Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৬:৩৫ অপরাহ্ণ

হয়রানি ছাড়াই মিলবে এনআইডি, পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধন: যাত্রা শুরু করলো নাগরিক সেবা কেন্দ্র

হয়রানি ছাড়াই মিলবে এনআইডি, পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধন: যাত্রা শুরু করলো নাগরিক সেবা কেন্দ্র

সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা, দালালের দৌরাত্ম্য এবং নানাবিধ হয়রানি লাঘবে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে ‘নাগরিক সেবা কেন্দ্র’। প্রাথমিকভাবে রাজধানী ঢাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু হওয়া এই কেন্দ্রগুলো নাগরিকদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট এবং জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো একই ছাদের নিচে নিয়ে এসেছে। ‘এক ঠিকানায় সকল নাগরিক সেবা’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) এই নতুন মডেলের যাত্রা শুরু হয়।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের সরকারি অফিসগুলোতে বারবার ঘুরে হয়রানির শিকার হওয়া থেকে মুক্তি দেওয়া। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কেন্দ্রগুলো প্রচলিত ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) একটি উন্নত ও বিস্তৃত সংস্করণ। প্রাথমিকভাবে ঢাকার গুলশান, উত্তরা, নীলক্ষেত, রমনা, মোহাম্মদপুর এবং বনশ্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কীভাবে কাজ করে এই কেন্দ্র?

নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো মূলত উদ্যোক্তা-নির্ভর মডেলে পরিচালিত। সরকারের মাধ্যমে কঠোরভাবে বাছাইকৃত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্থানীয় উদ্যোক্তারাই এই কেন্দ্রগুলো পরিচালনা করছেন। সেবাগ্রহীতারা, বিশেষ করে যারা প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ নন, তারা সরাসরি এই কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা উদ্যোক্তা সেবাগ্রহীতার পক্ষে অনলাইনে সমস্ত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেবেন। আবেদন জমা হওয়ার পর একটি ট্র্যাকিং নম্বর প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিক তার আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

এর প্রযুক্তিগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে ‘সিটিজেন সার্ভিস কানেক্টিভিটি হাব’ বা ‘ন্যাশনাল সার্ভিস বাস’। এই শক্তিশালী ও নিরাপদ প্রযুক্তিগত কাঠামোটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের সার্ভারকে একীভূত করেছে। ফলে এনআইডি, পাসপোর্ট বা জন্মনিবন্ধনের জন্য নাগরিকদের আর ভিন্ন ভিন্ন ওয়েবসাইটে বা দপ্তরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

সেবা ও সুবিধা

প্রাথমিকভাবে এনআইডি, পাসপোর্ট আবেদন ও নবায়ন, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন সেবা দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে ভূমি সেবা, ট্রেড লাইসেন্স, কর প্রদানসহ প্রায় ৪০০টি সরকারি সেবা এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সরকার নির্ধারিত সেবামূল্যের তালিকা প্রদর্শিত থাকবে, ফলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ থাকবে না। উদ্যোক্তারা সরকার নির্ধারিত ফির পাশাপাশি একটি যৌক্তিক সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করবেন, যা তাদের আয় হিসেবে গণ্য হবে।

এই কেন্দ্রগুলো চালুর ফলে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সরকারি সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হয়রানিমুক্ত পরিবেশে দ্রুত ও সহজে সেবা প্রদানের মাধ্যমে নাগরিক জীবনমান উন্নত করাই এই উদ্যোগের চূড়ান্ত লক্ষ্য।



মন্তব্য করুন

ব্লগ