি করলেন; তাকে ভাষা শেখালেন।’ (সুরা-৫৫ রহমান, আয়াত ১-৪)।
#প্রিয় নবী (সা.) ছিলেন মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তিনি নিজেই ঘোষণা করেছেন, ‘আমি তো শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৫)
#রাসুল (সা.) বলেছেন, নিশ্চয় জ্ঞানটা ধর্ম স্বরূপ সুতরাং কাদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করবে তাদেরকে ভালোভাবে দেখে নাও। (সহীহ মুসলিম)
#তিনি আরো বলেছেন, "আলেমগণ নবীদেরদের উত্তরাধিকারী। আর এ কথা সুনিশ্চিত যে, নবীগণ কোন রৌপ্য বা স্বর্ণ মুদ্রার কাউকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে যাননি; বরং তাঁরা ইলমের জ্ঞানভান্ডারের উত্তরাধিকারী বানিয়ে গেছেন।(বায়হাকী শরীফ)
পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক মুহাম্মাদ (স.) ছাহাবীগণ ছিলেন তাঁর ছাত্র। তিনি ছাহাবীদের নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। ছাহাবীগণও তাকে ভালোবাসতেন পৃথিবীর যেকোনো কিছুর তুলনায় অনেক বেশি। এমনকি ছাহাবীগণ মহানবী (স.)এর সামনে উঁচুস্বরে কথাও বলতেন না।
#ইলম বা জ্ঞান এমন এক সম্পদ, যা অহংকার ও গর্বের দ্বারা অর্জন করা যায় না। এ জন্য ছাত্রকে অবশ্যই শিক্ষকের সামনে বিনয় প্রদর্শন করতে হবে। মুসা (আ.) আল্লাহর শীর্ষস্থানীয় নবী ও রাসুল হওয়া সত্ত্বেও খিজির (আ.)-এর কাছে ইলম শেখার জন্য তাঁর সাহচর্য কামনা করে অতি বিনয়ের সঙ্গে প্রার্থনা করেছিলেন। মুসা (আ.) একাধারে বনি ইসরাঈলের নবী, আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাওরাত দ্বারা সম্মানিত করেছেন, তিনি আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁকে বড় ধরনের মোজেজা দ্বারা সম্মানিত করা হয়েছে। এত মর্যাদার অধিকারী হয়েও তিনি খিজির (আ.)-এর সঙ্গে যে বিনয় প্রদর্শন করেছেন তাতে বোঝা যায়, ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে বিনয়, ভদ্রতা ও নম্রতার আচরণ একান্ত কাম্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুসা তাকে [খিজির (আ.)] বললেন, আমি এ উদ্দেশ্যে আপনার অনুগমন করতে পারি, যে ইলম শিক্ষা দেওয়া হয়েছে আপনাকে, আমাকে তা থেকে কিছু কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দেবেন।قَالَ لَهٗ مُوۡسٰى هَلۡ اَتَّبِعُكَ عَلٰٓى اَنۡ تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمۡتَ رُشۡدًا‏
’ (অর্থাৎ, অনুমতি হলে কয়েক দিন আপনার সঙ্গে থাকি এবং আপনাকে যে বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়েছে তার কিছু অংশ অর্জন করি)। (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৬৬)
قَالَ اِنَّكَ لَنۡ تَسۡتَطِيۡعَ مَعِىَ صَبۡرًا‏ ٦٧ وَكَيۡفَ تَصۡبِرُ عَلٰى مَا لَمۡ تُحِطۡ بِهٖ خُبۡرًا‏ ٦٨ قَالَ سَتَجِدُنِىۡۤ اِنۡ شَآءَ اللّٰهُ صَابِرًا وَّلَاۤ اَعۡصِىۡ لَكَ اَمۡرًا‏  ٦٩ قَالَ فَاِنِ اتَّبَعۡتَنِىۡ فَلَا تَسۡـَٔـلۡنِىۡ عَنۡ شَىۡءٍ حَتّٰٓى اُحۡدِثَ لَـكَ مِنۡهُ ذِكۡرًا‏ ٧٠ فَانْطَلَقَا حَتّٰۤى اِذَا رَكِبَا فِى السَّفِيۡنَةِ خَرَقَهَا​ ؕ قَالَ اَخَرَقۡتَهَا لِتُغۡرِقَ اَهۡلَهَا​ ۚ لَقَدۡ جِئۡتَ شَيۡــًٔـا اِمۡرًا‏ ٧١
(অর্থাৎ,সে বলল, ‘আপনি কিছুতেই আমার সাথে ধৈর্য ধারণ করতে পারবেন না।’আপনি কীভাবে সে বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করবেন যা আপনার জ্ঞানের আয়ত্বের বাইরে?’মূসা বলল, ‘আল্লাহ চাইলে আমাকে ধৈর্যশীলই পাবেন, আমি আপনার কোন নির্দেশই লঙ্ঘন করব না।’সে বলল, ‘আপনি যেহেতু আমার অনুসরণ করতেই চান, তাহলে আপনি আমাকে কোন ব্যাপারেই প্রশ্ন করবেন না যতক্ষণ না আমি নিজেই সে সম্পর্কে আপনাকে বলি।’অতঃপর তারা দু’জনে চলতে লাগল যতক্ষণ না তারা নৌকায় উঠল, অতঃপর লোকটি নৌকায় ছিদ্র করে দিল। মূসা বলল, ‘আপনি কি তার আরোহীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য তাতে ছিদ্র করলেন? আপনি তো এক অদ্ভুত কাজ করলেন।’)
মন্তব্য করুন