Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:১১ অপরাহ্ণ

সংযুক্ত ইবতেদায়ী স্তরকে দাখিল, আলিম,ফাযিল ও কামিল স্তর থেকে পৃথক করা সময়ের দাবি :

শিরোনাম: সংযুক্ত ইবতেদায়ী স্তরকে দাখিল, আলিম,ফাযিল ও কামিল স্তর থেকে পৃথক করা সময়ের দাবি :

শিক্ষার এক একটি স্তর এক একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে।ইবতেদায়ী স্তর শিক্ষার্থীদের অক্ষর-জ্ঞান, বুনিয়াদি শিক্ষা এবং শিক্ষার মৌলিক বিষয় নিয়ে কাজ করে।শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ভীত গঠন করে। এর সাথে সাথে একজন শিক্ষার্থীকে দাখিল স্তরের জন্য প্রস্তুত করে।

দাখিল স্তরে ইবতেদায়ী স্তরের বিষয়গুলোকে বিস্তারিতভাবে শেখানো হয় এবং আলিম স্তরের জন্য প্রস্তুত করে।


আলিম স্তর একজন শিক্ষার্থীকে বিষয় জ্ঞানে পারদর্শী এবং বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে প্রস্তুত করে।


আর কামিল স্তর পরিপূর্ণভাবে একজন শিক্ষার্থীকে বিশেষজ্ঞ যেমন: মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকিহ এবং আদিব তৈরি করে।

তাই দেখা যায় ইবতেদায়ী মাদ্রসার এক লক্ষ্য, আলিম মাদ্রাসার আরেক লক্ষ্য এমনিভাবে ফাযিল ও কামিল মাদ্রাসার পৃথক পৃথক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে। যখন এই স্তরগুলো একই সাথে যুক্ত থাকে তখন কোনো লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।বিশেষ করে ইবতেদায়ী ও দাখিল স্তর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় । তাই সকল সংযুক্ত ইবতেদায়ী ও দাখিল স্তরকে পৃথক করা সময়ের দাবি। পৃথক করার ক্ষেত্রে নতুন করে জনবল কাঠামো,অবকাঠামো  এবং জমির প্রয়োজন হয় না

তবে যাদের জমি ও অবকাঠামোগত অপর্যাপ্ততা রয়েছে তাদের জন্য নীতিমালা শিথিল যোগ্য করলে আশা করি একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার মান উন্নয়নে।

যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো,জায়গা-জমি কম থাকে তাহলে তাদের জন্য বিধি শিথিল যোগ্য করা যেতে পারে । এবং নতুন করে যে সকল মাদ্রাসা স্থাপিত হবে সেগুলোকে বিভিন্ন ধাপে স্তর ভিত্তিক উন্নীত করা যাবে না।


সংযুক্ত ইবতেদায়ী স্তরকে পৃথক করলে যে সকল সুবিধা রয়েছে :

১.উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হবে না।

২.ফিডিং কর্মসূচির আওতায় আনা যাবে।

৩.অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন নেই। 

৪.পৃথক জমি ও একাডেমিক ভবনের প্রয়োজন নেই। 

৫.শিক্ষার গুণগত  মান উন্নয়ন হবে এবং তদারকি বৃদ্ধি পাবে ।

৬.বিভিন্ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হবে না।

৭.একাডেমিক প্ল্যান তৈরি করা সম্ভব হবে। 

৮.এই স্তরের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। 

৯.ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয়করণ সহজ হবে। 

১০.পৃথক বেতন কাঠামো তৈরি করা সম্ভব। 

১১.উপরের স্তরের শিক্ষক দ্বারা নিচের স্তরে ক্লাস নেওয়ার রীতি বন্ধ হবে।

১২.উপরের স্তরের শিক্ষার্থীদের দ্বারা নিচের স্তর ব্যাকআপ দেওয়া এবং নীচের স্তরের দ্বারা উপরে স্তরকে ব্যাকআপ দেওয়া বন্ধ হবে।


এর সাথে সাথে সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী নাম বিলুপ্ত করে "ইবতেদায়ী শিক্ষা অধিদপ্তর " গঠন করা জরুরি। সংযুক্ত ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে দাখিল, আলিম, ফাযিল ও কামিল স্তর থেকে পৃথক করলে অতিরিক্ত  ভবন,জমি,জনবল প্রয়োজন হবে না এবং বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবে না।ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয়করণ অধিকতর সহজ হবে।


সংযুক্ত দাখিল স্তরকে পৃথক করলে যে সকল সুবিধা রয়েছে :

১.একজন সুপার ও সহ-সুপার ব্যতীত অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন নেই। 

২.পৃথক জমি ও একাডেমিক ভবনের প্রয়োজন নেই। 

৩.শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন হবে এবং তদারকি বৃদ্ধি পাবে ।

৪.বিভিন্ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হবে না।

৫.একাডেমিক প্ল্যান তৈরি করা সম্ভব হবে। 

৬.এই স্তরের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। 

৭.উপরের স্তরের শিক্ষক দ্বারা নিচের স্তরে ক্লাস নেওয়ার রীতি বন্ধ হবে।

৮.উপরের স্তরের শিক্ষার্থীদের দ্বারা নিচের স্তর ব্যাকআপ দেওয়া এবং নীচের স্তরের দ্বারা উপরে স্তরকে ব্যাকআপ দেওয়া বন্ধ হবে।


মাদ্রাসাগুলোর স্তর বিন্যাস হবে যেভাবে : 


১.ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ( ১ম -৫ম শ্রেণি)।

কোনো মাদ্রাসা ইবতেদায়ী (প্রাইমারি স্তর)  স্তর হলে সেখানে দাখিল স্তর সংযুক্ত করা যাবে না।ইবতেদায়ী মাদ্রাসা বলতে শুধু ১ম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত চালু রয়েছে এরকম মাদ্রাসাকে বুঝাবে। 

২.দাখিল মাদ্রাসা এর সাথে  ইবতেদায়ী স্তর থাকতে পারবে না( ৬ষ্ঠ -১০ম)।

৩.আলিম মাদ্রাসা ( ১১-১২)এর সাথে ইবতেদায়ী ও দাখিল স্তর সংযুক্ত করা যাবে না 

৪.ফাযিল মাদ্রাসা(১৩-১৫/ ১১-১৫)এর সাথে ইবতেদায়ী স্তর ও দাখিল স্তর সংযুক্ত করা যাবে না তবে আলিম স্তর করা যাবে।

৫.কামিল মাদ্রাসা (১৩-১৫/ ১১-১৫) ( ১১-১৭/১৩-১৭/১৬-১৭)এর সাথে ইবতেদায়ী স্তর ও দাখিল স্তর সংযুক্ত করা যাবে না তবে আলিম স্তর করা যাবে এবং ফাযিল স্তর করা যাবে।


এইভাবে যখন প্রত্যেকটি স্তর পৃথক থাকবে তখন প্রত্যেকটি স্তর ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করবে। সংযুক্ত থাকায় দাখিল মাদ্রাসায় বিশেষ করে ইবতেদায়ী স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আলিম মাদ্রায় ইবতেদায়ী স্তর ও দাখিল স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফাযিল মাদ্রাসায় ফাযিল স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়(ফাযিলে শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত নেই চলে নিচের শিক্ষার্থী দিয়ে)আর কামিল মাদ্রাসায় সব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।দেখা যায় একটা কামিল মাদ্রাসায় কামিলে কোনো শিক্ষার্থী নেই!  মুহাদ্দিস ক্লাস নিচ্ছে দাখিল স্তরে!

মন্তব্য করুন