সহকারী শিক্ষক
০৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৮:৫৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, জাতিগত বৈষম্য, ভাষা আন্দোলন ও দমন-পীড়নের পর বাঙালি জাতি স্বাধীনতার দাবিতে এক অভূতপূর্ব লড়াই শুরু করে। এই যুদ্ধের মধ্য দিয়েই পৃথিবীর মানচিত্রে একটি নতুন স্বাধীন দেশ—বাংলাদেশ—এর জন্ম হয়।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়। পূর্ব বাংলা হয় পাকিস্তানের পূর্বাংশ (পূর্ব পাকিস্তান) এবং পশ্চিম পাকিস্তান হয় দেশের পশ্চিমাংশ। কিন্তু পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী সবসময় পূর্ব পাকিস্তানকে অবহেলা করে।
বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল মুক্তির প্রথম ধাপ। এরপর অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক অধিকার হরণ এবং সাংস্কৃতিক দমননীতি বাঙালিদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান ও পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করেন।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ, রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা দেন—
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
২৫ মার্চ ১৯৭১ রাতে পাকিস্তানি সেনারা “অপারেশন সার্চলাইট” নামে ঢাকায় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। হাজারো মানুষ নিহত হন। সেই রাতেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
২৬ মার্চকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
নয় মাসব্যাপী এই মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করে।
মুক্তিযোদ্ধারা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি সেনাদের মোকাবিলা করে। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী একত্রে যুদ্ধ করে ডিসেম্বর মাসে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ অর্জন করে তার কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।
এই দিনটিকে আমরা প্রতি বছর বিজয় দিবস হিসেবে পালন করি।
মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি দেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস নয়, এটি বাঙালি জাতির অস্তিত্ব, সম্মান ও মানবিক অধিকারের লড়াই।
এই যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি—
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ, সাহস ও ঐক্যের প্রতীক। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের সর্বোচ্চ গর্ব। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানো।
“রক্তে ভেজা এই দেশের মাটি,
শহীদের রক্তে লেখা স্বাধীনতার ইতিহাস।”
৭
৭ মন্তব্য