সিনিয়র শিক্ষক
১০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ
জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ পজেটিভ ভাবা শিখা
অধ্যাপক ক্লাসে বলছেনঃ তোমাদের সাথে একটি
গল্প শেয়ার করছি। এক সুখী দম্পতি নৌভ্রমনে গেলো।
গভীর এবং প্রচন্ড শীতের রাত হঠাৎ নৌযানটি ভয়াবহ
দুর্ঘটনায় গভীর সাগরে ডুবতে শুরু করলো। নৌ কর্মী
একটি লাইফ বট দিয়ে বললোঃ এটা শুধু একজনের।
দুই জন উঠলে ডুবে যাবে।
স্বামী-স্ত্রী বটের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলো। স্বামী, স্ত্রীকে
সজরে ধাক্কা দিয়ে লাইফ বোটে স্বার্থপরের মত উঠে পড়ে।
স্ত্রী ডুবন্ত শিপে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে স্বামীকে বলছিলো।
আমার প্রশ্ন, স্ত্রী তার স্বামীকে কি বলছিলো?
:
এক ছাত্রীঃ আমি তোমাকে ঘৃণাহ করি।
বেঈমান।
:
আরেক ছাত্রঃ আমি অভিশাপ দেই,
তুমি সুখ পাবে না।
:
আরেক ছাত্রীঃ তুমি পারলে?
আমাকে মেরে ফেলতে।
:
এভাবে সমস্ত ক্লাশে বলছে নেগেটিভ
কথা,বলতে লাগলো।
কোনায় একটি ছাত্র চুপ করে বসে আছে।
:
নিশ্চুপ ছাত্রটিকে দেখে অধ্যাপকঃ বাবা,
তুমি কিছু বললে না যে?
:
নিশ্চুপ ছাত্রঃ স্যার, আমার ধারনাটা ভিন্ন।
তাই বলছি না।
:
অধ্যাপকঃ তোমার ধারনাটি কি?
:
ছাত্রঃ স্যার, স্ত্রী, বলেছিলো তুমি
আমার মেয়েটির খেয়াল রেখো।
:
অধ্যাপকঃ Yes, very good
তুমি কি গল্পটা জানতে?
:
ছাত্রঃ না, স্যার।
:
অধ্যাপকঃ সঠিক উত্তর দিলে
কিভাবে?
:
ছাত্রঃ হাসপাতালে আমার ক্যান্সার আক্রান্ত মা,
মৃত্যর আগে বাবার হাত ধরে বলেছিলো, খোকাকে
দেখে রেখো।
:
অধ্যাপকঃ তোমার মায়ের প্রতি সমবেদনা জানাই।
ধন্যবাদ। আত্মীয় সজনের মধ্যে রটে গেলে স্বার্থপর
স্বামী স্ত্রীকে গভীর সমুদ্রে ফেলে দিয়ে চলে এসেছে।
মেয়েটি বাবাকে খুব ঘৃণা করতো
ভদ্রলোক মৃত্যর পর উনার মেয়ে হঠাৎ বাবার
ডায়েরীটা পেলো। তাতে লিখা ছিলোঃ
তোমার মাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম।
আমাদের খুব সুন্দর সংসার ছিলো। হঠাৎ ডাক্তার
বললেন তোমার মায়ের লিভার ক্যান্সার সমস্ত শরীলে
ছড়িয়ে গেছে। তোমার মায়ের ক্ষণজীবনে আনন্দ দেবার
জন্য তোমাকে তোমার দাদির কাছে রেখে খুব বেড়াতাম।
ভালোবাসার মানুষটি পরোপারের যাত্রী। প্রতিটা ক্ষন
তোমার মায়ের সাথেই থাকতাম। জাহাজটি যখন ডুবে
যাচ্ছিলো, আমি স্বার্থপরের মত তোমার কথা ভুলে
গিয়েছিলাম। এক সাথেই মরবো। তোমার মা বোটটি
দেখেই আমাকে ধাক্কা দিয়ে single person boat
উঁঠিয়ে দিয়েই, শেষ ফ্লাইং কিস দিয়ে বলেছিলোঃ
"জানু, আমার মেয়েটির খেয়াল রেখো"
তোমার দাদিমা, আমাকে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য অনেক
চাপ প্রয়োগ করে। সৎ মা এলে তোমার যত্ন কম হবে।
তোমাকে লালন পালন করতে আমার ভুল ত্রুটি হয়েছিলো।
আমি মা ক্ষমা প্রার্থী।
আজ তুমি প্রতিষ্ঠিতা নারী।
আমার বিদায়ের পালা। কারন তোমার মা আমার পথো
চেয়ে আছে। ভালো থেকো মা। ইতি তোমার
হতভাগা বাবা।
:
অধ্যাপক চোখ মুছতে মুছতে চেয়ারে বসে পড়লেন।
:
আবার বললেনঃ প্রতিটা মানুষের পর্দার আড়ালে
লুকাইয়িত থাকে কিছু দুঃক্ষের কাহিনী।
আমরা পর্দার সুমক্ষের মিথ্যে কাহিনী দেখেই
বলে ফেলি "নেগেটিভ"।
আজ থেকে প্রতিজ্ঞা করো,
জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপে নেগেটিভ না
ভেবে পজিটিভ ভাববা। মনে রাখবা
বন্ধুকের গুলি আর মুখের কথা একবার বের হলে
আর ফেরৎ আসে না।
৬৫
১০০ মন্তব্য