শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল হলো শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠ্য বিষয়বস্তু পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন প্রক্রিয়া। পদ্ধতি হলো একটি কাজ করার সামগ্রিক পথ, যেমন - বক্তৃতা বা প্রদর্শন, আর কৌশল হলো সেই পদ্ধতিকে সফলভাবে প্রয়োগ করার নির্দিষ্ট উপায়, যেমন - অভিনয়, বিতর্ক বা প্রজেক্ট। এই পদ্ধতিগুলো শিক্ষার্থীদের শিখনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে, যার মধ্যে রয়েছে অংশগ্রহণমূলক ও আধুনিক কৌশল, যা শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে তৈরি করা হয়।
শিখন-শেখানো পদ্ধতির ধরণ
শিক্ষক-কেন্দ্রিক পদ্ধতি:
শিক্ষক প্রধান ভূমিকা পালন করেন। - বক্তৃতা-ভিত্তিক: শিক্ষক বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করেন।
- প্রদর্শন: শিক্ষক কোনো কিছু করে দেখান।
শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পদ্ধতি:
শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। সহযোগিতামূলক শিক্ষা: দলবদ্ধভাবে কাজ করে। অনুসন্ধান-ভিত্তিক শিক্ষা: শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে শেখে। খেলা-ভিত্তিক শিক্ষা: খেলার ছলে পাঠ শেখানো হয়। কেস স্টাডি: বাস্তব সমস্যা বা কেস বিশ্লেষণ করা হয়। আলোচনা ও বিতর্ক:
পাঠের বিষয়বস্তু নিয়ে শ্রেণিকক্ষে আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া। প্রজেক্ট তৈরি:
নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রজেক্ট তৈরি করতে দেওয়া। শিক্ষা ভ্রমণ:
বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য শিক্ষা সফরে নিয়ে যাওয়া। মডেল ও উপকরণ ব্যবহার:
পোস্টার, চার্ট, ম্যাপ, গ্লোব, মডেল এবং অন্যান্য শিক্ষণ উপকরণের মাধ্যমে পাঠকে আকর্ষণীয় করে তোলা। সৃজনশীল ও বিশ্লেষণাত্মক কাজ:
শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তা ও সৃজনশীলতা প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়া, যেমন - মাইন্ড-ম্যাপিং বা সৃজনশীল লেখা। প্রশ্ন ও উত্তর:
শিক্ষার্থীদের মুক্ত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে উৎসাহিত করা এবং উপযুক্ত উত্তর দেওয়া। প্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষা:
ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার করে শিক্ষাদান, যেমন - স্লাইড প্রজেক্টর, ওভারহেড প্রজেক্টর, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা।
অ্যাকশন-ভিত্তিক পদ্ধতি:
কোনো কিছু করার মাধ্যমে শেখা। যেমন - 'আমাকে ৫টা দাও' (Give Me 5) কৌশল, যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্রুত মনোযোগ আকর্ষণ করতে সাহায্য করে।
১৩
১৯ মন্তব্য