সহকারী শিক্ষক
২০ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
২০২৫ সালের এইচ এস সি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে গড় পাশের হার মাত্র ৫৮.৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ এ বছরের পাবলিক পরীক্ষায় ফেলের হার প্রায় ৪১.১৭ শতাংশ। ফেল করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই ইংরেজিতে ফেল করেছে। শুধুমাত্র দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে ৩৫,০০০ এর বেশি পরীক্ষার্থী ইংরেজি বিষয়ে ফেল করেছে। শুধু দিনাজপুর বোর্ডে নয়, অন্যান্য বোর্ডগুলোর কম বেশি একই চিত্র।
বাংলাদেশে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ১২ বছর ধরে ইংরেজি বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো সত্ত্বেও ফেলের এমন চিত্র দেখে অভিভাবকরা অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করেছেন। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে দুর্বলতা হঠাৎ করে সৃষ্ট হওয়া কোন সমস্যা নই, বরং এটি দীর্ঘদিনের দুর্বলতার ফল। ইংরেজি বিষয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা ভীত অনেক দূর্বল থাকতে দেখা যাচ্ছে । এর পিছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে, গ্রামাঞ্চলের পঞ্চম শ্রেণি পাস করে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বড় একটা সংখ্যা ইংরেজি বই ভালো মতো রিডিং পড়তে পারছে না!
কিন্তু ঐ শিক্ষার্থী ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উঠতেই তাদের হাতে দেয়া হচ্ছে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বড় একটা গ্রামারের সিলেবাস, যেগুলো শিখার পর্যাপ্ত সুযোগ হয়তো এর পূর্বে সে পায়নি ৷ তাছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ের বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে মাত্র একজন করে ইংরেজি শিক্ষক থাকেন ৷ যার কারণে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন ইংরেজি শিক্ষকের বিপরীতে পাঁচটি শ্রেণিতে ১০ টি ইংরজি ক্লাস হয় যা এক জন ইংরেজি শিক্ষকের পক্ষে চালানো অসম্ভাব! তাই বাধ্য হয়ে প্রধান শিক্ষককে অন্য বিষয়ের শিক্ষক দ্বারা ইংরেজি ক্লাস চালাতে হয়। অধিকাংশ বিদ্যালয় জরিপে দেখা যায়, ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণিতে ইংরেজি পড়ানো হয় সামাজিক বিজ্ঞান, কৃষি, শারীরিক শিক্ষা এমনকি ধর্মীয় শিক্ষক দিয়ে৷ এতে নিচের ক্লাশ থেকেই শিক্ষার্থীদের ভিত্তি দূর্বল হয়েই উপরের ক্লাশে উন্নীত হয়৷
এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে। এসব বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ইংরেজি শিক্ষক রয়েছে। উপজেলার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২ জন করে (ডাবল সেকশনের স্কুলগুলোতে ৪ জন) এবং বেশিরভাগ জিলা স্কুলগুলোতে ৮ জন করে ইংরেজি শিক্ষক রয়েছে। অথচ অনেক বিদ্যালয়ে জুনিয়র ইংরেজি শিক্ষকদের অবহেলা করে অন্য বিষয়ের সিনিয়র টিচারদের দিয়ে ইংরেজি ক্লাস চালানো হয় যা পুরোটাই সরকারি বিধি বহির্ভূত। সরকারি বিধি উপেক্ষা করে প্রাইভেট সিন্ডিকেটকে অক্ষুন্ন রাখতেই বেশিরভাগ স্কুলেই এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। অথচ জুনিয়র শিক্ষকদের অধিকাংশই বিভিন্ন বিসিএস ভাইভা পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নন ক্যাডার হিসেবে এসব বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন।
এছাড়া অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে ছেলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত না থাকা, রাত জেগে মোবাইল, ইন্টারনেট ও ফেইসবুক আসক্তি, অভিভাববকের কথা না শোনা, বাইরে কোচিং করতে যাবার নাম করে বেশিরভাগ সময় বাইরে কাটানো তাদের ফেল করার অন্যতম কারণ। মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা এসবে বেশি আশক্ত থাকার কারণে ছেলেদের পাশের হার দিন দিন কমছে। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে এর হাত থেকে সহজে নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব নয়।
২
২ মন্তব্য