Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৯:২১ পূর্বাহ্ণ

স্থির তড়িৎ ও চল তড়িৎ কি একই?

বিভব বা ভোল্টেজ (ইংরেজি: Voltage) হচ্ছে বৈদ্যুতিক চাপ । পরিবাহীর পরমাণুগুলোর ঋণাত্মক কণিকা বা ইলেকট্রনসমূহকে স্থানচ্যুত করতে যে বল বা চাপের প্রয়োজন হয়, তাকে ভোল্টেজ বলে । অন্যভাবে বলা যায় যে, অসীম বা শূন্য বিভবের স্থান থেকে একটি একক ধনাত্মক চার্জকে তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে আনতে যে পরিমাণ কাজ করতে হয়, তা হলো ঐ স্থানের বিভব বা ভোল্টেজ। তাই ভোল্টেজ কাজের আরেকটি রূপ। ভোল্টেজের প্রতীক V এবং একক Volt (ভোল্ট)। তড়িৎ প্রবাহ হচ্ছে তড়িৎ আধানের প্রবাহ বা চলাচল। কোন পরিবাহকের যে কোন প্রস্থচ্ছেদ এর মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাকে তড়িৎ প্রবাহ বলে | তড়িৎ প্রবাহ দুই রকম - এসি এবং ডিসি প্রবাহ | তড়িৎ প্রবাহের এস আই একক হল অ্যাম্পিয়ার, সংকেত A। এক অ্যাম্পিয়ার তড়িৎ প্রবাহ মানে কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে এক কুলম্ব আধানের চলাচল। প্রচলিততড়িৎ প্রবাহ ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়। তড়িৎ প্রবাহ অ্যামিটার দারা পরিমাপ করা হয়।তড়িৎ দুই প্রকার হয়।যথা: ১)স্থির তড়িৎ ও ২)চল তড়িৎ।

main-qimg-61c630af6e75ea83f3c3f0941737b38e-lq

শুষ্ক চুলকে চিরুনি দিয়ে আচড়িয়ে চিরুনিটিকে কোনো ক্ষুদ্র হালকা শুকনো বস্তুর কাছে আনেন তবে দেখবেন চিরুনিটি তাকে আকর্ষণ করছে আসলে ঘর্ষণের ফলে অ্যাম্বার, রবার, কাচ, এবোনাইট, প্লাস্টিক, গন্ধক ইত্যাদিতে তড়িতের উদ্ভব হয়। এই ইলেকট্রাম থেকে পদার্থের এই ধর্মকে ইলেকট্রিসিটি বলে। বাংলায় এই ধর্মকে তড়িৎ বলে। মাটিতে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে ধাতব ও অধাতব দন্ডকে বিড়ালের লোম কিংবা রেশম বা পশমের কাপড় দিয়ে এক এক করে ঘর্ষণ করে দেখা যায় অ্যম্বার, রবার, কাচ, এবেনাইট, প্লাস্টিক, গন্ধক, গালা, চীনামাটি প্রভৃতি অধাতব দন্ড তড়িত গ্রস্থ হয় অর্থাৎ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হালকা বস্তুকে আকর্ষণ করে কিন্তু কোনো ধাতব বস্তু তড়িতগ্রস্থ হয় না। এর কারণ হলো- সকল প্রকার ধাতব বস্তু, প্রাণী দেহ, মাটি (পৃথিবী) প্রভৃতির মধ্য দিয়ে তড়িৎ সচল ও প্রবাহিত হতে পারে অর্থাৎ এরা তড়িতের পরিবাহী। ধাতব দন্ডকে অন্য এক পদার্থ দিয়ে ঘর্ষণ করলে যে তড়িতের উদ্ভব হয়, হাত দিয়ে ধরে মাটিতে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে থাকায় ধাতব দন্ড থেকে তড়িৎ হাতের মধ্য দিয়ে মাটিতে চলে যায়। ভূ-সংযোগে পরিবাহী নিস্তড়িৎ থাকে। অপর দিকে অধাতব পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারেনা। ফলে অধাতব পদার্থের যে স্থানে অন্য কোনো বস্তু দিয়ে ঘর্ষণ করা হয় সেস্থানেই তড়িৎ স্থির থাকে। সচল হয়ে হাতে পৌছাতে পারে না।

স্থির তড়িৎ বস্তুতে আবদ্ধ থাকে। ফলে এর শক্তি থাকলেও কোনো কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। পরিবাহী দিয়ে চলমান তড়িৎ দ্বারা কাজ সম্পাদিত হয়। চলমান তড়িৎকে আমরা চলতড়িৎ বলি। তাই চলতড়িৎ দিয়ে আমরা কাজ করে থাকি। আধুনিক সভ্যতার মূল চাবিকাঠি হলো চলতড়িৎ। বিজ্ঞানের এই চরম উৎকর্ষতার যুগে চলতড়িৎ ব্যবহার ছাড়া আমরা জীবনযাত্রা কল্পনা করতে পারি না। চলতড়িৎ আমাদের বাতি জ্বালায়, পাখা ঘোারায়, কল কারখানার চাকা ঘোরায়, তাছাড়া টেলিফোন, রেডিও, টেলিভিশন, মোবাইল, ফ্রিজ, হিটার, ওভেন, কম্পিউটার, এসি ইত্যাদি প্রায় সকল যন্ত্র চালানোর জন্য আমাদের চলতড়িতের প্রয়োজন। এমনকি প্লেন, গাড়ী, বাস, কৃত্রিম উপগ্রহ, রকেট ইত্যাদি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য চলতড়িৎ প্রয়োজন। অন্য ভাবে বলতে গেলে কোথায় চলতড়িতের ব্যবহার নাই তা খুঁজে বের করা এখন কষ্টকর। মানুষের জীবনে সুখ-স্বচ্ছন্দে ভরে দিতে বিরাট ভূমিকা পালন করে চলেছে চলতড়িৎ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ