সহকারী শিক্ষক
১৯ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
কোয়ান্টাম টানেলিং (Quantum Tunnelling)
যখন আপনি একটা বল দেয়ালের দিকে ছোড়েন, আপনি জানেন সেটি ফিরে আসবে। কিন্তু যদি হঠাৎ সেই বলটা দেয়াল ভেদ করে অপর পাশে গিয়ে দেখা দেয়, তাহলে নিশ্চয়ই আপনি হতবাক হবেন। বাস্তব জীবনে এটা অসম্ভব মনে হলেও, কোয়ান্টাম জগতে এমনটাই ঘটে — আর এই ঘটনাকেই বলা হয় ❝কোয়ান্টাম টানেলিং❞ (Quantum Tunnelling)।
চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানে কোনো কণা বা বস্তু কোনো বাধা পেরোতে পারে কেবল তখনই, যখন তার কাছে যথেষ্ট শক্তি থাকে। কিন্তু কোয়ান্টাম জগতে কণাগুলো আচরণ করে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে — তারা একইসাথে কণা এবং তরঙ্গ, দুই রূপেই থাকে। এই তরঙ্গ-প্রকৃতি (wave nature) কণার অবস্থানকে ছড়িয়ে দেয় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়। ফলে কখনো কখনো দেখা যায়, কোনো কণা এমন একটি বাধা বা “শক্তির দেয়াল” পেরিয়ে গেছে, যা চিরায়ত দৃষ্টিতে তার পক্ষে সম্ভব ছিল না— যেন সেটি “টানেল” তৈরি করে অন্য পাশে চলে গেছে।
এ ধরনের অদ্ভুত ঘটনাই এই তত্ত্বকে রহস্যময় ও বোঝা কঠিন বলে খ্যাতি দিয়েছে। কিন্তু ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত তিন পদার্থবিজ্ঞানী — জন ক্লার্ক (John Clarke), মিশেল এইচ. ডেভোরে (Michel H. Devoret) এবং জন এম. মার্টিনিস (John M. Martinis) — দেখিয়েছেন, এই রহস্যকে হাতে ধরা যায় এমন বাস্তব রূপ দেওয়া সম্ভব।
তাঁরা এমন এক সুপারকন্ডাক্টিং বৈদ্যুতিক সিস্টেম তৈরি করেছেন, যা কোয়ান্টাম কণার মতো আচরণ করে। এই সিস্টেমের বৈদ্যুতিক প্রবাহ এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় “টানেল” করে যেতে পারে — যেন সেটি দেয়ালের ভেতর দিয়েই সোজা পার হয়ে যাচ্ছে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁরা দেখেছেন এই সিস্টেমটি শক্তি শোষণ ও নিঃসরণ করে নির্দিষ্ট পরিমাণে, ঠিক যেমনটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল।
এই আবিষ্কার প্রমাণ করেছে যে, কোয়ান্টাম আচরণ শুধু পরমাণু বা ইলেকট্রনের মতো ক্ষুদ্র জগতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি বড় সিস্টেমেও প্রকাশ পেতে পারে, এমনকি এমন আকারে যা হাতে ধরে রাখা যায়। এর মানে, কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের তত্ত্বগুলো শুধু বিমূর্ত নয় — এগুলো আমাদের চোখের সামনেও বাস্তব হয়ে উঠতে পারে।।
১৩
২০ মন্তব্য