সহকারী শিক্ষক
২২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ঘাটকোল বাংলাদেশের স্বল্পপরিচিত একটি পুষ্টিকর সবজি। এটি সাধারণত বসতবাড়ির আশেপাশের জঙ্গলে আপনা আপনি জন্মে থাকে। দেশের প্রায় সব এলাকায় ঘাটকোল উৎপন্ন হলেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল ও সিলেট জেলায় এটি বেশি দেখা যায়। দক্ষিণ ভারতে এর চাষাবাদ হয়। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দীপপুঞ্জ, উত্তর আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কায় ঘাটকোল জন্মে থাকে।
এর বৈজ্ঞানিক নাম Typhonium trilobatum. এটি Araceac পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। কোন কোন এলাকায় এটি খারকোন, ঘেটকচু বা ঘেটকুল নামেও পরিচিতি।
ঘাটকোল গাছের ডাঁটা ২৫-৩০ সে.মি. লম্ব হয় এবং এর পাতার রং গাঢ় সবুজ। পাতা দেখতে অনেকটা কচুর মতো। ঘাটকোল একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ (ক্যারোটিন), বি, সি, এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ বা আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। সুস্বাস্থ্যের জন্য এসব পুষ্টি উপাদানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঘাটকোল থেকে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিন পাওয়া যায়। শাকে থাকা ভিটামিন ‘এ’ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। শিশুদের অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধে ক্যারোটিন (ভিটামিন ‘এ’) সমৃদ্ধ ঘাটকোল এবং অন্যান্য গাঢ় সবুজ ও হলুদ রংয়ের শাকসবজি খুবই উপকারী। এ শাকে ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন) থাকে, যা স্নায়ুতন্ত্রকে সবল ও স্বাভাবিক রাখে এবং দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি সাধনে সাহায্য করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। আমাদের দাঁত, মাড়ি ও পেশি সুস্থ-সবল ও মজবুত রাখার জন্য ভিটামিন ‘সি’ প্রয়োজন। এ সবজিতে আরও রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা আমাদের দাঁত ও হাড়ের গঠনে এবং ক্ষয়পূরণে সহায়তা করে। তাই নিয়মিত ঘাটকোল শাক খেলে দাঁত ও হাড় ভালো থাকে। ঘাটকোল থেকে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। ক্যালসিয়ামের মতো ম্যাগনেসিয়ামও একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। ম্যাগনেসিয়াম আমাদের হৃৎপিন্ড ও ¯স্নায়ুতন্ত্র ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও হাড়ের সুস্থতার জন্যও এটি অপরিহার্য। তাছাড়া এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাগনেসিয়াম মানসিক চাপ, বিষণ্নতা ও উদ্বেগ কমায় এবং অনিদ্রা দূর করে। এতে দেহ ও মন ভালো থাকে। কাজেই সুস্বাস্থ্যের জন্য আমাদের খাদ্য তালিকায় ঘাটকোল এবং অন্যান্য ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার থাকা উচিত। এছাড়া ঘাটকোলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আয়রন থাকে। আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে। হিমোগ্লোবিন ধমনী থেকে দেহের সব জায়গায় অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। শরীরে আয়রনের অভাব হলে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায়। ফলে দেহে রক্তশূন্যতাসহ নানা রোগ দেখা দেয়। ঘাটকোল শাকের আয়রন শরীরে রক্তের পরিমাণ বাড়ায়। তাই এটি অপুষ্টিজনিত রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে এমনিতেই শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়। দেহে অক্সিজেন সরবরাহ সচল রাখতেও ঘাটকোল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এজন্য আমাদের খাদ্য তালিকায় ঘাটকোল থাকা আবশ্যক।
৫৩
৯১ মন্তব্য