সহকারী শিক্ষক
২১ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
মানব সভ্যতার বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে সবচেয়ে যুগান্তকারী তত্ত্বের নাম খুব সম্ভবত আপেক্ষিকতা তত্ত্ব। মানুষের অনন্য চিন্তাশক্তির উৎকর্ষতার প্রমাণ মেলে এই তত্ত্বে। এর মাধ্যমে একই সঙ্গে ব্যাখ্যা করা সম্ভব মহাকর্ষ, গতি, পদার্থ, শক্তি, স্থান-কাল, ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর, বিগ ব্যাং এবং এমনকি ডার্ক এনার্জিও। বিশ শতকের গোড়ার দিক থেকে শুরু করে প্রায় এক দশক সময় নিয়ে আইনস্টাইন এই তত্ত্বের অবতারণা করেন।
আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সূচনা হয়েছিল নিউটনের গতিবিষয়ক সূত্রের সঙ্গে ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎচৌম্বক তত্ত্বের সূত্রের মধ্যকার অসামঞ্জস্যতা থেকে। নিউটন প্রকৃতিকে বর্ণনা করেছিলেন এর উপাদান বস্তুগুলোর গতির মাধ্যমে। আর এই বস্তুগুলোর মধ্যে বিদ্যমান থাকে আপেক্ষিক গতি। আলোর গতিকেও তিনি ব্যতিক্রম ভাবতেন না। উৎস এবং পর্যবেক্ষকের ওপর ভিত্তি করে আলোর বেগের তারতম্য হতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। অন্যদিকে, ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎচৌম্বক তত্ত্ব অনুসারে আলোর বেগ ধ্রুব। উৎস বা পর্যবেক্ষকের ওপর এটি নির্ভরশীল নয়।বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে চলুন, আলোর বেগ কীভাবে প্রথমবারের মতো মাপা হয়েছিল, তা দেখে আসা যাক। ড্যানিশ জ্যোতির্বিদ ওলে রোমার ১৬৭৬ সালে বৃহস্পতির উপগ্রহ লো-এর গ্রহণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আলোর বেগ পরিমাপ করতে সক্ষম হন। একবার কক্ষপথ সম্পূর্ণ করতে লো-এর সময় লাগে পৃথিবীর হিসেবে ১.৭২৯ দিন। তাই পৃথিবী থেকে প্রায়ই এটির গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। অনেক বছর ধরে এই ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে রোমার একটি চমকপ্রদ বিষয় লক্ষ্য করেন। পৃথিবী ও বৃহস্পতির মধ্যকার দূরত্ব কম বেশি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী থেকে লো উপগ্রহের পরপর দুটি গ্রহণ পর্যবেক্ষণের মধ্যকার সময়কালেও তারতম্য হয়। যখন পৃথিবী ও বৃহস্পতির মধ্যকার দূরত্ব সবচেয়ে কম থাকে, তখন প্রায় ১১ মিনিট আগে পৃথিবী থেকে গ্রহণ দেখা যায়। আর উল্টোটা হলে গ্রহণ দেখা যায় ১১ মিনিট পর। প্রায় ছয় মাস ধরে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোমার এই তথ্যগুলো নিশ্চিত করেন। এখান থেকে তিনি সিদ্ধান্তে আসেন, আলোর বেগ অসীম নয়। কারণ তেমনটা হলে উপগ্রহের গ্রহণ আগে বা পরে দেখা যেত না। সব সময় একই সময়ে দেখা যেত। রোমারের পরিমাপে আলোর বেগের মান পাওয়া যায় প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ ৩১ হাজার মাইল, যা প্রকৃত মানের চেয়ে মাত্র ২৫ শতাংশ কম। ১৮৫০ সালের দিকে আলোর প্রকৃত বেগের মান জানা সম্ভব হয়।
যা-ই হোক, নিউটনের মহাবিশ্বে আলোর বেগ ধ্রুব ছিল না। বরং উৎস এবং পর্যবেক্ষকের মধ্যকার গতির ওপর ভিত্তি করে আলোর বেগের পরিবর্তন হতে পারত। তবে তৎকালীন বিজ্ঞানীরা অনেক চেষ্টা করেও আলোর বেগ কম-বেশি হওয়ার কোনো প্রমাণ খুঁজে পাননি।
৪
৪ মন্তব্য