Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ১০:২৩ অপরাহ্ণ

শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রথম শর্ত: শিক্ষকের মানসম্মত জীবনের নিরাপত্তা

শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রথম শর্ত: শিক্ষকের মানসম্মত জীবনের নিরাপত্তা

মো: সজিব হোসাইন


শিক্ষা হলো জাতির মেরুদন্ড এ কথা আমরা সবাই জানি। সেই মেরুদন্ডকে দাঁড় করিয়ে রাখেন শিক্ষকরা। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজে সবচেয়ে অবহেলিত পেশাজীবী শ্রেণি আজও শিক্ষক। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য যত পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, যদি শিক্ষক আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে তা কখনোই বাস্তবে কার্যকর হবে না।একজন শিক্ষককে কেবল পাঠদানের জন্য স্কুলে উপ¯ি’ত হওয়া যথেষ্ট নয়। তার প্রয়োজন মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক সম্মান ও আর্থিক সুরক্ষা। একজন শিক্ষক যখন সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খান, তখন তার মনোযোগ পাঠ্যপুস্তকের চেয়ে চলে যায় বাজার দরের খাতায়। 

বর্তমান বাজারমূল্যে এ বেতন কতটা কার্যকর?

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, দেশে সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ১০% বা তার বেশি। এর মানে হলো, খাদ্যপণ্য, বাসা ভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পরিবহন সব কিছুর দাম দ্রুত বাড়ছে।

বাস্তব উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক,

একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজার খরচ গড়ে দাঁড়ায় ১৫-১৮ হাজার টাকা। ভাড়া গড়ে ৬-৮ হাজার টাকা। সন্তানের পড়াশোনা ও ওষুধপত্র খরচ মিলিয়ে আরও ৬-৭ হাজার টাকা সহজেই লাগে। বিদ্যালয়ে পাঠদানের বিভিন্ন উপকরন ,যাতায়াতসহ বিবিধ খরচ রয়েছে আরো ৭-৮ হাজার টাকা। অতএব একজন শিক্ষক মাসিক সর্বনিম্ন ৩৮-৪০ হাজার টাকা আয় ছাড়া পারিবারিক ব্যয় বহন প্রায় অসম্ভব। সেখানে যদি তার বেতন হয় ১৭-১৮ হাজার টাকা তাহলে, তিনি কীভাবে নিশ্চিন্ত মনে ক্লাসে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়বেন?

এ পরি¯ি’তিতে অনেকে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট টিউশন বা অন্য কোনো খন্ডকালীন পেশায় জড়িয়ে পড়েন। এতে তাদের সময় ও শক্তি বিভক্ত হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে প্রাথমিক শিক্ষার মানের ওপর।

উন্নত দেশগুলো থেকে শিক্ষণীয়:

ফিনল্যান্ড, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে তাকালে আমরা সহজেই বুঝতে পারি, কেন তাদের শিক্ষা ব্যব¯’া বিশ্বে আদর্শ হিসেবে বিবেচিত। সেখানে শিক্ষকতা পেশাকে সর্বো”চ মর্যাদা দেওয়া হয়। তারা শুধু আর্থিকভাবে সুরক্ষিতই নন, বরং সমাজে সম্মানিত। ফলে তারা পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন শিক্ষার্থীর প্রতি। আর এর ফলস্বরূপ, তাদের শিশুরা ছোটবেলা থেকেই হয়ে ওঠে সৃজনশীল, দক্ষ ও দায়িত্বশীল।

শিক্ষক অবহেলার মূল্য:

একটি রাষ্ট্র যদি শিক্ষকদের অবহেলা করে, তবে সেই অবহেলার মূল্য দিতে হয় গোটা জাতিকে। শিক্ষক সš‘ষ্ট না হলে, শিক্ষার্থীরা ভালো শিক্ষা পায় না। শিক্ষার্থীরা ভালো শিক্ষা না পেলে, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হয় না। দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হয় না। সেই শিক্ষিত জাতি গড়ার কারিগর হ”েছন শিক্ষক। তাই শিক্ষকের আর্থিক সুরক্ষা মানেই জাতির ভবিষ্যতের সুরক্ষা।প্রাথমিক শিক্ষাকে পিছিয়ে রাখার ফলে শিক্ষার যে হারে বাণিজ্যিকীকরণ হ”েছ তা যদি চলতে থাকে তার জন্য এ দেশ তথা জাতিকে মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

করণীয়:

১. ন্যায্য বেতন কাঠামো: শিক্ষককে এমন বেতন দিতে হবে, যাতে তিনি সম্মানজনকভাবে পরিবার চালাতে পারেন। বর্তমান ১১-১২ হাজার টাকার সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে কমপক্ষে বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

২. মূল্যস্ফীতি সমন্বয়: প্রতিবছর বাজারমূল্যের পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষকের বেতন সমন্বয় করতে হবে।

৩. সামাজিক সম্মাননা: কেবল অর্থ নয়, সামাজিক মর্যাদাও নিশ্চিত করা জরুরি। সহকারী শিক্ষকদের নূন্যতম ১১তম গ্রেড প্রদান করা ।


উপসংহার:

সবসময় শিক্ষক দেশ ও জাতিকে নিঃস্বার্থভাবে দিয়ে এসেছে , এখন সময় এসেছে দেশের,শিক্ষকের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষকের ন্যায্য সম্মানজনক জীবনমান  নিশ্চিত করার। শিক্ষক একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারিগর। অথচ সেই কারিগরের হাতে যদি যথেষ্ট উপকরণ না দেওয়া হয়, তবে কীভাবে তিনি একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলবেন? প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে প্রথম শর্ত হলো শিক্ষকের আর্থিক সুরক্ষা। তাই এখনই রাষ্ট্রকে বুঝতে হবে-


শিক্ষকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে, আর শিক্ষার মানোন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়




মন্তব্য করুন

ব্লগ