Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ অক্টোবর, ২০২৫ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

ধানের শীষ সাদা হয়ে চিটা

ধানের শীষ সাদা হয়ে চিটা

ধানের শীষ সাদা হয়ে চিটা (দানা না ভরা বা ফাঁপা) হওয়ার সমস্যা অনেক কৃষকের ক্ষেতেই দেখা যায়। এটি সাধারণত রোগ,

পোকার আক্রমণ , আবহাওয়া ও পুষ্টি ঘাটতির কারণে ঘটে।

নিচে  কারণ ও প্রতিকার দেওয়া হলোঃ

ধানের শীষ সাদা হয়ে চিটা হওয়ার প্রধান কারণ

v শীষ ব্লাস্ট রোগ (Neck Blast)

এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ (Magnaporthe oryzae)।শীষের গোড়ায় কালচে দাগ পড়ে এবং শীষের অংশ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়।আক্রান্ত গাছে দানা পূর্ণ হয় না, ফলে চিটা দানা হয়।

প্রতিকার:

Ø রোগ দেখা দিলে প্রপিকোনাজল গ্রুপের ছত্রাক নাশক প্রতি লিটার পানিতে ১.৫ মিলি হারে মিশিয়ে বিকেলে স্প্রে করবে ।

Ø ধানের শীষ আসার সময়  মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে ধানের শীষ সাদা হয়ে যায়। ধান ক্ষেতে সাদা শীষ দেখা দিলে বা সম্ভাবনা থাকলে কার্বোসালফান গ্রুপের কীটনাশক, যা কার্বামেট শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। এটি স্পর্শক, পাকস্থলী এবং অন্তর্বাহী ক্রিয়া সম্পন্ন একটি কীটনাশক [প্রতি লিটার পানিতে ৩ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করুন।অথবা  কারটাপ গ্রুপের কীটনাশক  [প্রতি লিটার পানিতে ৩ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করুন।

v ধানের প্যানিকল ব্লাস্ট / দানা গঠনের সময় আর্দ্রতার ঘাটতি গরম ও শুকনো বাতাস চলার সময় বা অতিরিক্ত গরমে পরাগায়ন ঠিকমতো না হলে দানা পূর্ণ হয় না।

প্রতিকার:

ফুল আসার সময় হালকা সেচ দিন যাতে মাটি আর্দ্র রাখা ।

v বোরন ও জিঙ্কের ঘাটতি

বিশেষ করে বোরন ঘাটতিতে পরাগায়ন ব্যর্থ হয়, ফলে শীষ সাদা ও চিটা হয়।

প্রতিকার:

Ø বোরন ১কেজি/বিঘা প্রতি (বোরিক অ্যাসিড বা সলিউবল বোরন)  রূপনের সময় প্রয়োগ করুন।

Ø জিঙ্ক ঘাটতি থাকলে জিঙ্ক সালফেট ১কেজি/বিঘা ব্যবহার করুন।

Ø ফুল আসার আগে বোরন ১ গ্রাম/লিটার পানিতে স্প্রে করুন (প্রতি বিঘায় ৫০–৬০ লিটার পানিতে)।

Ø পানির অভাব বা অতিরিক্ত পানি জমে থাক শীষ বের হওয়ার সময় মাটি শুকিয়ে গেলে গাছ পুষ্টি টানতে পারে না। আবার অতিরিক্ত পানি থাকলে মূল নষ্ট হয়।

প্রতিকার:

Ø শীষ বের হওয়ার সময় মাটিতে ৩–৫ সেমি পানি রাখুন।

Ø পানি জমে থাকলে দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন।

 

সংক্ষেপে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

আগাম জাত বাছাই ও সময়মতো রোপণ করুন।

সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করা

ব্লাস্ট প্রতিরোধে ফুল আসার আগে ১ বার এবং শীষ বের হওয়ার সময় ১ বার ছত্রাকনাশক স্প্রে করুন।

·      মাঠ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন ও রোগ-পোকা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।

 


মন্তব্য করুন